৮নং প্রশ্নের উত্তর
ক. কোনো প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নামের গণ ও প্রজাতি অংশের নাম একই হতে পারে। যেমন- catla catla। এ অবস্থাকে টটোনিম বলে।
খ. চিংড়িকে মাছ বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে এরা মাছ নয়। কারণ মাছের দেহ আঁইশ দ্বারা আবৃত থাকে। কিন্তু চিংড়ির দেহ কিউটিকল দ্বারা আবৃত। মাছে বহিঃনিষেক ঘটে ও ডিম ফুটে বাচ্চা হয় কিন্তু চিংড়িতে অন্তঃনিষেক ঘটে ও পরিস্ফুটনে রূপান্তর দেখা যায়। মাছ ফুলকা দ্বারা শ্বাসকার্য চালায় কিন্তু চিংড়ি বুকলাং এর মাধ্যমে শ্বাসকার্য চালায়। এজন্য চিংড়ি মাছ নয় বরং সন্দ্বিপদী প্রাণী।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম আলোচিত, অর্থাৎ অপ্রকৃত দেহগহ্বর বিশিষ্ট পর্বটি হলো Nematoda। নিচে Nematoda পর্বের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-
১. দেহ নলাকার, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম ও দুদিক সুচালো।
২. দেহ নমনীয়; ইলাস্টিন নির্মিত অকোষীয় কিউটিকলে আবৃত।
৩. পৌষ্টিকনালি সোজা ও শাখাহীন এবং মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত প্রসারিত। এ কারণে এসব প্রাণীর দেহকে 'নলের ভেতর নল' ধরনের গঠনের মতো দেখায়।
৪. মুখছিদ্র সাধারণত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ওষ্ঠে পরিবৃত।
৫. শ্বসনতন্ত্র ও সংবহনতন্ত্র অনুপস্থিত।
৬. অধিকাংশ প্রাণী একলিঙ্গ, যৌন দ্বিরূপতা দেখা যায়।
৭. এরা স্থলচর বা জলচর, মুক্তজীবী বা পরজীবী প্রাণী।
ঘ. উদ্দীপকের শেষোক্ত প্রাণী দুটি অ্যাম্ফিবিয়া ও রেপটিলিয়া শ্রেণির অন্তর্গত। এ শ্রেণিদ্বয়ের প্রাণীগুলো টেট্রাপোডা অর্থাৎ চতুষ্পদী এবং শীতল রক্তবিশিষ্ট। তবে এদের মধ্যে শ্রেণিগত ভিন্নতা রয়েছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
অ্যাম্ফিবিয়া শ্রেণির প্রাণীরা উভচর। এ শ্রেণির প্রাণীরা লার্ভা অবস্থায় জলচর। এদের পরিস্ফুটন পানিতে ঘটে তবে পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় জলচর অথবা স্থলচর। অন্যদিকে রেপটিলিয়া শ্রেণির প্রাণীরা জীবনের সকল দশায় সাধারণত স্থলচর হয়ে থাকে। অ্যাম্ফিবিয়ানদের ত্বক মসৃণ, আর্দ্র ও গ্রন্থিময়। কিন্তু রেপটিলিয়ানদের ত্বক শুষ্ক ও এপিডার্মিস উদ্ভূত আঁইশ বা শক্ত প্লেট-এ আবৃত থাকে। অ্যাম্ফিবিয়ানদের অগ্রপদে ৪টি ও পশ্চাৎপদে ৫টি করে নখরবিহীন আঙ্গুল থাকে। কিন্তু সাপ ব্যতিত রেপটিলিয়ানদের প্রতিটি পায়ে ৫টি করে নখরযুক্ত আঙ্গুল থাকে। অ্যাম্ফিবিয়ানদের হৃৎপিণ্ড তিন প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট। অন্যদিকে কুমির ব্যতিত সকল রেপটিলিয়ানদের হৃৎপিণ্ড অসম্পূর্ণভাবে চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট। অ্যাম্ফিবিয়ানদের জননকালে বহিঃনিষেক ঘটে। কিন্তু রেপটিলিয়ানদের নিষেক অভ্যন্তরীণ।