ক. অ্যালিল (Allele)-এর সংজ্ঞা
উত্তর: সমসংস্থ (homologous) ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট বিন্দুতে (লোকাাসে) অবস্থিত বিপরীত বা একই বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী একজোড়া জিনের একটিকে অপরটির অ্যালিল (Allele) বলে।
খ. পাখিকে 'মহিমান্বিত সরীসৃপ' বলার কারণ
উত্তর: বিখ্যাত প্রাণীবিজ্ঞানী থমাস হেনরি হাক্সলি (T. H. Huxley) পাখিকে "মহিমান্বিত সরীসৃপ" (Glorified Reptiles) হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর প্রধান কারণসমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো:
• উৎপত্তিগত সম্পর্ক: বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পাখিরা সরীসৃপ জাতীয় পূর্বপুরুষ (বিশেষ করে ডাইনোসর শ্রেণির থেরোপড) থেকে সৃষ্টি হয়েছে।
• শারীরবৃত্তীয় মিল: পাখির পায়ে সরীসৃপের মতো এপিডার্মাল আঁশ (Scales) বিদ্যমান। এছাড়া তাদের কঙ্কালতন্ত্রের গঠন, এক-কন্দিলযুক্ত করোটিক (monocondylic skull) এবং শক্ত খোলসযুক্ত (ক্ল্যাডোইক) ডিম পাড়ার বৈশিষ্ট্য সরীসৃপের অনুরূপ।
• আদি পাখির বৈশিষ্ট্য: আদি পাখি 'আর্কিওপ্টেরিক্স' (Archaeopteryx)-এর দেহে সরীসৃপের মতো দাঁতযুক্ত চোয়াল, লম্বা লেজ ও নখরযুক্ত ডানা ছিল।
• মহিমান্বিত হওয়ার কারণ: পাখিরা সরীসৃপের মূল শারীরিক ভিত্তির ওপর পালক (Feathers) গঠন এবং উড্ডয়ন ক্ষমতা অর্জন করে নিজেদের শারীরবৃত্তীয়ভাবে অত্যন্ত উন্নত ও বৈচিত্র্যময় রূপ দিয়েছে।
সুতরাং, মূলত পালকযুক্ত ও উন্নত উড্ডয়ন ক্ষমতাসম্পন্ন সরীসৃপ হওয়ার কারণেই পাখিকে 'মহিমান্বিত সরীসৃপ' বলা হয়।
গ. উদ্দীপকের ক্রসটি ২য় বংশধর (F₂) পর্যন্ত নির্ণয়
উদ্দীপকের সংকরায়নটি মুরগির পালকের রঙের প্রকট এপিস্ট্যাসিস (Dominant Epistasis)-এর একটি উদাহরণ।
জিনভিত্তিক ব্যাখ্যা:
• C = পালখে রঙিন বৈশিষ্ট্য প্রকাশের জন্য দায়ী প্রকট জিন।
• c = বর্ণহীন বা সাদা পালকের জন্য দায়ী প্রচ্ছন্ন জিন।
• I = প্রকট এপিস্ট্যাটিক জিন (যা C জিনের রঙিন প্রকাশে বাধা দেয়)।
• i = প্রচ্ছন্ন অ্যালিল (যা C জিনের প্রকাশে বাধা দিতে পারে না)।
১ম বংশধর (F₁ জনু) নির্ণয়:
• পিতামাতার ফিনোটাইপ (P₁): সাদা লেগহর্ন (CCII) × সাদা ওয়ায়েনডট (ccii)
• পিতামাতার জিনোটাইপ (P₁): CCII × ccii
• উৎপন্ন গ্যামেট (Gametes): CI × ci
• F₁ জনুর জিনোটাইপ: CcIi
• F₁ জনুর ফিনোটাইপ: সবগুলো সাদা (কারণ I জিন বিদ্যমান থাকায় C জিন রঙ প্রকাশ করতে পারে না)
২য় বংশধর (F₂ জনু) নির্ণয় (F₁ × F₁ স্ব-সংকরায়ন):
• পিতামাতার ফিনোটাইপ (P₂): সাদা মুরগি (CcIi) × সাদা মুরগি (CcIi)
• উৎপন্ন গ্যামেট (Gametes): CI, Ci, cI, ci (উভয় ক্ষেত্রে)
|
গ্যামেট ♂\♀
|
CI
|
Ci
|
cI
|
ci
|
|
CI
|
CCII
(সাদা)
|
CCIi
(সাদা)
|
CcII
(সাদা)
|
CcIi
(সাদা)
|
|
Ci
|
CCIi
(সাদা)
|
CCii
(রঙিন)
|
CcIi
(সাদা)
|
Ccii
(রঙিন)
|
|
cI
|
CcII
(সাদা)
|
CcIi
(সাদা)
|
ccII
(সাদা)
|
ccIi
(সাদা)
|
|
ci
|
CcIi
(সাদা)
|
Ccii
(রঙিন)
|
ccIi
(সাদা)
|
ccii
(সাদা)
|
F₂ জনুর ফিনোটাইপিক ফলাফল:
• সাদা পালক যুক্ত মুরগি = ১৩ টি (C_I_ = ৯টি, ccI_ = ৩টি, ccii = ১টি)
• রঙিন পালক যুক্ত মুরগি = ৩ টি (C_ii = ৩টি)
• ফিনোটাইপিক অনুপাত: সাদা : রঙিন = ১৩ : ৩
ঘ. উদ্দীপকের সংকরায়নটি মেন্ডেলের সূত্র মেনে চলে কি? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ
উত্তর: উদ্দীপকের সংকরায়নটি সরাসরি মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের (স্বাধীনভাবে সঞ্চারণের সূত্র) ফিনোটাইপিক অনুপাত মেনে চলে না; বরং এটি মেন্ডেলের ২য় সূত্রের একটি অন্যতম ব্যতিক্রম (প্রকট এপিস্ট্যাসিস)।
যুক্তিভিত্তিক বিশ্লেষণ:
১. মেন্ডেলের ২য় সূত্রের মানদণ্ড:
গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের ২য় সূত্র (স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্র) অনুযায়ী দুটি ভিন্ন বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের দ্বিসংকর ক্রসে (Dihybrid Cross) F₂ জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাত সর্বদা ৯ : ৩ : ৩ : ১ হওয়া উচিত।
২. উদ্দীপকের ফলাফল:
উদ্দীপকের সংকরায়নে F₂ জনুতে চার ধরনের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তে মাত্র দুই ধরনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়েছে এবং ফিনোটাইপিক অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১৩ : ৩।
৩. ব্যতিক্রমের কারণ (প্রকট এপিস্ট্যাসিস):
একটি জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে যখন অন্য একটি অ-অ্যালিলিক জিন বাধা দেয়, তখন তাকে এপিস্ট্যাসিস বলে। এখানে C জিন রঙিন পালক প্রকাশের জন্য দায়ী হলেও অ-অ্যালিলিক প্রকট 'I' জিন বিদ্যমান থাকলে তা C জিনকে তার কার্যকারিতা প্রকাশ করতে দেয় না (I হলো Inhibitory/Epistatic gene)।
৪. জিনোটাইপিক বিন্যাস:
• C_I_ (৯টি): I জিন C-কে বাধা দেয় → সাদা
• ccI_ (৩টি): C নেই, তাই রঙ হয় না → সাদা
• ccii (১টি): C নেই, রঙ তৈরি হয় না → সাদা
• C_ii (৩টি): C বিদ্যমান এবং বাধা প্রদানকারী I জিন অনুপস্থিত (ii) → রঙিন
|
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত:
উদ্দীপকের সংকরায়নটি জিনগত সঞ্চারণের ক্ষেত্রে মেন্ডেলের নীতি অনুসরণ করলেও, প্রকট জিনের পারস্পরিক বাধা প্রদান (Epistasis)-এর কারণে F₂ জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাত ৯:৩:৩:১-এর পরিবর্তে ১৩:৩ হওয়ায় এটি মেন্ডেলের সূত্রের ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচিত হয়।
|