পূর্ণ প্রশ্ন
10 নম্বরপ্রশ্ন ৭ । নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর-

ক. অস্টিয়া কী?
খ. তারামাছ-কে কেন পঞ্চঅরীয় প্রাণী বলা হয়?
গ. 'X' এ উল্লিখিত পর্বের বৈশিষ্ট্য লেখ।
ঘ. উদ্দীপকে 'Y' এবং 'Z' এর মধ্যে কোনটি বেশি উন্নত? বিশ্লেষণ কর।
জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র · প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস
প্রশ্ন ৭ । নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর-

ক. অস্টিয়া কী?
খ. তারামাছ-কে কেন পঞ্চঅরীয় প্রাণী বলা হয়?
গ. 'X' এ উল্লিখিত পর্বের বৈশিষ্ট্য লেখ।
ঘ. উদ্দীপকে 'Y' এবং 'Z' এর মধ্যে কোনটি বেশি উন্নত? বিশ্লেষণ কর।
৭নং প্রশ্নের উত্তর
ক. পরিফেরা পর্বের প্রাণীদের দেহপ্রাচীর অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত। এসব ছিদ্রের নামই অস্টিয়া।
খ. তারা মাছকে পঞ্চঅরীয় প্রাণী বলার কারণ- যখন কোনো প্রাণীকে তার দেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর যেকোনো তলে সমান অংশে বিভক্ত করা যায় তখন তাকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। একাইনোডার্ম জাতীয় প্রাণী যেমন- তারা মাছের বিশেষ ধরনের পঞ্চঅরীয় প্রতিসাম্যতা দেখা যায়। কারণ পঞ্চঅরীয় তারা মাছের ক্ষেত্রে একটি কেন্দ্র থেকে সমদূরত্বে দেহের পাঁচটি অংশ বিচ্ছুরিত হয় অর্থাৎ দেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ থেকে এর পাঁচটি অংশ সমান দূরত্বে অবস্থান করে।
গ. উদ্দীপকে 'X' এ উল্লিখিত 'শিখা কোষযুক্ত' প্রাণীর পর্ব হলো প্লাটিহেলমিনথেস। নিচে এ পর্বের বৈশিষ্ট্য দেওয়া হলো-
১. দেহ নরম, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম ও পাতা বা ফিতার মতো পৃষ্ঠ অঙ্কীয়ভাবে চাপা।
২. দেহত্বক সিলিয়াযুক্ত এপিডার্মিস অথবা কিউটিকল-এ আবৃত।
৩. ত্রিস্তরী প্রাণী হলেও এরা অ্যাসিলোমেট।
৪. পোষকদেহে সংযুক্তির জন্য অনেকক্ষেত্রে বাহ্যিক চোষক বা হুক অথবা উভয়ই উপস্থিত।
৫. রক্ত সংবহন ও শ্বসনতন্ত্র অনুপস্থিত। রেচনতন্ত্র শাখা-প্রশাখাযুক্ত রেচননালি ও শিখা কোষ নিয়ে গঠিত।
৬. অধিকাংশ পরজীবী। কিছুসংখ্যক মুক্তজীবী।
৭. এই পর্বের প্রাণীরা উভলিঙ্গ।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত 'Y' ও 'Z' দ্বারা যথাক্রমে নেমাটোডা ও অ্যানিলিডা পর্বের প্রাণীদের নির্দেশ করা হয়েছে। নেমাটোডা পর্বের প্রাণীর দেহ নলাকার ও উভয় প্রান্ত সরু। অপরদিকে অ্যানিলিডা পর্বের প্রাণীদের দেহে প্রকত খণ্ডকায়ন বিদ্যমান।
বৈশিষ্ট্যের বিচারে অনুন্নত জীবগুলো শ্রেণিবিন্যাসের প্রথম দিকে এবং উন্নত জীবগুলো শেষের দিকে অবস্থান করে। এক্ষেত্রে প্রাণিজগতের শ্রেণিবিন্যাসে নেমাটোডার অবস্থান অ্যানিলিডার আগে। আবার নেমাটোডা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য হলো এদের দেহ নলাকার, দু'প্রান্ত ক্রমশ সরু, অখণ্ডকায়িত এবং অপ্রকৃত সিলোমবিশিষ্ট। এদের পৌষ্টিকনালিতে বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ওষ্ঠ পরিবেষ্টিত মুখছিদ্র রয়েছে এবং দেহের গঠন নলের ভেতরের নল এর মতো। এদের দেহে সংবহন ও শ্বসনতন্ত্র অনুপস্থিত। অপরদিকে অ্যানিলিডা পর্বের প্রাণীর বৈশিষ্ট্য হলো- এদের দেহ লম্বা, নলাকার, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম এবং এপিথেলিয়াম নিঃসৃত পাতলা কিউটিকল আবৃত। দেহে প্রকৃত সিলোম বিদ্যমান। আংটির মতো অনেকগুলো একই রকম খন্ডক নিয়ে দেহ গঠিত। অর্থাৎ দেহে প্রকৃত খন্ডকায়ন উপস্থিত। এদের চলন অঙ্গ কাইটিনময় সিটি বা প্যারাপোডিয়া। নেফ্রিডিয়া নামক প্যাঁচানো নালিকা প্রধান রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে। এদের রক্ত সংবহন বদ্ধ প্রকৃতির।
উপরের বর্ণনার আলোকে বলা যায়, Nematoda পর্বের প্রাণীদের তুলনায় Annelida পর্বের প্রাণীরা বেশি উন্নত।