৩নং প্রশ্নের উত্তর
ক. যেসব প্রাণীরা তাদের দেহের তাপমাত্রা অভ্যন্তরীণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না ফলে দেহের তাপমাত্রা পরিবেশের তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয় তাদেরকে শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী বলে। যেমন- সাপ, ব্যাঙ ইত্যাদি
খ. সিলোম ও হিমোসিলের মধ্যে দুটি পার্থক্য নিচে দেয়া হলো-
| সিলোম | হিমোসিল |
| ১. প্রাণীর দেহপ্রাচীর ও পৌষ্টিকনালির মধ্যবর্তী সিলোমিক তরলপূর্ণ গহ্বর হচ্ছে সিলোম। | ১. দেহপ্রাচীর ও পৌষ্টিকনালির মধ্যবর্তী রক্তপূর্ণ গহ্বর হচ্ছে হিমোসিল। |
| ২. পুষ্টি পদার্থ পরিবহন করে না। | ২. পুষ্টি পদার্থ পরিবহন করে। |
গ. উদ্দীপকের প্রথম চার্টের শ্রেণিবিন্যাসটি হলো প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস। প্রতিসাম্যতার ভিত্তিতে প্রাণিজগৎকে নিম্নোক্ত পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়-
১.গোলীয় প্রতিসাম্য: যখন কোনো গোলাকার জীবদেহকে উহার কেন্দ্র বরাবর যে কোনো তলে সমান ও সদৃশ অংশে ভাগ করা যায় তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন: Volvox globator.
২.অরীয় প্রতিসাম্য: যখন কোনো প্রাণিদেহকে কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর যে কোনো তলে সমান অংশে বিভক্ত করা যায় তখন তাকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন: Cnidaria ও Ctenophora.
৩. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: যখন কোনো প্রাণিদেহকে উহার মৌখিক ও এর বিপরীত অক্ষ বরাবর দুটি তলে সমানভাবে বিভক্ত করা যায় তখন তাকে দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন: Ctenophora ও Anthozoa.
৪. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: যখন কোনো প্রাণিদেহকে কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর লম্বালম্বিভাবে কেবল একবার দুটি সমান অংশে ভাগ করা যায় তখন তাকে দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন: Arthropoda, Chordata.
৫. অপ্রতিসাম্য: যখন কোনো প্রাণিদেহকে উহার কেন্দ্রীয় অক্ষ বা অন্য কোনো তলে সমানভাবে বিভক্ত করা যায় না তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। যেমন: Pila globosa
ঘ. উদ্দীপকের দ্বিতীয় চার্টে Gnathostomata অধিশ্রেণির সাতটি শ্রেণির নামসহ উদাহরণ আছে। Gnathostomata অধিশ্রেণির ১-৪ নং শ্রেণির প্রতিটির দুইটি বৈশিষ্ট্য ও একটি উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো-
শ্রেণি-১: Chondrichthyes:
বৈশিষ্ট্য: ১. তরুণাস্থি নির্মিত অন্তঃকঙ্কালবিশিষ্ট প্রাণী।
২. আণুবীক্ষণিক প্ল্যাকয়েড আঁইশ দ্বারা দেহ আবৃত।
উদাহরণ: হাতুড়ি হাঙ্গর (Eusphyra blochii)
শ্রেণি-২: Actinopterygii:
বৈশিষ্ট্য: ১. কঠিন অস্থি নির্মিত অন্তঃকঙ্কালবিশিষ্ট প্রাণী।
২. সাইক্লয়েড বা টিনয়েড আঁইশ দ্বারা দেহ আবৃত; কখনো নগ্নত্বকী।
উদাহরণ: Tennualosa ilisha (ইলিশ মাছ)
শ্রেণি-৩: Sarcopterygii:
বৈশিষ্ট্য: ১. কঠিন অস্থি নির্মিত অন্তঃকঙ্কালবিশিষ্ট প্রাণী।
২. এদের ত্বক ডার্মাল আঁইশবিশিষ্ট যা এপিডার্মিস দ্বারা আবৃত।
উদাহরণ: Neoceratodus forsteri (অস্ট্রেলিয়ান লাংফিশ)
শ্রেণি-৪: Amphibia:
বৈশিষ্ট্য: ১. এ শ্রেণিভুক্ত প্রাণীরা লার্ভা দশায় ফুলকা ও পূর্ণাঙ্গ দশায় ফুসফুস দ্বারা শ্বসন সম্পন্ন করে।
২. দেহত্বক নগ্ন, সিক্ত ও গ্রন্থিময়, এক্টোথার্মিক।
উদাহরণ: Duttaphrynus melanostictus (কুনোব্যাঙ)