এইচএসসি জীববিজ্ঞান ১১শ অধ্যায়: মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র (Law of Independent Assortment) বা দ্বিশংকর সংকরায়ন, ৯:৩:৩:১ অনুপাত, চেকারবোর্ড এবং সূত্রের ব্যতিক্রমসমূহের সহজ ও তথ্যবহুল লেকচার নোট।
১. ভূমিকা ও মূল সংজ্ঞা (Introduction & Primary Concepts)
বংশগতিবিদ্যার (Genetics) জনক গ্রেগর জোহান মেন্ডেল (Gregor Johann Mendel) ১৮৬৬ সালে মটরশুঁটি গাছের (Pisum sativum) ওপর দীর্ঘদিন গবেষণা করে বংশগতির দুটি মৌলিক সূত্র প্রদান করেন।
এর মধ্যে মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রটি দ্বিশংকর সংকরায়ন (Dihybrid Cross) বা দুই জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এটিকে ‘স্বাধীনভাবে সঞ্চারণ সূত্র’ (Law of Independent Assortment) বলা হয়।
মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র (Law of Independent Assortment):
"দুই বা ততধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবের মধ্যে সংকরায়ন (Cross) ঘটালে প্রথম অপত্য বংশে (F1) কেবল প্রকট বৈশিষ্ট্যগুলোই প্রকাশিত হয়; কিন্তু গ্যামেট সৃষ্টিকালে প্রতিটি জোড়ার জিনগুলো পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায় এবং স্বাধীনভাবে যেকোনো জোড়ার বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্ভাব্য সকল উপায়ে বিন্যস্ত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামেট গঠন করে।"
২. গাণিতিক ও জিনতাত্ত্বিক পরিভাষা (Key Terms)
পরীক্ষার খাতায় ও এমসিকিউ (MCQ)-তে ভালো করার জন্য নিচের পরিভাষাগুলো জানা আবশ্যক:
দ্বিশংকর সংকরায়ন (Dihybrid Cross): দুই জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের মধ্যে যে সংকরায়ন ঘটানো হয়।
জিনোটাইপ (Genotype): জীবের কোনো বৈশিষ্ট্যের জিনগত প্রকাশ (যেমন: RRYY বা RrYy)।
ফিনোটাইপ (Phenotype): জিনের প্রভাবে জীবের বাহ্যিক লক্ষণ বা রূপ (যেমন: গোল-হলুদ বীজ)।
প্রকট জিন (Dominant Gene): হেটেরোজাইগাস অবস্থায় যে জিন নিজের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে (যেমন: R এবং Y)।
প্রচ্ছন্ন জিন (Recessive Gene): প্রকট জিনের উপস্থিতিতে যে জিন তার বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করতে পারে না (যেমন: r এবং y)।
৩. দ্বিতীয় সূত্রের জিনতাত্ত্বিক ব্যাখ্য ও পরীক্ষা (Genotypic Explanation)
মেন্ডেল তার গবেষণার জন্য দুই জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য বেছে নিয়েছিলেন:
বীজের আকার: গোল (R) [প্রকট] এবং কুঞ্চিত (r) [প্রচ্ছন্ন]।
বীজের বর্ণ: হলুদ (Y) [প্রকট] এবং সবুজ (y) [প্রচ্ছন্ন]।
৩.১ মাতাপিতার বৈশিষ্ট্য নির্বাচন (P1 Generation)
পিতৃ উদ্ভিদ (P1 Male): বিশুদ্ধ গোল ও হলুদ বীজযুক্ত মটরশুঁটি গাছ।
ফিনোটাইপ: গোল-হলুদ
জিনোটাইপ: RRYY
গ্যামেট: RY
মাতৃ উদ্ভিদ (P1 Female): বিশুদ্ধ কুঞ্চিত ও সবুজ বীজযুক্ত মটরশুঁটি গাছ।
ফিনোটাইপ: কুঞ্চিত-সবুজ
জিনোটাইপ: rryy
গ্যামেট: ry
৩.২ প্রথম অপত্য বংশ (F1 Generation)
নিষেকের পর F1 জেনোটাইপ: RrYy
F1 ফিনোটাইপ: ১০০% গোল ও হলুদ বীজযুক্ত উদ্ভিদ।
কারণ: R জিন r-এর ওপর এবং Y জিন yএর ওপর প্রকট।
৩.৩ F2 জনু এবং গ্যামেট গঠন (Gamete Formation)
মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী, F1 উদ্ভিদের (RrYy) গ্যামেট সৃষ্টির সময়ে জিনগুলো স্বাধীনভাবে সঞ্চারিত হয়ে ৪ ধরনের পুরুষ ও স্ত্রী গ্যামেট তৈরি করে:
৩.৪ চেকারবোর্ড (F2 Checkerboard)
৪টি পুরুষ এবং ৪টি স্ত্রী গ্যামেট পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে $F_2$ জনুতে মোট $4 \times 4 = 16$টি সম্ভাব্য সন্তান/উদ্ভিদ গঠন করে:
| পুরুষ \ স্ত্রী | RY | Ry | rY | ry |
| RY | RRYY (গোল-হলুদ) | RRYy (গোল-হলুদ) | RrYY (গোল-হলুদ) | RrYy (গোল-হলুদ) |
| Ry | RRYy (গোল-হলুদ) | RRyy (গোল-সবুজ) | RrYy (গোল-হলুদ) | Rryy (গোল-সবুজ) |
| rY | RrYY (গোল-হলুদ) | RrYy (গোল-হলুদ) | rrYY (কুঞ্চিত-হলুদ) | rrYy (কুঞ্চিত-হলুদ) |
| ry | RrYy (গোল-হলুদ) | Rryy (গোল-সবুজ) | $rrYy$ (কুঞ্চিত-হলুদ) | rryy (কুঞ্চিত-সবুজ) |
৪. ফলাফল বিশ্লেষণ (Ratio Analysis)
৪.১ ফিনোটাইপিক অনুপাত (Phenotypic Ratio)
F2 জনুর ১৬টি উদ্ভিদের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য গণনা করলে পাওয়া যায়:
গোল ও হলুদ বীজ: ৯টি RY
গোল ও সবুজ বীজ: ৩টি Ryy
কুঞ্চিত ও হলুদ বীজ: ৩টি rrY
কুঞ্চিত ও সবুজ বীজ: ১টি rryy
৪.২ জিনোটাইপিক অনুপাত (Genotypic Ratio)
১৬টি উদ্ভিদের জিনগত গঠন বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়:
RRYY = ১
RRYy = ২
RrYY = ২
RrYy = ৪
RRyy = ১
Rryy = ২
rrYY = ১
rrYy = ২
rryy = ১
৫. মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের ব্যতিক্রমসমূহ (Exceptions)
মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র সর্বজনীন নয়। কিছু জিনের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার (Gene Interaction) কারণে F2 জনুর ৯:৩:৩:১ অনুপাতটি পরিবর্তিত হয়ে যায়। ভর্তি পরীক্ষার জন্য নিচে উল্লেখিত অনুপাতগুলো মুখস্থ রাখা আবশ্যক:
| ব্যতিক্রমের নাম (Exception) | জিনগত ক্রিয়া | প্রমিত অনুপাতের পরিবর্তন | উদাহরণ |
| পূরক জিন (Complementary Gene) | দুইজোড়া অ-অ্যালিলিক জিন একত্রে একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। | ৯ : ৭ | মিষ্টি মটরশুঁটির সাদা ফুল |
| প্রকট এপিস্ট্যাসিস (Dominant Epistasis) | একটি প্রকট জিন অন্য একটি অ-অ্যালিলিক প্রকট জিনের প্রকাশে বাধা দেয়। | ১৩ : ৩ | মোরগ-মুরগির পালকের সাদা বর্ণ |
| দ্বৈত প্রচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিস (Duplicate Recessive Epistasis) | দুইজোড়া প্রচ্ছন্ন অ্যালিল একে অপরের প্রকাশে বাধা দেয়। | ৯ : ৭ | মানুষের জন্মগত মূক-বধিরতা |
৬. গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক প্রশ্ন (HSC & Admission Questions)
ক) জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন:
মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রটি লেখ।
দ্বিশংকর সংকরায়ন (Dihybrid Cross) বলতে কী বোঝায়?
স্বাধীনভাবে সঞ্চারণ সূত্র কাকে বলে?
খ) প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্ন:
F2 জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাত ৯:৩:৩:১ কীভাবে অর্জিত হয় চেকারবোর্ডের মাধ্যমে দেখাও।
"পূরক জিনের উপস্থিতি মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রকে পরিবর্তন করে"— উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।