ক. ব্লাড গ্রুপ কী?
উত্তর: লোহিত রক্তকণিকার (RBC) প্লাজমা মেমব্রেনে উপস্থিত সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিজেন (যেমন- Anti-A, Anti-B) এবং রক্তরসে (Plasma) উপস্থিত অ্যান্টিবডির উপর ভিত্তি করে মানব রক্তকে যে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়, তাকে ব্লাড গ্রুপ (Blood Group) বলে। (যেমন: ABO ব্লাড গ্রুপ প্রথা অনুযায়ী A, B, AB, O)।
খ. লিঙ্গ সংযুক্ত বৈশিষ্ট্য বলতে কী বুঝ?
উত্তর: লিঙ্গ নির্ধারণকারী ক্রোমোজোম বা সেক্স ক্রোমোজোমে (প্রধানত X ক্রোমোজোমে) অবস্থিত জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বংশগত বৈশিষ্ট্যসমূহকে লিঙ্গ সংযুক্ত বৈশিষ্ট্য (Sex-linked Traits) বলে। এবং এই জিনগুলোর মাধ্যমে পিতামাতা থেকে সন্তানে এসব বৈশিষ্ট্যের বংশানুক্রমিক সঞ্চারণকে লিঙ্গ সংযুক্ত বংশগতি (Sex-linked Inheritance) বলা হয়।
ব্যাখ্যা: যেমন: মানুষের লাল-সবুজ বর্ণান্ধতা (Color Blindness), হিমোফিলিয়া (Hemophilia), ডুসেনি মাসকুলার ডিস্ট্রফি ইত্যাদি। এগুলো প্রচ্ছন্ন সেক্স-লিঙ্কড জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে একটিমাত্র X ক্রোমোজোমে ত্রুটিপূর্ণ জিন থাকলেই বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশিত হয় (হেমিসাইগাস অবস্থা), কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে দুটি X ক্রোমোজোমেই ক্রুটিপূর্ণ জিন না থাকলে তারা সাধারণত কেবল বাহক (Carrier) হয়।
গ. উদ্দীপকের ঘটনাটি জিনতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা করো
উত্তর: উদ্দীপকের ঘটনাটি হলো মোরগ-মুরগির পালকের রঙের ক্ষেত্রে প্রকট এপিস্ট্যাসিস (Dominant Epistasis)।
জিনতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা: মোরগ-মুরগির রঙিন পালকের জন্য দায়ী প্রকট জিন C এবং সাদা পালকের জন্য প্রচ্ছন্ন জিন c। অপরদিকে, রঙিন পালক গঠনকারী জিনের (C) কার্যকারিতায় বাধাদানকারী একটি প্রকট এপিস্ট্যাটিক জিন (ইনহিবিটর জিন) হলো I এবং এর প্রচ্ছন্ন অ্যালিল হলো i।
- যখন C জিন উপস্থিত থাকে এবং বাধাদানকারী I জিনও উপস্থিত থাকে (C_I_), তখন I জিনের বাঁধাদানের কারণে C তার রঙিন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করতে পারে না, ফলে পালকের বর্ণ সাদা হয় (সাদা লেগহর্ন: CCII)।
- আবার যখন C এবং I উভয় জিনই প্রচ্ছন্ন বা অনুপস্থিতে থাকে (ccii), তখনও পালক সাদা হয় (সাদা ওয়ায়েনডট: ccii)।
- কেবল তখনই পালক রঙিন হয়, যখন রঙিন প্রকাশের জিন C উপস্থিত থাকে কিন্তু বাধাদানকারী জিন I অনুপস্থিত থাকে (C_ii)।
F₁ জনু: পিতামাতা (P₁): ♂ সাদা লেগহর্ন (CCII) × ♀ সাদা ওয়ায়েনডট (ccii)
গ্যামেট: CI এবং ci
F₁ অপত্য: CcIi (সকলেরই পালকের রঙ সাদা হয়, কারণ প্রকট এপিস্ট্যাটিক জিন I উপস্থিত রয়েছে)।
F₂ জনুর পানেট স্কয়ার (Punnett Square):
F₁ অপত্যের মধ্যে স্ব-সংকরায়ন (CcIi × CcIi) ঘটালে উৎপন্ন গ্যামেটসমূহ: CI, Ci, cI, ci।
|
গ্যামেট (♂ \ ♀)
|
CI
|
Ci
|
cI
|
ci
|
|
CI
|
CCII (সাদা)
|
CCIi (সাদা)
|
CcII (সাদা)
|
CcIi (সাদা)
|
|
Ci
|
CCIi (সাদা)
|
CCii (রঙিন)
|
CcIi (সাদা)
|
Ccii (রঙিন)
|
|
cI
|
CcII (সাদা)
|
CcIi (সাদা)
|
ccII (সাদা)
|
ccIi (সাদা)
|
|
ci
|
CcIi (সাদা)
|
Ccii (রঙিন)
|
ccIi (সাদা)
|
ccii (সাদা)
|
F₂ জনুর ফলাফল: সাদা পালক (C_I_ + ccI_ + ccii) = ৯ + ৩ + ১ = ১৩ টি এবং রঙিন পালক (C_ii) = ৩ টি। সুতরাং, ফিনোটাইপিক অনুপাত দাঁড়ায় সাদা : রঙিন = ১৩ : ৩।
ঘ. উদ্দীপকের ঘটনাটি মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের ব্যতিক্রম— ব্যাখ্যা করো
উত্তর: উদ্দীপকের ঘটনাটি হলো প্রকট এপিস্ট্যাসিস, যা গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের ২য় সূত্রের (স্বাধীনভাবে সঞ্চারণের সূত্র) একটি স্পষ্ট ব্যতিক্রম।
১. মেন্ডেলের ২য় সূত্র ও স্বাভাবিক অনুপাত: মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রানুযায়ী, দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীতমুখী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের মধ্যে সংকরায়ন ঘটালে প্রথম অপত্য বংশে (F₁) কেবল প্রকট বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশিত হয় এবং গ্যামেট সৃষ্টির সময় বৈশিষ্ট্যগুলো পরস্পর থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনভাবে যেকোনো বিন্যাসে সঞ্চারিত হয়। এর ফলে F₂ জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত হয় ৯ : ৩ : ৩ : ১ (অর্থাৎ ৪টি ভিন্ন ফিনোটাইপিক প্রকাশ পাওয়ার কথা)।
২. উদ্দীপকের ব্যতিক্রম হওয়ার কারণ: উদ্দীপকে দুটি ভিন্ন জোড়া জিন (পালকের রঙ নির্ধারণকারী জিন C/c এবং বাধাদানকারী জিন I/i) বিবেচনা করা হয়েছে, যা একটি দ্বিসংকর ক্রস। মেন্ডেলের নিয়ম অনুযায়ী F₂ জনুতে ৯ : ৩ : ৩ : ১ অনুপাতে ৪ ধরনের ফিনোটাইপ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রকট এপিস্ট্যাটিক জিনের প্রভাবে:
- C_I_ (৯টি): C জিন থাকা সত্ত্বেও প্রকট এপিস্ট্যাটিক জিন I-এর বাঁধার কারণে সাদা হয়।
- ccI_ (৩টি): প্রচ্ছন্ন cc জিনোটাইপের কারণে এমনিতেই সাদা।
- ccii (১টি): প্রচ্ছন্ন জিনোটাইপের কারণে সাদা।
- C_ii (৩টি): শুধুমাত্র এখানে বাধাদানকারী I জিন অনুপস্থিত (ii) থাকায় C জিন তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে রঙিন পালক তৈরি করে।
৩. অনুপাত পরিবর্তন: ফলে মেন্ডেলীয় দ্বিসংকর ক্রসের ৪টি ফিনোটাইপিক শ্রেণীর প্রথম তিনটি (৯ + ৩ + ১ = ১৩) একত্রিত হয়ে 'সাদা' পালক প্রকাশ করে এবং বাকি ৩টি 'রঙিন' পালক প্রকাশ করে।
সিদ্ধান্ত: এপিস্ট্যাটিক প্রকট জিন I-এর প্রভাবে মেন্ডেলীয় দ্বিসংকর ক্রসের স্বাভাবিক ফিনোটাইপিক অনুপাত ৯ : ৩ : ৩ : ১ পরিবর্তিত হয়ে ১৩ : ৩ অনুপাতে রূপ নেয়। তাই উদ্দীপকের ঘটনাটি মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের একটি স্পষ্ট ব্যতিক্রম।