শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম

DYNAMIC CAREER IT & EDUCATION CARE

শিক্ষা, পরীক্ষা প্রস্তুতি ও বিষয়ভিত্তিক পাঠের নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম
আবেদন ফর্ম
212পাঠক 31মিনিট Biology 2nd Paper

সর্বশেষ পোস্ট

20টি
বর্তমান

HSC জীববিজ্ঞান ২য় পত্র ২য় অধ্যায় হাইড্রা: ক ও খ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর

HSC 31মিনিট পড়া
HSC জীববিজ্ঞান ২য় পত্র ২য় অধ্যায় হাইড্রা: ক ও খ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর

এইচএসসি জীববিজ্ঞান ২য় পত্র : প্রাণীবিজ্ঞান

অধ্যায় : হাইড্রা (Hydra)

📌 বিষয় নির্দেশিকা:
বিষয়: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (প্রাণীবিজ্ঞান) | অধ্যায়: (হাইড্রা)
লক্ষ্য: এইচএসসি বোর্ড পরীক্ষা (ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর ময়মনসিংহ বোর্ড)
বিষয়বস্তু: জ্ঞানমূলক, অনুধাবনমূলক, প্রয়োগ উচ্চতর দক্ষতার ২০টি গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড প্রশ্ন এবং প্রমিত উত্তর

প্রশ্ন   │  [জ্ঞানমূলক / ঢাকা বোর্ড]
হাইড্রা কোন পর্বের (Phylum) প্রাণী? এর প্রধান দেহাংশ সিলেন্টারনের পরিচয় দাও

উত্তর:

শ্রেণীবিন্যাসগত অবস্থান: হাইড্রা নিডারিয়া (Nidaria) পর্বের প্রাণী

প্রধান দেহাংশ: হাইড্রার দেহনালী বা প্রধান দেহাংশ ডিপ্লোব্লাস্টিক (দ্বিস্তর বিশিষ্ট) দেহপ্রাচীর দিয়ে গঠিত, যা বাইরের এপিডার্মিস এবং ভিতরের গ্যাস্ট্রোডার্মিস স্তর দিয়ে তৈরি

সিলেন্টারন (Coelenteron): হাইড্রার দেহাভ্যন্তরে মেসোগ্লিয়া দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং গ্যাস্ট্রোডার্মিস দ্বারা আবৃত একটি ফাঁপা গহ্বর থাকে, যাকে সিলেন্টারন বা গ্যাস্ট্রোডার্মাল গহ্বর বলা হয় এটি পরিপাক সংবহন উভয় কাজ সম্পন্ন করে

 

প্রশ্ন   │  [ঢাকা বোর্ড ২০২১, রাজশাহী বোর্ড ২০২০]
নিডোসাইট (Nidocyte) কোষ কী এবং এটি হাইড্রার দেহের কোথায় বেশি পাওয়া যায়?

উত্তর:

সংজ্ঞা: হাইড্রার এপিডার্মিসে (বহিঃত্বকে) অবস্থিত বিশেষায়িত, গোল বা ডিম্বাকার কোষ যা আত্মরক্ষা, খাদ্য গ্রহণ, শিকার অবশ করা এবং চলনে অংশ নেয়, তাকে নিডোসাইট বলে

অবস্থান: নিডোসাইট কোষ হাইড্রার বহিঃত্বকের সর্বত্র ছড়িয়ে থাকলেও কর্ষিকায় (Tentacles) সবচেয়ে বেশি ঘনত্বে অবস্থান করে ব্যাটারির মতো গুচ্ছাকারে থাকে, যাকে 'নেমাতোসিস্ট ব্যাটারি' বলে পাদচাকতিতে এটি অনুপস্থিত থাকে

প্রশ্ন   │  [চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯]
নেমাতোসিস্ট (Nematocyst) কী? হাইড্রাতে প্রাপ্ত প্রকার নেমাতোসিস্টের বিবরণ দাও

উত্তর:

সংজ্ঞা: নিডোসাইট কোষের অভ্যন্তরে অবস্থিত কাইটিননির্মিত, হিপনোটক্সিন বিষে ভরা এবং পেঁচানো সূত্রকযুক্ত থলি সদৃশ অঙ্গাণুকে নেমাতোসিস্ট বলে

প্রকারভেদ: হাইড্রাতে ধরনের নেমাতোসিস্ট পাওয়া যায়:
. স্টিটোনোটিল বা পেনিত্রান্ত (Stenotele / Penetrant): সবচেয়ে বড় আকারের নেমাতোসিস্ট এর সূত্রকটি লম্বা, ফাঁপা এবং গোড়ায় ৩টি বড় বার্ব (Barb) সারি সারি বারবিউল (Barbiule) থাকে এতে প্রোটিন ফেনল নির্মিত বিষাক্ত 'হিপনোটক্সিন' থাকে যা শিকারকে অবশ করে
. ভলভেন্ট (Volvent / Desmoneme): আকারে ছোট ডিম্বাকার সূত্রকটি খাটো, নিরেট, কাঁটাবিহীন এবং বন্ধ এটি শিকারের উপাঙ্গকে স্প্রিংয়ের মতো পেঁচিয়ে ধরে রাখতে সাহায্য করে
. স্ট্রেপ্টোলিন গ্লুটিন্যান্ট (Streptoline glutinant / Holotrichous isorhiza): সূত্রকটি লম্বা, ফাঁপা, উন্মুক্ত এবং সর্বাংশে ছোট ছোট কাঁটাযুক্ত এটি আঠালো রস ক্ষরণ করে শিকারকে আটকে রাখতে সাহায্য করে
. স্টিরিওলিন গ্লুটিন্যান্ট (Stereoline glutinant / Atrichous isorhiza): ক্ষুদ্রতম নেমাতোসিস্ট এর সূত্রকটি কাঁটাবিহীন, নিরেট উন্মুক্ত এটি আঠালো রস নিঃসৃত করে চলনে সহায়তা করে

প্রশ্ন   │  [বরিশাল বোর্ড ২০২২, যশোর বোর্ড ২০২১]
মেসোগ্লিয়া (Mesoglea) কী? এর গঠন কাজ ব্যাখ্যা করো

উত্তর:

সংজ্ঞা গঠন: হাইড্রার বহিঃত্বক (এপিডার্মিস) এবং অন্তঃত্বক (গ্যাস্ট্রোডার্মিস)-এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত আঠালো, স্বচ্ছ, জেলির মতো অকোষীয় স্তরকে মেসোগ্লিয়া বলে এটি প্রায় . মাইক্রোমিটার পুরু

কাজ:
এটি বহিঃত্বক অন্তঃত্বকের কোষগুলোকে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত রাখতে নমনীয় কঙ্কাল (Elastic skeleton) হিসেবে কাজ করে
স্নায়ুকোষের জালিকা ধারণ করে উদ্দীপনা পরিবহনে সাহায্য করে
হাইড্রার দেহের সংকোচন-প্রসারণের পর পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে সহায়তা করে

প্রশ্ন   │  [সিলেট বোর্ড ২০২৩, কুমিল্লা বোর্ড ২০২২]
ডিপ্লোব্লাস্টিক বা দ্বিস্তরীয় প্রাণী বলতে কী বোঝায়? হাইড্রাকে কেন দ্বিস্তরীয় প্রাণী বলা হয়?

উত্তর:

দ্বিস্তরীয় প্রাণীর সংজ্ঞা: ভ্রূণীয় পরিবর্ধনের সময় যেসকল প্রাণীর দেহে বাইরের এক্টোডার্ম (Ectoderm) এবং ভেতরের এন্ডোডার্ম (Endoderm) নামক দুটি মাত্র প্রাথমিক কোষীয় স্তর থাকে, তাদের ডিপ্লোব্লাস্টিক বা দ্বিস্তরীয় প্রাণী বলে

হাইড্রাকে দ্বিস্তরীয় বলার কারণ: হাইড্রার দেহপ্রাচীর কেবল দুটি প্রধান কোষীয় স্তর নিয়ে গঠিত বাইরের স্তরকে বহিঃত্বক বা এপিডার্মিস (যা ভ্রূণীয় এক্টোডার্ম থেকে সৃষ্ট) এবং ভেতরের স্তরকে অন্তঃত্বক বা গ্যাস্ট্রোডার্মিস (যা ভ্রূণীয় এন্ডোডার্ম থেকে সৃষ্ট) বলা হয় দুটি কোষীয় স্তরের মাঝখানে কোনো মেসোডার্ম না থেকে অকোষীয় মেসোগ্লিয়া থাকে তাই হাইড্রাকে দ্বিস্তরীয় প্রাণী বলা হয়

প্রশ্ন   │  [ঢাকা বোর্ড ২০২২, সিলেট বোর্ড ২০২১]
সিলেন্টারন (Coelenteron) কী এবং একে গ্যাস্ট্রোভাস্কুলার গহ্বর বলা হয় কেন?

উত্তর:

সংজ্ঞা: হাইড্রার দেহাভ্যন্তরে মেসোগ্লিয়া সংলগ্ন গ্যাস্ট্রোডার্মিস দ্বারা আবৃত একক কেন্দ্রীয় ফাঁপা গহ্বরকে সিলেন্টারন বলে

গ্যাস্ট্রোভাস্কুলার গহ্বর বলার কারণ: উচ্চশ্রেণীর প্রাণীদের খাদ্য পরিপাকের জন্য পরিপাকতন্ত্র (Gastric system) এবং পুষ্টি বর্জ্য পরিবহনের জন্য সংবহনতন্ত্র (Vascular system) পৃথক থাকে কিন্তু হাইড্রার ক্ষেত্রে একই সিলেন্টারন গহ্বর খাদ্যের বহিঃকোষীয় পরিপাক (Gastric function) সম্পন্ন করে এবং পরিপাককৃত সারবস্তু গ্যাসীয় পদার্থ দেহের বিভিন্ন কোষে বণ্টন বা সংবহন (Vascular function) করে পরিপাক সংবহন উভয় কাজ একক গহ্বরে সম্পন্ন হওয়ার কারণে সিলেন্টারনকে 'গ্যাস্ট্রোভাস্কুলার গহ্বর' (Gastrovascular cavity) বলা হয়

প্রশ্ন   │  [রাজশাহী বোর্ড ২০২৩, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২]
হাইড্রার এপিডার্মিসের (বহিঃত্বকের) কোষগুলোর নাম কাজ সংক্ষেপে লেখো

উত্তর:

এপিডার্মিসের ৭টি কোষের ভূমিকা:
. পেশি-আবরণী কোষ (Musculo-epithelial cells): দেহকে আবৃত রাখে এবং দেহের সংকোচন-প্রসারণে সাহায্য করে
. ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ (Interstitial cells): টোটিপোটেন্ট কোষ, যা প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য যে কোনো কোষে রূপান্তরিত হতে এবং পুনরুৎপত্তিতে ভূমিকা রাখে
. সংবেদী কোষ (Sensory cells): পরিবেশ থেকে আলো, তাপ, স্পর্শ ইত্যাদি উদ্দীপনা গ্রহণ করে
. স্নায়ু কোষ (Nerve cells): সংবেদী কোষের গৃহীত উদ্দীপনা দেহে পরিবহন করে
. গ্রন্থি কোষ (Gland cells): আঠালো রস নিঃসরণ করে ভিত্তির সাথে আটকে থাকতে খাদ্য গিলতে সাহায্য করে
. জনন কোষ (Germ cells): পুরুষ অঙ্গ থেকে শুক্রাণু এবং স্ত্রী অঙ্গ থেকে ডিম্বাণু তৈরি করে
. নিডোসাইট (Nidocyte): আত্মরক্ষা, খাদ্য গ্রহণ এবং চলনে সহায়তা করে

প্রশ্ন   │  [যশোর বোর্ড ২০২৩, দিনাজপুর বোর্ড ২০২১]
ইন্টারস্টিশিয়াল কোষকে (Interstitial cell) কেন হাইড্রার 'টোটিপোটেন্ট কোষ' বলা হয়?

উত্তর:

সংজ্ঞা বৈশিষ্ট্য: হাইড্রার বহিঃত্বক অন্তঃত্বকের মেসোগ্লিয়া সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত ছোট, গোল বা ত্রিভুজাকার, স্পষ্ট নিউক্লিয়াস রাইবোসোম সমৃদ্ধ অনির্দিষ্ট কোষকে ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ বলে

টোটিপোটেন্ট বলার কারণ: 'টোটিপোটেন্সি' (Totipotency) হলো এমন এক জৈবিক ক্ষমতা যার মাধ্যমে একটি কোষ বিভাজিত রূপান্তরিত হয়ে জীবদেহের যেকোনো প্রকার কোষে পরিণত হতে পারে হাইড্রার ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ প্রয়োজন অনুযায়ী পেশি-আবরণী, নিডোসাইট, সংবেদী বা জনন কোষে রূপান্তরিত হতে পারে হাইড্রার অঙ্গহানি হলে বা ক্ষত সৃষ্টি হলে এই কোষ থেকেই নতুন অঙ্গ পুনর্গঠিত (Regeneration) হয় যেকোনো কোষে পরিণত হওয়ার এই বহুমুখী ক্ষমতার জন্যই ইন্টারস্টিশিয়াল কোষকে 'টোটিপোটেন্ট কোষ' বলা হয়

প্রশ্ন   │  [চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২, ঢাকা বোর্ড ২০১৯]
হাইড্রার খাদ্যাভ্যাস এবং শিকার গ্রাস করার কৌশল আলোচনা করো

উত্তর:

খাদ্যাভ্যাস: হাইড্রা একটি মাংসাশী (Carnivorous) প্রাণী এরা পানিতে বসবাসকারী ক্ষুদ্র সন্ধিপদী প্রাণী (যেমন- ডাফনিয়া, সাইক্লপস), পতঙ্গের লার্ভা, কৃমি ছোট মাছের পোনা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে

শিকার গ্রাস পদ্ধতি:
. শিকারের উপস্থিতি সংবেদী লোমে উদ্দীপনা সৃষ্টি করলে কর্ষিকা প্রসারিত হয়
. স্টিটোনোটিল নেমাতোসিস্ট বিষাক্ত হিপনোটক্সিন ইনজেক্ট করে শিকারকে অবশ নিস্তেজ করে দেয়
. ভলভেন্ট নেমাতোসিস্ট শিকারের রোম উপাঙ্গ স্প্রিংয়ের মতো পেঁচিয়ে ধরে এবং গ্লুটিন্যান্ট আঠালো রস নিঃসৃত করে আটকে ফেলে
. এরপর কর্ষিকাগুলো গুটিয়ে শিকারকে মুখের দিকে নিয়ে আসে মুখছিদ্র উন্মুক্ত হয়ে খাদ্য সিলেন্টারনে প্রবেশ করে

প্রশ্ন ১০  │  [কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩, বরিশাল বোর্ড ২০২১]
হাইড্রার বহিঃকোষীয় পরিপাক অন্তঃকোষীয় পরিপাকের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করো

উত্তর:

পরিপাক প্রক্রিয়া: হাইড্রাতে দু'ধাপে পরিপাক সম্পন্ন হয়বহিঃকোষীয় (Extracellular) অন্তঃকোষীয় (Intracellular)

পার্থক্য তালিকা: (নিম্নে টেবিল আকারে দেখানো হলো)

বিষয়

বহিঃকোষীয় পরিপাক (Extracellular)

অন্তঃকোষীয় পরিপাক (Intracellular)

সংঘটন স্থান

সিলেন্টারন (Coelenteron) গহ্বরে

গ্যাস্ট্রোডার্মিসের পুষ্টি কোষের ভেতরে

প্রক্রিয়া

গ্রন্থিকোশ থেকে নিঃসৃত এনজাইমের মাধ্যমে রাসায়নিক বিক্রিয়া

ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে খাদ্য কণা গ্রহণ পরিপাক

খাদ্যের অবস্থা

গোটা শিকার ভেঙে পেপটোনে রূপান্তরিত হয়

আংশিক পরিপাককৃত খাদ্য সম্পূর্ণ পরিপাক হয়

খাদ্যগহ্বর

কোনো খাদ্যগহ্বর (Food vacuole) তৈরি হয় না

কোষের ভেতরে খাদ্যগহ্বর তৈরি হয়

প্রশ্ন ১১  │  [ঢাকা বোর্ড ২০২৩, সিলেট বোর্ড ২০২২]
হাইড্রার লুপিং (Looping) বা হামাগুড়ি চলন প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করো

উত্তর:

লুপিং চলনের পরিচয়: সাধারণ দূরত্ব অতিক্রমের জন্য হাইড্রা যে হামাগুড়ি চলন পদ্ধতি ব্যবহার করে তাকে লুপিং বলে এটি পোকার (Measuring worm) চলাচলের মতো

ধাপসমূহ:
. প্রথমে হাইড্রা গতির অভিমুখে দেহকে প্রসারিত বাঁকা করে কর্ষিকার মাধ্যমে ভিত্তিকে স্পর্শ করে
. কর্ষিকার গ্লুটিন্যান্ট নেমাতোসিস্ট আঠালো রস ক্ষরণ করে ভিত্তিকে শক্ত করে ধরে
. এরপর পাদচাকতিকে মুক্ত করে এনে কর্ষিকার কাছাকাছি স্থাপন করে, ফলে দেহে একটি লুপ (Loop) বা ফাঁশ তৈরি হয়
. পরবর্তীতে কর্ষিকা মুক্ত করে দেহকে সোজা করে দাঁড় করায়
এভাবে একের পর এক লুপ তৈরি করে হাইড্রা ধীরে ধীরে সামনের দিকে অগ্রসর হয়

 

প্রশ্ন ১২  │  [রাজশাহী বোর্ড ২০২৩, যশোর বোর্ড ২০২২]
হাইড্রার সোমারসল্টিং (Somersaulting) বা উপুড় হয়ে ডিগবাজি চলন বর্ণনা করো এটি কেন দ্রুততম চলন পদ্ধতি?

উত্তর:

সোমারসল্টিং চলন: এটি হাইড্রার সবচেয়ে সাধারণ দ্রুতগতির চলন পদ্ধতি, যা উপুড় হয়ে ডিগবাজি দেওয়ার মতো ঘটে

ধাপসমূহ:
. হাইড্রা দেহকে বাঁকিয়ে কর্ষিকা দিয়ে ভিত্তিকে আঁকড়ে ধরে
. পাদচাকতি মুক্ত হয়ে মাথার ওপর দিয়ে ঘুরে গিয়ে গতির অভিমুখে কর্ষিকার সামনে স্থাপিত হয় (হাইড্রা সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে দাঁড়ায়)
. এবার পাদচাকতির ওপর ভর দিয়ে কর্ষিকা মুক্ত করে দেহকে সোজা করে তুলে ধরে

দ্রুততম চলনের কারণ: প্রতিটি সোমারসল্টিং চক্রে হাইড্রা দুটি লুপ তৈরি করে এবং উল্টে গিয়ে নিজের দৈর্ঘ্যের দ্বিগুণ দূরত্ব একবারেই অতিক্রম করে তাই এটি লুপিংয়ের চেয়ে অনেক দ্রুতগতির চলন

 

প্রশ্ন ১৩  │  [চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩]
হাইড্রার পুনরুৎপত্তি (Regeneration) বলতে কী বোঝায়? আব্রাহাম ট্রেম্বলে (Trembley)- পরীক্ষাটি উল্লেখ করো

উত্তর:

পুনরুৎপত্তির সংজ্ঞা: হাইড্রার দেহের কোনো অংশ কেটে বিচ্ছিন্ন বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইন্টারস্টিশিয়াল কোষের দ্রুত বিভাজন রূপান্তরের মাধ্যমে পুনরায় হারিয়ে যাওয়া অঙ্গটি গঠন করে পূর্ণাঙ্গ হাইড্রায় পরিণত হওয়াকে পুনরুৎপত্তি (Regeneration) বলে

ট্রেম্বলের পরীক্ষা (১৭৪৪): বিজ্ঞানী আব্রাহাম ট্রেম্বলে (Abraham Trembley) ১৭৪৪ সালে প্রথম হাইড্রার বিস্ময়কর পুনরুৎপত্তি ক্ষমতা আবিষ্কার করেন তিনি একটি হাইড্রাকে লম্বালম্বি বা আড়াআড়িভাবে কয়েকটি টুকরো করেন তিনি লক্ষ্য করেন যে, ন্যূনতম কিছু ইন্টারস্টিশিয়াল কোষযুক্ত প্রতিটি টুকরো থেকেই কয়েক দিনের মধ্যে একটি করে সম্পূর্ণ নতুন হাইড্রা পুনর্গঠিত হয়েছে এজন্য হাইড্রাকে 'অমর প্রাণী' বলা হয়

 

প্রশ্ন ১৪  │  [ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩, ঢাকা বোর্ড ২০২০]
মুকুলোদ্গম (Budding) কী? এটি কখন এবং কীভাবে ঘটে?

উত্তর:

সংজ্ঞা: পর্যাপ্ত অনুকূল পরিবেশে মাতৃ-হাইড্রার দেহ থেকে উপবৃদ্ধি বা মুকুল (Bud) সৃষ্টির মাধ্যমে যে অংগজ জনন সম্পন্ন হয় তাকে মুকুলোদ্গম বলে এটি হাইড্রার প্রধান স্বাভাবিক জনন পদ্ধতি

সময় প্রক্রিয়া:
সময়: পর্যাপ্ত খাদ্য অনুকূল তাপমাত্রা থাকলে (বিশেষ করে গ্রীষ্ম শরৎকালে) মুকুলোদ্গম ঘটে
প্রক্রিয়া: মাতৃদেহের নিম্নংশের ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ দ্রুত বিভাজিত হয়ে স্ফীত মুকুল তৈরি করে মুকুলের ভেতরে সিলেন্টারন প্রসারিত হয় পরবর্তীতে মুকুলের দূরবর্তী প্রান্তে হাইপোস্টোম, মুখছিদ্র কর্ষিকা সৃষ্টি হয় শেষে মাতৃহাইড্রা মুকুলের সংযোগস্থলে খাঁজ তৈরি হয়ে এটি বিচ্ছিন্ন হয় এবং স্বাধীন জীবন শুরু করে

 

প্রশ্ন ১৫  │  [কুমিল্লা বোর্ড ২০২১, বরিশাল বোর্ড ২০২৩]
হাইড্রার যৌন জনন (Sexual reproduction) প্রক্রিয়াটি সংক্ষেপে বর্ণনা করো

উত্তর:

পটভূমি: প্রতিকূল পরিবেশে (শরৎ শীতকালের শুরুতে খাদ্য সংকট হলে) হাইড্রায় অস্থায়ী জননাঙ্গ সৃষ্টির মাধ্যমে যৌন জনন ঘটে

ধাপসমূহ:
. জননাঙ্গ সৃষ্টি: দেহের উপরের অর্ধাংশে এক বা একাধিক মোচাকৃতির 'শুক্রাশয়' (Testis) এবং নিচের অর্ধাংশে গোলকাকার 'ডিম্বাশয়' (Ovary) গঠিত হয়
. নিষেক (Fertilization): শুক্রাশয় থেকে নিসৃত সচল শুক্রাণু সাঁতার কেটে ডিম্বাশয়ের মুক্ত ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে 'জাইগোট' গঠন করে
. পরিস্ফুটন হাইড্রুলা: জাইগোটের চারপাশে প্রতিরক্ষামূলক কাইটিনযুক্ত 'সিস্ট' (Cyst) গঠিত হয় অনুকূল পরিবেশে সিস্ট ফেটে শিশু হাইড্রা বা 'হাইড্রুলা' (Hydrula) নির্গত হয়ে স্বাধীনভাবে বাঁচতে শুরু করে

 

প্রশ্ন ১৬  │  [রাজশাহী বোর্ড ২০২১, সিলেট বোর্ড ২০২০]
হাইড্রার কর্ষিকা (Tentacle) এবং হাইপোস্টোম (Hypostome)-এর গঠন কাজ লেখো

উত্তর:

হাইপোস্টোম (Hypostome):
গঠন: হাইড্রার মুক্ত দূরবর্তী প্রান্তে অবস্থিত মোচাকৃতির, সংকোচন-প্রসারণশীল অংশ এর চূড়ায় বৃত্তাকার 'মুখছিদ্র' অবস্থিত
কাজ: খাদ্য গ্রহণ এবং অপাচ্য বর্জ্য নিষ্কাশন মুখছিদ্রের মাধ্যমে ঘটায়

কর্ষিকা (Tentacles):
গঠন: হাইপোস্টোমের গোড়া ঘিরে থেকে ১০টি সরু, ফাঁপা, লম্বা সুতার মতো প্রবর্ধক থাকে কর্ষিকার বহিঃত্বকে প্রচুর নিডোসাইট কোষ গুচ্ছাকারে থাকে
কাজ: শিকার ধরা, আত্মরক্ষা এবং চলনে প্রধান অঙ্গ হিসেবে কাজ করে

 

প্রশ্ন ১৭  │  [ঢাকা বোর্ড ২০২২, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩]
হাইড্রা কীভাবে মিথোজীবিতা (Symbiosis) প্রদর্শন করে? Hydra viridissima Zoochlorella- সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো

উত্তর:

মিথোজীবিতা: দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীব যখন একত্রে বসবাস করে এবং পরস্পরের দ্বারা উপকৃত হয়, তখন সেই সম্পর্ককে মিথোজীবিতা (Symbiosis) বলে

সবুজ হাইড্রা এককোষী শৈবালের সম্পর্ক: সবুজ হাইড্রা (*Hydra viridissima*) এবং এর গ্যাস্ট্রোডার্মিসের কোষে বসবাসকারী এককোষী সবুজ শৈবাল (*Zoochlorella*)-এর মধ্যে সুদৃঢ় মিথোজীবী সম্পর্ক বিদ্যমান:
শৈবালের উপকার: () হাইড্রার গ্যাস্ট্রোডার্মিস কোষে নিরাপদে আশ্রয় পায় () হাইড্রার শসনে সৃষ্ট CO₂ ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণ করে () হাইড্রার রেচন বর্জ্য (নাইট্রোজেনাস উপাদান) গ্রহণ করে
হাইড্রার উপকার: () শৈবালের সালোকসংশ্লেষণে উৎপাদিত O₂ হাইড্রা শসনে ব্যবহার করে () শৈবাল কর্তৃক প্রস্তুতকৃত শর্করা খাদ্য হিসেবে হাইড্রা গ্রহণ করে () শৈবাল হাইড্রার বর্জ্য গ্রহণ করে দেহ পরিষ্কার রাখে

 

প্রশ্ন ১৮  │  [যশোর বোর্ড ২০২০, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২]
হাইড্রার গ্যাসীয় বিনিময় (শ্বসন) রেচন প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়?

উত্তর:

বিশেষ অঙ্গের অনুপস্থিতি: হাইড্রার দেহে আলাদা কোনো শ্বসনতন্ত্র (Respiratory system) বা রেচনতন্ত্র (Excretory system) নেই

প্রক্রিয়া: হাইড্রার দেহপ্রাচীর মাত্র দুটি কোষীয় স্তর দিয়ে গঠিত এবং এর প্রতিটি কোষ সরাসরি বাহিরের পানি অথবা সিলেন্টারনের পানির সংস্পর্শে থাকে
শ্বসন: ত্বকের মাধ্যমে 'ব্যাপন' (Diffusion) প্রক্রিয়ায় সরাসরি পানি থেকে দ্রবীভূত অক্সিজেন (O₂) কোষে প্রবেশ করে এবং কোষের কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂) পানিতে মুক্ত হয়
রেচন: কোষের বিপাকীয় নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ (প্রধানত অ্যামোনিয়া) ব্যাপন প্রক্রিয়ায় সরাসরি বাইরের পানি এবং সিলেন্টারনের পানিতে নিষ্কাশিত হয়

 

প্রশ্ন ১৯  │  [ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১, সিলেট বোর্ড ২০২৩]
হাইড্রার গ্যাস্ট্রোডার্মিসের (অন্তঃত্বকের) বিভিন্ন কোষের নাম কাজ সংক্ষেপে লেখো

উত্তর:

গ্যাস্ট্রোডার্মিসের ৫টি কোষের পরিচিতি:
. পুষ্টি-পেশি কোষ (Nutritive-muscular cells): এগুলোতে ফ্ল্যাজেলা ক্ষণপদ থাকে ফ্ল্যাজেলা খাদ্য চর্বণ করে এবং ক্ষণপদ ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে খাদ্য গিলে অন্তঃকোষীয় পরিপাক ঘটায়
. গ্রন্থি কোষ (Gland cells): পরিপাককারী এনজাইম (যেমন- প্রোটিনেজ) এবং মিউকাস ক্ষরণ করে খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে
. ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ (Interstitial cells): গ্যাস্ট্রোডার্মিসের যেকোনো কোষের ক্ষয়পূরণ নতুন কোষ সৃষ্টিতে অংশ নেয়
. সংবেদী কোষ (Sensory cells): সিলেন্টারনে খাদ্যের গুণাগুণ রাসায়নিক অনুভূতি গ্রহণ করে
. স্নায়ু কোষ (Nerve cells): মেসোগ্লিয়ার সাথে লেগে থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ পরিবহন করে

 

প্রশ্ন ২০  │  [ঢাকা বোর্ড ২০২১, কুমিল্লা বোর্ড ২০২০]
হাইড্রার লুপিং (Looping) এবং সোমারসল্টিং (Somersaulting) চলনের মধ্যে পার্থক্য লেখো

উত্তর:

পার্থক্য তালিকা: (নিম্নে তুলনামূলক টেবিল প্রদান করা হলো)

তুলনার বিষয়

লুপিং (Looping)

সোমারসল্টিং (Somersaulting)

চলন কৌশল

ইঞ্চি পোকার মতো হামাগুড়ি দিয়ে অগ্রসর হয়

উপুড় হয়ে ডিগবাজি দেওয়ার মতো অগ্রসর হয়

লুপ সংখ্যা

প্রতিটি ধাপে কেবল ১টি লুপ বা ফাঁশ তৈরি হয়

একক চক্রে পরপর ২টি লুপ তৈরি হয়

উল্টানো অবস্থান

হাইড্রার দেহ কখনোই উল্টো হয়ে দাঁড়ায় না

চলনকালে হাইড্রা সাময়িকভাবে কর্ষিকার ওপর উল্টো হয়ে দাঁড়ায়

গতির প্রকৃতি

এটি অত্যন্ত ধীরগতির চলন পদ্ধতি

এটি হাইড্রার দ্রুততম চলন পদ্ধতি

অতিক্রান্ত দূরত্ব

কম দূরত্ব অতিক্রমের জন্য ব্যবহৃত হয়

দীর্ঘ সাধারণ দূরত্ব অতিক্রমের জন্য ব্যবহৃত হয়

📌 '' বিভাগ (জ্ঞানমূলক প্রশ্ন) উত্তর করার বিশেষ নির্দেশিকা:
. জ্ঞানমূলক প্রশ্নের পূর্ণ নম্বর উত্তর সবসময় এক শব্দে বা এক লাইনে একদম নিখুঁত সুনির্দিষ্টভাবে দিতে হয়
. বৈজ্ঞানিক নাম লেখার সময় সঠিক বানান আন্ডারলাইন/ইটালিক্স নিয়ম মেনে চলা আবশ্যক

প্রশ্ন . হাইড্রার বৈজ্ঞানিক নাম কী?
উত্তর: Hydra vulgaris (বা Hydra attenuata)

প্রশ্ন . হাইড্রা কোন পর্বের (Phylum) প্রাণী?
উত্তর: নিডারিয়া (Cnidaria) পর্বের প্রাণী

প্রশ্ন . 'Hydra' নামটি কে প্রথম প্রস্তাব করেন?
উত্তর: ক্যারোলাস লিনিয়াস (Carolus Linnaeus, 1758)

প্রশ্ন . হাইড্রার অঙ্গ পুনরুৎপত্তি (Regeneration) ক্ষমতা কে প্রথম আবিষ্কার করেন?
উত্তর: আব্রাহাম ট্রেম্বলে (Abraham Trembley, 1744)

প্রশ্ন . হাইড্রার শারীরিক প্রতিসাম্যতা (Symmetry) কেমন?
উত্তর: অরীয় প্রতিসম (Radially symmetrical)

প্রশ্ন . হাইড্রার দেহ প্রধানত কয়টি অংশে বিভক্ত?
উত্তর: ৩টি অংশে (হাইপোস্টোম, দেহকাণ্ড পদচাকতি)

প্রশ্ন . হাইড্রার মুখছিদ্র কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: হাইপোস্টোমের চূড়ায় অবস্থিত

প্রশ্ন . হাইড্রার কর্ষিকার (Tentacles) সংখ্যা কয়টি?
উত্তর: থেকে ১০টি

প্রশ্ন . সিলেন্টরন (Coelenteron) কী?
উত্তর: হাইড্রার দেহাভ্যন্তরে অবস্থিত একমাত্র ফাঁপা পরিপাক-সংবহন গহ্বর

প্রশ্ন ১০. মেসোগ্লিয়া (Mesoglea) কী?
উত্তর: এপিডার্মিস গ্যাস্ট্রোডার্মিসের মাঝামাঝি অবস্থিত অকোষীয়, বর্ণহীন জেলি সদৃশ স্তর

প্রশ্ন ১১. মেসোগ্লিয়ার পুরুত্ব কত?
উত্তর: প্রায় . মাইক্রোমিটার (0.1 µm)

প্রশ্ন ১২. নিডোসাইট (Cnidocyte) কোষ কী?
উত্তর: হাইড্রার এপিডার্মিসে অবস্থিত আত্মরক্ষা, প্রজনন শিকার ধরার বিশেষায়িত রূপান্তরক্ষম কোষ

প্রশ্ন ১৩. নেমাটোসিস্ট (Nematocyst) কী?
উত্তর: নিডোসাইট কোষের অভ্যন্তরে অবস্থিত কাইটিনময় বিষাক্ত রসপূর্ণ থলি বা বিষাক্ত অঙ্গাণু

প্রশ্ন ১৪. হিপনোটক্সিন (Hypnotoxin) কীসের মিশ্রণে গঠিত?
উত্তর: প্রোটিন (Protein) ফেনল (Phenol)-এর মিশ্রণে গঠিত বিষাক্ত তরল

প্রশ্ন ১৫. হাইড্রায় কত ধরনের নেমাটোসিস্ট পাওয়া যায়?
উত্তর: ধরনের নেমাটোসিস্ট পাওয়া যায়

প্রশ্ন ১৬. হাইড্রার সর্ববৃহৎ নেমাটোসিস্টের নাম কী?
উত্তর: স্টিনোটিল (Stenotele) বা পেনিট্র্যান্ট (Penetrant)

প্রশ্ন ১৭. কোন নেমাটোসিস্টে হিপনোটক্সিন থাকে?
উত্তর: স্টিনোটিল (Stenotele) নেমাটোসিস্টে

প্রশ্ন ১৮. ভলভেন্ট (Volvent) নেমাটোসিস্টের অপর নাম কী?
উত্তর: ডেসমোনিম (Desmoneme)

প্রশ্ন ১৯. আঠালো রস নিঃসৃত করে শিকার বা সাবস্ট্রেটামে আটকে রাখতে সাহায্য করে কোন নেমাটোসিস্ট?
উত্তর: গ্লুটিন্যান্ট নেমাটোসিস্ট (স্ট্রেপ্টোলিন স্টিরিওলিন)

প্রশ্ন ২০. নিডোসিল (Cnidocil) কী?
উত্তর: নিডোসাইট কোষের মুক্ত প্রান্তে অবস্থিত শক্ত, উদ্দীপনাগ্রাহী ট্রিগার সদৃশ প্রবর্ধক

প্রশ্ন ২১. হাইড্রার প্রধান অলৈঙ্গিক জনন পদ্ধতির নাম কী?
উত্তর: মুকুলোদ্গম (Budding)

প্রশ্ন ২২. কোন কোষের কারণে হাইড্রার অঙ্গ পুনরুৎপত্তি ঘটে?
উত্তর: ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ (Interstitial cell)

প্রশ্ন ২৩. ইন্টারস্টিশিয়াল কোষের গড় ব্যাস কত?
উত্তর: প্রায় মাইক্রোমিটার (5 µm)

প্রশ্ন ২৪. টোটিপোটেন্সি (Totipotency) কী?
উত্তর: কোনো কোষের বিভাজিত হয়েদেহের যেকোনো ধরনের পূর্ণাঙ্গ কোষে রূপান্তরিত হওয়ার অসীম ক্ষমতা

প্রশ্ন ২৫. হাইড্রার দ্রুততম চলন পদ্ধতির নাম কী?
উত্তর: সমাসল্টিং (Somersaulting) বা ডিগবাজি

প্রশ্ন ২৬. সাধারণ দূরত্বের জন্য হাইড্রার প্রধান চলন পদ্ধতির নাম কী?
উত্তর: লুপিং (Looping) বা হামাগুড়ি চলন

প্রশ্ন ২৭. হাইড্রার খাদ্য পরিপাক প্রথমে কোথায় শুরু হয়?
উত্তর: সিলেন্টরন গহ্বরে (বহিঃকোষীয় পরিপাক হিসেবে)

প্রশ্ন ২৮. হাইড্রার খাদ্য গ্রহণের প্রধান অঙ্গ কোনটি?
উত্তর: কর্ষিকা (Tentacles)

প্রশ্ন ২৯. সবুজ হাইড্রার বৈজ্ঞানিক নাম কী?
উত্তর: Chlorohydra viridissima (বা Hydra viridissima)

প্রশ্ন ৩০. হাইড্রার সাথে মিথোজীবিতা প্রদর্শনকারী শৈবালের নাম কী?
উত্তর: Zoochlorella (জুক্লোরেলা)

প্রশ্ন ৩১. মিথোজীবিতা (Symbiosis) কী?
উত্তর: দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীবের একত্রে বসবাস করে একে অপরের দ্বারা পারস্পরিকভাবে উপকৃত হওয়ার সম্পর্ক

প্রশ্ন ৩২. হাইড্রার সংবেদী কোষের কাজ কী?
উত্তর: পরিবেশ থেকে আলো, তাপ স্পর্শজনিত উদ্দীপনা গ্রহণ করা

প্রশ্ন ৩৩. হাইড্রার স্নায়ুতন্ত্র কোন প্রকৃতির?
উত্তর: স্নায়ুজালিকা (Nerve net) প্রকৃতির

প্রশ্ন ৩৪. হাইড্রার পদচাকতি থেকে নিঃসৃত কসের কাজ কী?
উত্তর: পিচ্ছিল মিউকাস আঠালো রস নিঃসৃত করে সাবস্ট্রেটামে আটকে থাকতে সাহায্য করা

প্রশ্ন ৩৫. হাইড্রার দেহে কোনো পৃথক শ্বসন বা রেচন অঙ্গ আছে কি?
উত্তর: না, হাইড্রায় সুনির্দিষ্ট শ্বসন বা রেচন অঙ্গ নেই

প্রশ্ন ৩৬. হাইড্রার প্রধান রেচন বর্জ্য পদার্থ কোনটি?
উত্তর: অ্যামোনিয়া (NH3)

প্রশ্ন ৩৭. হাইড্রায় কয়টি প্রাথমিক ভ্রূণীয় কোষস্তর থাকে?
উত্তর: ২টি (এক্টোডার্ম এন্ডোডার্ম)

প্রশ্ন ৩৮. গ্যাস্ট্রোডার্মিসের পুষ্টি কোষে কোন দুই ধরনের গঠন দেখা যায়?
উত্তর: ফ্ল্যাজেলীয় কোষ ক্ষণপদীয় কোষ

প্রশ্ন ৩৯. সিস্ট (Cyst) কী?
উত্তর: প্রতিকূল পরিবেশ থেকে রক্ষা পেতে জাইগোটের চারপাশে গঠিত কাইটিনযুক্ত শক্ত আবরণ

প্রশ্ন ৪০. গ্যাস্ট্রোডার্মিসের কোন কোষ এনজাইম মিউকাস নিঃসৃত করে?
উত্তর: গ্রন্থি কোষ (Gland cell)

  

📌 '' বিভাগ (অনুধাবনমূলক প্রশ্ন) উত্তর করার বিশেষ নির্দেশিকা:
. অনুধাবনমূলক প্রশ্নে মোট নম্বর থাকে উত্তরের প্রথম অংশে মূল তথ্য (জ্ঞান অংশ) এবং দ্বিতীয় অংশে বিশদ কারণ বা ব্যাখ্যা লিখতে হয়
. নিচে ৩০টি প্রশ্ন উত্তর সম্পূর্ণ পয়েন্ট আকারে প্রফেশনাল কাঠামোতে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন সম্ভব হয়

প্রশ্ন . হাইড্রাকে দ্বিস্তরী বা ডাইপ্লব্লাস্টিক প্রাণী বলা হয় কেন?
উত্তর:
হাইড্রাকে দ্বিস্তরী (Diploblastic) প্রাণী বলা হয় কারণ এদের ভ্রূণীয় পরিস্ফুটনের সময় দেহত্বক কেবল দুটি প্রাথমিক ভ্রূণীয় কোষস্তর দ্বারা গঠিত হয়

ব্যাখ্যা:
. বাইরের স্তরটি হলো এক্টোডার্ম (Ectoderm), যা পরবর্তীতে প্রাপ্তবয়স্ক হাইড্রার বহিস্ত্বক বা 'এপিডার্মিস' (Epidermis) গঠন করে
. ভেতরের স্তরটি হলো এন্ডোডার্ম (Endoderm), যা পরবর্তীতে অন্তস্ত্বক বা 'গ্যাস্ট্রোডার্মিস' (Gastrodermis) গঠন করে
. এই দুই স্তরের মাঝে কোনো কোষীয় মেসোডার্ম স্তর থাকে না; তার পরিবর্তে জেলি সদৃশ আঠালো 'মেসোগ্লিয়া' (Mesoglea) থাকে দুটি কোষীয় স্তর থাকার কারণেই হাইড্রাকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলা হয়

প্রশ্ন . সিলেন্টরনকে গ্যাস্ট্রোভাস্কুলার গহ্বর বলা হয় কেন?
উত্তর:
হাইড্রার দেহাভ্যন্তরে অবস্থিত একমাত্র ফাঁপা গহ্বর 'সিলেন্টরন' একই সাথে পরিপাক (Gastric) এবং সংবহন (Vascular) উভয় প্রকার কাজ সম্পন্ন করে বলে একে গ্যাস্ট্রোভাস্কুলার গহ্বর বলা হয়

ব্যাখ্যা:
. গ্যাস্ট্রিক/পরিাপাক কাজ: এতে গৃহীত খাদ্যের বহিঃকোষীয় परिপাক (Extracellular digestion) ঘটে গ্যাস্ট্রোডার্মিসের এনজাইম খাদ্যের ওপর কাজ করে খাদ্যবস্তুকে আংশিক হজম করে
. ভাস্কুলার/সংবহন কাজ: পরিপাককৃত খাদ্যরস, দ্রবীভূত অক্সিজেন এবং বর্জ্য পদার্থ সম্পূর্ণ গহ্বরে বাহিত সংবাহিত হয়ে সমস্ত দেহে পৌঁছায়
যেহেতু এক গহ্বরই পরিপাক সংবহন ব্যবস্থার কাজ একাই পরিচালনা করে, তাই একে গ্যাস্ট্রোভাস্কুলার গহ্বর বলে

প্রশ্ন . মেসোগ্লিয়ার বৈশিষ্ট্য শারীরবৃত্তীয় গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো
উত্তর:
মেসোগ্লিয়া হলো হাইড্রার এপিডার্মিস গ্যাস্ট্রোডার্মিস স্তরের মাঝামাঝি অবস্থিত অত্যন্ত পাতলা (প্রায় . মাইক্রোমিটার), বর্ণহীন, অকোষীয় জেলি সদৃশ আঠালো স্তর

শারীরবৃত্তীয় গুরুত্ব:
. কঙ্কাল গঠন: এটি হাইড্রার নমনীয় কঙ্কাল হিসেবে কাজ করে এবং দেহের নির্দিষ্ট আকৃতি বজায় রাখতে সাহায্য করে
. সংযোগ নমনীয়তা: এটি দ্বিস্তরী কোষগুলোকে একত্রে সংলগ্ন রাখে এবং দেহ সংকুচিত প্রসারিত হওয়ার পর পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে স্প্রিংয়ের মতো সহায়তা করে
. পেশি স্নায়ুর ভিত্তি: মেসোগ্লিয়ার দুপাশে পেশি-আবরণী কোষের মায়োনিম তন্তু এবং স্নায়ুকোষের প্রবর্ধকসমূহ বিন্যস্ত থাকে

প্রশ্ন . ইন্টারস্টিশিয়াল কোষকে 'টোটিপোটেন্ট' বা 'রিজার্ভ সেল' বলা হয় কেন?
উত্তর:
ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ হলো হাইড্রার দেহ প্রাচীরে অবস্থিত অসীম বিভাজনক্ষম যেকোনো কোষপ্রকারে রূপান্তরিত হতে সক্ষম বিশেষ এক ধরনের কোষ, যাকে 'টোটিপোটেন্ট কোষ' (Totipotent cell) বলে

ব্যাখ্যা:
. এটি প্রয়োজন অনুযায়ী এপিডার্মিস গ্যাস্ট্রোডার্মিসের যেকোনো ধরনের কোষে (যেমন: নিডোসাইট, সংবেদী কোষ, জনন কোষ ইত্যাদি) রূপান্তরিত হতে পারে
. দেহের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা ক্ষয়প্রাপ্ত হলে তা দ্রুত পূরণ করে প্রজননকালে শুক্রাশয় ডিম্বাশয় গঠনেও এটি মূল ভূমিকা পালন করে
যেহেতু এরা সর্বদাই আপৎকালীন প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত থাকে, তাই এদের 'রিজার্ভ সেল' (Reserve cell) বা সংরক্ষিত কোষ বলা হয়

প্রশ্ন . হাইড্রাকে কেন অবিনশ্বর বা 'অমর প্রাণী' বলা হয়?
উত্তর:
হাইড্রার স্বাভাবিক বার্ধক্যজনিত মৃত্যু নেই এবং এর দেহের অভাবনীয় অঙ্গ পুনরুৎপত্তি (Regeneration) ক্ষমতার কারণে একে অবিনশ্বর বা 'অমর প্রাণী' বলা হয়

ব্যাখ্যা:
. হাইড্রার দেহপ্রাচীরের ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ অনবরত বিভাজিত হয়ে নতুন কোষ তৈরি করে পুরনো কোষগুলোকে প্রতিস্থাপিত করে ৪৫ দিনের মধ্যে হাইড্রার সমস্ত দেহকোষ সম্পূর্ণ নতুন কোষে রূপান্তরিত হয়
. হাইড্রার দেহকে কয়েকটি টুকরো করে কাটলে প্রতিটি বিচ্ছিন্ন অংশ থেকে পুনঃক্ষয়পূরণের মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ নতুন পূর্ণাঙ্গ হাইড্রা গঠিত হয়
প্রাকৃতিক রোগ বা শিকার না হলে বার্ধক্যের কারণে হাইড্রা নিজে থেকে মৃত্যুবরণ করে না বলেই একে অমর হিসেবে গণ্য করা হয়

প্রশ্ন . হিপনোটক্সিন কী এবং এটি কীভাবে শিকারকে অবশ করে?
উত্তর:
হিপনোটক্সিন (Hypnotoxin) হলো হাইড্রার স্টিনোটিল বা পেনিট্র্যান্ট নেমাটোসিস্টের ভেতরে রক্ষিত এক ধরনের তীব্র বিষাক্ত তরল, যা বিষাক্ত প্রোটিন (Protein) এবং ফেনল (Phenol)-এর মিশ্রণে গঠিত

কার্যপ্রণালী:
. হাইড্রা যখন শিকার (যেমন: ডাফনিয়া বা সাইক্লপস) ধরে, তখন স্টিনোটিল নেমাটোসিস্টের ফাঁপা সূক্ষ্ম সূত্রকটি শিকারের নরম দেহে বিদ্ধ হয়
. সূত্রকের মুক্ত প্রান্ত দিয়ে হিপনোটক্সিন তীব্র বেগে শিকারের সংবহনতন্ত্র পেশিকলায় প্রবেশ করে
. ফেনল শিকারের কোষ প্রাচীর গলিয়ে দেয় এবং প্রোটিন বিষ পক্ষাঘাত ঘটায়, ফলে শিকার মুহূর্তের মধ্যে অবশ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে

প্রশ্ন . সমাসল্টিং বা ডিগবাজি চলন প্রক্রিয়াটি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করো
উত্তর:
সমাসল্টিং (Somersaulting) বা ডিগবাজি চলন হলো হাইড্রার দ্রুততম এবং সাধারণ চলাচলের প্রধান পদ্ধতি

প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ:
. হাইড্রা প্রথমে দেহকে বাঁকিয়ে কর্ষিকার সাহায্যে গতিপথের সাবস্ট্রেটাম বা তলদেশ স্পর্শ করে এবং আঠালো রসে কর্ষিকা আটকে ফেলে
. পদচাকতিকে (Basal disc) মুক্ত করে উঁচু করে ধরে এবং পুরো দেহকে উল্টো করে শূন্যে ঘোরায়
. এরপর দেহকে পুনরায় বাঁকিয়ে পদচাকতিকে সামনের দিকে নতুন স্থানে স্থাপন করে এবং কর্ষিকা মুক্ত করে সোজা হয়ে দাঁড়ায়
এভাবে একের পর এক ডিগবাজি বা উল্টো হয়ে চলার মাধ্যমে হাইড্রা দ্রুত দূরত্ব অতিক্রম করে

প্রশ্ন . গ্লাইডিং বা অ্যামিবয়েড চলন বলতে কী বোঝায়?
উত্তর:
গ্লাইডিং (Gliding) বা অ্যামিবয়েড চলন হলো হাইড্রার অত্যন্ত ধীরগতির সোজা সমতলে পিছলে চলাচলের একটি শারীরবৃত্তীয় পদ্ধতি

ব্যাখ্যা:
. এই প্রক্রিয়ায় হাইড্রা তার পদচাকতির এপিডার্মাল কোষ থেকে পিচ্ছিল মিউকাস রস নিঃসৃত করে
. পদচাকতির নিচে অবস্থানরত কোষগুলো ক্ষণপদ (Pseudopodia) সৃষ্টি করে অথবা অতি ক্ষুদ্র সংঙ্কোচন-প্রসারণের মাধ্যমে পিছলে পিছলে সামনের দিকে অগ্রসর হয়
. এই চলনে হাইড্রা দেহকে বাঁকায় না বা সোজা অবস্থান ত্যাগ করে না মসৃণ তলে অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাই হলো গ্লাইডিং চলন

প্রশ্ন . সমাসল্টিং লুপিং চলনের মধ্যে প্রধান শারীরবৃত্তীয় পার্থক্যসমূহ লেখো
উত্তর:
সমাসল্টিং (Somersaulting) লুপিং (Looping)-এর প্রধান শারীরবৃত্তীয় পার্থক্য নিম্নরূপ:

. উল্টো হওয়া: সমাসল্টিং প্রক্রিয়ায় হাইড্রা কর্ষিকার ওপর ভর দিয়ে সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে ডিগবাজি খায় কিন্তু লুপিং চলনে হাইড্রা কখনোই সম্পূর্ণ উল্টো হয় না (জোঁকের মতো চলে)
. লুপ/ফাঁস গঠন: লুপিং প্রক্রিয়ায় প্রতিটি পদক্ষেপে ধনুকের মতো ফাঁস বা লুপ গঠিত হয়; সমাসল্টিংয়ে পর পর দুটি লুপ গঠিত হয়
. গতির পার্থক্য: সমাসল্টিং হলো হাইড্রার দ্রুততম চলন পদ্ধতি এবং এর মাধ্যমে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করা যায়; পক্ষান্তরে লুপিং ধীরগতির এবং স্বল্প দূরত্ব অতিক্রমের জন্য ব্যবহৃত হয়

প্রশ্ন ১০. নিডোসাইট এবং নেমাটোসিস্টের মধ্যে মৌলিক পার্থক্যসমূহ ব্যাখ্যা করো
উত্তর:
নিডোসাইট (Cnidocyte) নেমাটোসিস্ট (Nematocyst)-এর মৌলিক পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:

. প্রকৃতি: নিডোসাইট হলো হাইড্রার এপিডার্মিসে অবস্থিত একটি আস্ত জীবন্ত কোষ, যার মধ্যে নিউক্লিয়াস, সাইটোফ্লাজম বিভিন্ন অঙ্গাণু থাকে অপরদিকে, নেমাটোসিস্ট হলো নিডোসাইট কোষের ভেতরে তৈরি হওয়া কাইটিন নির্মিত বিষাক্ত রসপূর্ণ নিঃজীব অঙ্গাণু বা থলি
. অবস্থান কাজ: নিডোসাইট হলো আধার বা ধারণকারী কোষ, আর নেমাটোসিস্ট হলো আক্রমণ, প্রতিরক্ষা শিকার ধরার মূল যন্ত্র
সহজ কথায়নিডোসাইট হলো একটি বিশেষ কোষ এবং নেমাটোসিস্ট হলো সেই কোষের ভেতরের কার্যকরী অঙ্গাণু

প্রশ্ন ১১. হাইড্রায় দৃষ্ট ধরনের নেমাটোসিস্টের গঠন কাজ সংক্ষেপে বর্ণনা করো
উত্তর:
হাইড্রার এপিডার্মিসে ধরনের নেমাটোসিস্ট পাওয়া যায়:

. স্টিনোটিল (Stenotele): সবচেয়ে বড়, বাট প্রশস্ত, ৩টি বার্ব সংবলিত এতে হিপনোটক্সিন থাকে এবং শিকারকে বিদ্ধ অবশ করে
. ভলভেন্ট (Volvent): ছোট, ডিম্বাকার বন্ধ সূত্রকযুক্ত এটি নিক্ষিপ্ত হয়ে শিকারের উপাঙ্গ বা লোম পেঁচিয়ে ধরে আটকে রাখে
. স্ট্রেপ্টোলিন গ্লুটিন্যান্ট: লম্বা কাঁটাযুক্ত উন্মুক্ত সূত্রক সংবলিত আঠালো রস নিঃসৃত করে শিকার বা চলনে সাহায্য করে
. স্টিরিওলিন গ্লুটিন্যান্ট: ক্ষুদ্রতম, কাঁটাহীন উন্মুক্ত সূত্রকযুক্ত আঠালো রস নিঃসরণ করে চলনের সময় সাবস্ট্রেটামে সংলগ্ন থাকতে সাহায্য করে

প্রশ্ন ১২. স্টিনোটিল বা পেনিট্র্যান্ট নেমাটোসিস্টের গঠন কার্যপদ্ধতি ব্যাখ্যা করো
উত্তর:
স্টিনোটিল (Stenotele) হলো হাইড্রার সর্ববৃহৎ সবচেয়ে শক্তিশালী নেমাটোসিস্ট

গঠন কাজ:
. এর ক্যাপসুল বা থলিটি ডিম্বাকার এবং ভেতরে বিষাক্ত হিপনোটক্সিন পূর্ণ থাকে
. এর বাটের (Butt) গোড়ায় ৩টি বড় তীক্ষ্ণ প্রধান কাঁটা বা 'বার্ব' (Barb) এবং বেশ কয়েকটি ছোট কঙ্কার মতো 'বার্বিউল' (Barbiule) থাকে
. উদ্দীপনা পেলে এর ঢাকনা (Operculum) খুলে যায় এবং ফাঁপা তীক্ষ্ণ সূত্রকটি তীব্র অভিস্রাবণিক চাপে নিক্ষিপ্ত হয়ে শিকারের দেহ প্রাচীর ভেদ করে বিষ প্রবেশ করিয়ে তাকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করে ফেলে

প্রশ্ন ১৩. হাইড্রার মুকুলোদ্গম (Budding) প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হয়?
উত্তর:
মুকুলোদ্গম হলো হাইড্রার প্রধান অলৈঙ্গিক জনন পদ্ধতি, যা প্রধানত পর্যাপ্ত খাদ্যের উপস্থিতিতে গ্রীষ্মকালে ঘটে থাকে

প্রক্রিয়াক্রম:
. হাইড্রার দেহের নিম্ন বা মধ্যভাগের এপিডার্মিসের ইন্টারস্টিশিয়াল কোষগুলো দ্রুত বিভাজিত হয়ে একটি স্ফীত উপবৃদ্ধি বা 'মুকুল' (Bud) তৈরি করে
. মাতৃহাইড্রার সিলেন্টরন গহ্বরটি প্রসারিত হয়ে মুকুলের ভেতরে প্রবেশ করে
. মুকুলের মুক্ত প্রান্তে হাইপোস্টোম, মুখছিদ্র এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কর্ষিকা গজায়
. শেষে মাতৃহাইড্রার সাথে সংযোগস্থলে এক বৃত্তাকার খাঁজ সৃষ্টি হয়ে মুকুলটি পৃথক হয়ে স্বাধীন হাইড্রা হিসেবে জীবন শুরু করে

প্রশ্ন ১৪. হাইড্রার বহিঃকোষীয় অন্তঃকোষীয় পরিপাকের মধ্যে পার্থক্য দেখাও
উত্তর:
হাইড্রার পরিপাক প্রক্রিয়ায় দ্বিবিধ দশা দেখা যায়বহিঃকোষীয় অন্তঃকোষীয় পরিপাক

পার্থক্যসমূহ:
. স্থান: বহিঃকোষীয় পরিপাক সিলেন্টরন গহ্বরে (কোষের বাইরে) ঘটে, আর অন্তঃকোষীয় পরিপাক গ্যাস্ট্রোডার্মিসের পুষ্টি কোষের খাদ্য গহ্বরে (কোষের ভেতরে) ঘটে
. মাধ্যম ধরন: বহিঃকোষীয় পরিপাকে ক্ষারীয় মাধ্যমে গ্রন্থি কোষ থেকে নিঃসৃত এনজাইম প্রোটিন ফ্যাট আংশিক ভাঙে অন্তঃকোষীয় পরিপাকে ফাগোসাইটোসিস দ্বারা গৃহীত খাদ্যকণা এসিডীয় ক্ষারীয় উভয় মাধ্যমে সম্পূর্ণ হজম হয়
হাইড্রায় প্রথমে বহিঃকোষীয় এবং পরে অন্তঃকোষীয় পরিপাক সম্পন্ন হয়

প্রশ্ন ১৫. সবুজ হাইড্রা জুক্লোরেলার মিথোজীবিতা (Symbiosis) সম্পর্কটি ব্যাখ্যা করো
উত্তর:
সবুজ হাইড্রা (Chlorohydra viridissima) এবং তার গ্যাস্ট্রোডার্মিস কোষে বসবাসকারী এককোষী সবুজ শৈবাল Zoochlorella- মধ্যে গঠিত পারস্পরিক বাধ্যবাধকতামূলক উপকারী সম্পর্কই হলো মিথোজীবিতা

পরস্পরের উপকারিতা:
. শৈবালের উপকার: শৈবাল হাইড্রার ভেতরে নিরাপদ আশ্রয় পায় এবং হাইড্রার শসন থেকে নির্গত CO2 রেচনজাত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য গ্রহণ করে নিজ খাদ্য প্রস্তুত করে
. হাইড্রার উপকার: শৈবাল সালোকসংশ্লেষণে যে খাদ্য (কার্বোহাইড্রেট) অক্সিজেন (O2) তৈরি করে, হাইড্রা তা গ্রহণ করে পুষ্টি শসনের অভাব মেটায়
এই অনন্য সহাবস্থানে উভয় জীবই লাভবান হয়

প্রশ্ন ১৬. হাইড্রার পেশি-আবরণী কোষের দ্বিমুখী ভূমিকা গুরুত্ব বর্ণনা করো
উত্তর:
হাইড্রার এপিডার্মিস গ্যাস্ট্রোডার্মিস স্তরের প্রধান কোষ হলো পেশি-আবরণী কোষ (Musculo-epithelial cell) এরা একই সাথে দুটি পৃথক অঙ্গতন্ত্রের কাজ পরিচালনা করে

দ্বিমুখী ভূমিকা:
. আবরণী কাজ: কোষের চওড়া মুক্ত প্রান্তগুলো পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে বাইরের আঘাত জীবাণু থেকে দেহকে আবৃত সুরক্ষিত রাখে
. পেশির কাজ: কোষের ভেতরের দিকে মেসোগ্লিয়া সংলগ্ন অংশে সংকোচনশীল মাইওনিম (Myoneme) তন্তু থাকে এই তন্তুর সংকোচন-প্রসারণে হাইড্রার দেহ বাঁকে, সংকুচিত হয় এবং চলাচলে সক্ষম হয়
এদের এই যৌথ কার্যকারিতার জন্যই এদের পেশি-আবরণী কোষ বলে

প্রশ্ন ১৭. হাইড্রা কখন এবং কেন লৈঙ্গিক জননের দিকে ধাবিত হয়?
উত্তর:
হাইড্রা প্রধানত শরৎ শীতকালে বা প্রতিকূল পরিবেশে লৈঙ্গিক জননে অংশ নেয়

কারণ সময়কাল:
. সময়কাল: যখন পানির তাপমাত্রা কমে যায়, অক্সিজেনের ঘাটতি হয় অথবা খাদ্য সংকট দেখা দেয় (প্রতিকূল পরিবেশ)
. প্রজাতি রক্ষা: লৈঙ্গিক জননের মাধ্যমে সৃষ্ট জাইগোট নিজেকে একটি শক্ত কাইটিনযুক্ত প্রতিরক্ষামূলক আবরণে (Cyst) ঢেকে ফেলে এই সিস্টের কারণে তীব্র শীত বা শুকিয়ে যাওয়া পুকুরের তলদেশেও ভ্রূণ অক্ষত থাকে
প্রতিকূল আবহাওয়ায় প্রজাতির অস্তিত্ব বিলুপ্তি থেকে রক্ষা করার তাগিদেই হাইড্রা লৈঙ্গিক জননে লিপ্ত হয়

প্রশ্ন ১৮. হাইড্রার পৃথক শ্বসন রেচন অঙ্গ না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে শ্বসন রেচন সম্পন্ন হয়?
উত্তর:
হাইড্রা অত্যন্ত সরল দ্বিস্তরী প্রাণী হওয়ায় এদের দেহে সুনির্দিষ্ট শ্বসনতন্ত্র বা রেচনতন্ত্র গঠিত হয়নি

পদ্ধতি:
. হাইড্রার দেহ প্রাচীর মাত্র দুটি কোষস্তর দ্বারা গঠিত এবং মেসোগ্লিয়া অত্যন্ত পাতলা
. দেহের এপিডার্মিসের কোষগুলো সরাসরি বাহিরের পানির সাথে এবং গ্যাস্ট্রোডার্মিসের কোষগুলো সিলেন্টরনে থাকা পানির সাথে সার্বক্ষণিক সরাসরি যুক্ত থাকে
. ফলে সরল 'ব্যাপন' (Diffusion) প্রক্রিয়ায় সরাসরি পানি থেকে O2 গ্রহণ CO2 ত্যাগ করে श्वসন সম্পন্ন করে এবং নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য (অ্যামোনিয়া) সরাসরি পানিতে নিষ্কাশন করে

প্রশ্ন ১৯. শিকার গ্রহণে কর্ষিকা নিডোসাইট কোষের যৌথ ভূমিকা আলোচনা করো
উত্তর:
হাইড্রার শিকার ধরা এবং তা গ্রাস করার প্রক্রিয়ায় কর্ষিকা নিডোসাইটের সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য

যৌথ ভূমিকা:
. হাইড্রা কর্ষিকাগুলোকে পানিতে ছড়িয়ে রাখে কর্ষিকায় থাকা সংবেদী নিডোসিল শিকারের স্পর্শ পায়
. নিডোসাইটের ভেতর থেকে স্টিনোটিল নেমাটোসিস্ট বিষ প্রয়োগ করে শিকারকে অবশ করে এবং ভলভেন্ট শিকারকে পেঁচিয়ে ধরে
. শিকার নিষ্ক্রিয় হলে কর্ষিকাগুলো সংকুচিত হয়ে বাঁকা হয় এবং শিকারকে হাইপোস্টোম তথা মুখছিদ্রের কাছে এনে সরাসরি সিলেন্টরনে ঠেলে দেয়

প্রশ্ন ২০. নিডোসিল কীভাবে উদ্দীপনা গ্রহণ করে নেমাটোসিস্ট নিক্ষিপ্ত করে?
উত্তর:
নিডোসিল (Cnidocil) হলো নিডোসাইট কোষের মুক্ত প্রান্তে অবস্থিত শক্ত, সংবেদী প্রবর্ধক যা ট্রিগারের মতো কাজ করে

নিক্ষেপ পদ্ধতি:
. শিকারের স্পর্শ বা রাসায়নিক উদ্দীপনায় নিডোসিল সংবেদ গ্রহণ করে স্নায়ু সংকেত পাঠায়
. এতে নিডোসাইট কোষের প্লাজমা পর্দার ভেদ্যতা বৃদ্ধি পায় এবং আশপাশের পানি দ্রুত কোষের ভেতরে প্রবেশ করে
. পানির প্রবেশের ফলে কোষের অভ্যন্তরে প্রচণ্ড অভিস্রাবণিক চাপ (Osmotic pressure) সৃষ্টি হয়
. এই চাপে নেমাটোসিস্টের ঢাকনা (Operculum) সজোরে খুলে যায় এবং পেঁচানো সূত্রকটি স্প্রিংয়ের মতো তীব্র বেগে বাইরে নিক্ষিপ্ত হয়

প্রশ্ন ২১. হাইড্রা কীভাবে পরিবেশগত উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে আত্মরক্ষা করে?
উত্তর:
হাইড্রা কোনো শত্রুর আক্রমণ বা ভৌত-রাসায়নিক বৈরী উদ্দীপনা টের পেলে দ্রুত আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে

কৌশল:
. নেমাটোসিস্ট ব্যবহার: কর্ষিকার স্টিনোটিল নেমাটোসিস্ট নিক্ষিপ্ত করে ক্ষতিকর বা আক্রমণকারী প্রাণীকে বিদ্ধ বিষাক্ত করে দূরে তাড়িয়ে দেয়
. দেহাঙ্কোচন: এপিডার্মিসের পেশি-আবরণী কোষের মায়োনিম তন্তুগুলোকে দ্রুত সংকুচিত করে কর্ষিকা দীর্ঘ দেহকে গুটিয়ে একটি অতি ক্ষুদ্র নিরেট বল বা গোলকে পরিণত করে, ফলে শত্রু একে সহজে দেখতে পায় না

প্রশ্ন ২২. হাইড্রার স্নায়ুজালিকা (Nerve net) কীভাবে উদ্দীপনা পরিবহন করে?
উত্তর:
হাইড্রার স্নায়ুতন্ত্র অত্যন্ত আদি প্রকৃতির এবং এটি মূলত একটি স্নায়ুজালিকা (Nerve net)

পরিবহন পদ্ধতি:
. এপিডার্মিস গ্যাস্ট্রোডার্মিসে থাকা সংবেদী কোষ পরিবেশ থেকে কোনো উদ্দীপনা (আলো, স্পর্শ, তাপ) গ্রহণ করে
. এই উদ্দীপনা মেসোগ্লিয়া সংলগ্ন দ্বিমেরু বা বহুদেরু স্নায়ুকোষের প্রবর্ধক দ্বারা গঠিত স্নায়ুজালিকায় সঞ্চালিত হয়
. স্নায়ুজালিকার মাধ্যমে উদ্দীপনা কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্র ছাড়াই সর্বমুখীভাবে দেহের সমস্ত পেশি-আবরণী নিডোসাইট কোষে ছড়িয়ে পড়ে এবং সম্মিলিত সাড়া সৃষ্টি করে

প্রশ্ন ২৩. হাইড্রাকে অরীয় প্রতিসম (Radially symmetrical) প্রাণী বলা হয় কেন?
উত্তর:
যেসব প্রাণীর দেহকে কেন্দ্রীয় লম্ব অক্ষ বরাবর যেকোনো তল দিয়ে কেটে একাধিকবার দুটি সমান দৃশ্যমান অংশে ভাগ করা যায়, তাদের অরীয় প্রতিসম প্রাণী বলে

ব্যাখ্যা:
. হাইড্রার দেহ গোলীয় বা সমদ্বিপার্শ্বীয় নয়; এটি সম্পূর্ণ নলাকার (Cylindrical)
. মুখীয় অক্ষ (Hypostome) থেকে অপমুখীয় অক্ষ (Basal disc) পর্যন্ত অনুদৈর্ঘ্য অক্ষকে কেন্দ্র করে হাইড্রার দেহকে যেকোনো উলম্ব তলে ছেদ করলে দুটি সমান প্রতিসম খণ্ডে বিভক্ত করা সম্ভব
এই শারীরিক গঠনের কারণেই হাইড্রাকে অরীয় প্রতিসম প্রাণী বলা হয়

প্রশ্ন ২৪. হাইড্রার অঙ্গ পুনরুৎপত্তি বা রিজেনারেশন (Regeneration) ক্ষমতা ব্যাখ্যা করো
উত্তর:
হাইড্রার দেহের কোনো হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গ পুনরায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে গঠন করার ক্ষমতাকে পুনরুৎপত্তি বা রিজেনারেশন বলে ১৭৪৪ সালে বিজ্ঞানী আব্রাহাম ট্রেম্বলে এটি আবিষ্কার করেন

ব্যাখ্যা:
. একটি হাইড্রাকে কেটে একাধিক টুকরো করলে, মেসোগ্লিয়া ইন্টারস্টিশিয়াল কোষের দ্রুত বিভাজনের মাধ্যমে প্রতিটি টুকরো থেকে পূর্ণাঙ্গ হাইড্রা পুনর্গঠিত হয়
. কাটা অংশের উপরিভাগ থেকে হাইপোস্টোম কর্ষিকা এবং নিচের ভাগ থেকে পদচাকতি তৈরি হয় এটি ইন্টারস্টিশিয়াল কোষের টোটিপোটেন্সি ক্ষমতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ

প্রশ্ন ২৫. প্রতিকূল পরিবেশে হাইড্রার ভ্রূণে সিস্ট (Cyst) গঠনের তাৎপর্য কী?
উত্তর:
লৈঙ্গিক জননের পর নিষিক্ত জাইগোট বিভাজিত হয়ে মোরুলা ব্লাস্টুলা গঠন করে এবং এর চারপাশে কাইটিনযুক্ত শক্ত আবরণ তৈরি করে, যাকে সিস্ট (Cyst) বলে

তাৎপর্য:
. পানিশূন্যতা খরা রক্ষা: শীতকালে বা গ্রীষ্মে পুকুর শুকিয়ে গেলে সিস্টের ভেতরের ভ্রূণ পানিশূন্যতা প্রচণ্ড উত্তাপ থেকে অক্ষত থাকে
. দীর্ঘ স্থায়িত্ব: সিস্ট যুক্ত ভ্রূণ কাদার ভেতরে বছরের পর বছর নিষ্ক্রিয় (ডরম্যান্ট) অবস্থায় জীবিত থাকতে পারে এবং বসন্তে অনুকূল পরিবেশ পানি পেলে সিস্ট ভেদ করে নতুন হাইড্রা বের হয়

প্রশ্ন ২৬. মেসোডার্মের অনুপস্থিতিতে মেসোগ্লিয়া কীভাবে কঙ্কাল পরিবাহী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে?
উত্তর:
হাইড্রায় কোষীয় মেসোডার্ম স্তর না থাকলেও অকোষীয় 'মেসোগ্লিয়া' দুটি কোষস্তরের মাঝে চমৎকার ভূমিকা পালন করে

কাজ:
. কঙ্কাল হিসেবে: মেসোগ্লিয়া স্থিতিস্থাপক জেলি দিয়ে গঠিত এটি জলীয় চাপ কোষস্তরের টান বজায় রেখে নমনীয় কঙ্কালের মতো হাইড্রাকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে সাহায্য করে
. পরিবাহী মাধ্যম হিসেবে: এপিডার্মিস গ্যাস্ট্রোডার্মিসের মধ্যে পুষ্টি উপাদান, দ্রবীভূত গ্যাস (O2/CO2) এবং বর্জ্য পদার্থের আদান-প্রদান মেসোগ্লিয়ার মধ্য দিয়েই ব্যাপন প্রক্রিয়ায় সংবাহিত হয়

প্রশ্ন ২৭. হাইড্রার খাদ্য পরিপাকে ক্ষণপদীয় এবং ফ্ল্যাজেলীয় কোষের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো
উত্তর:
হাইড্রার গ্যাস্ট্রোডার্মিসের পুষ্টি কোষগুলো দুই ধরনের রূপ ধারণ করে পরিপাকে বিশেষ ভূমিকা রাখে

ভূমিকা:
. ফ্ল্যাজেলীয় কোষ (Flagellated cells): এদের মুক্ত প্রান্তে -৪টি ফ্ল্যাজেলা থাকে ফ্ল্যাজেলার অনবরত সঞ্চালনে সিলেন্টরনের পানি আলোড়িত হয়, ফলে খাদ্যকণা ভেঙে ছোট ছোট টুকরোয় পরিণত হয় এবং এনজাইমের সাথে ভালোভাবে মিশ্রিত হয়
. ক্ষণপদীয় কোষ (Pseudopodial cells): ক্ষুদ্র খাদ্যকণাকে ক্ষণপদ (Pseudopodia) দ্বারা ঘিরে ফেলে ফাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কোষের ভেতরে গ্রহণ করে অন্তঃকোষীয় পরিপাক সম্পন্ন করে

প্রশ্ন ২৮. পানির শুষ্কতা বা খরা মৌসুমে হাইড্রা কীভাবে জীবন রক্ষা করে?
উত্তর:
পুকুর, ডোবা বা জলাশয়ের পানি শুকিয়ে গেলে স্বাভাবিক হাইড্রা বেঁচে থাকতে পারে না, তাই এরা বিশেষ কৌশলে জীবন রক্ষা করে

কৌশল:
. লৈঙ্গিক জননে রূপান্তর: শুষ্ক মৌসুমে হাইড্রা অলৈঙ্গিক মুকুলোদ্গম বন্ধ করে লৈঙ্গিক জনন শুরু করে
. সিস্ট গঠন: নিষেকের পর জাইগোট অত্যন্ত প্রতিরক্ষামূলক কাইটিনময় 'সিস্ট' গঠন করে জলাশয়ের কাদার নিচে অবস্থান নেয়
মাতৃহাইড্রা মারা গেলেও সিস্টের ভেতরের ভ্রূণ সুরক্ষিত থাকে এবং পরবর্তীতে বর্ষাকালে পানি ফিরে এলে নতুন হাইড্রা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে

প্রশ্ন ২৯. হাইড্রার জননাঙ্গ (শুক্রাশয় ডিম্বাশয়) গঠনের প্রক্রিয়াটি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো
উত্তর:
হাইড্রার জননাঙ্গসমূহ স্থায়ী কোনো অঙ্গ নয়; প্রজনন ঋতুতে (শরৎ শীতকালে) এরা অস্থায়ীভাবে গঠিত হয়

গঠন প্রক্রিয়া:
. শুক্রাশয় (Testis): হাইড্রার দেহের উপরিভাগের (হাইপোস্টোমের কাছে) এপিডার্মিসের ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ দ্রুত বিভাজিত হয়ে মোচাকৃতির একক বা একাধিক শুক্রাশয় তৈরি করে
. ডিম্বাশয় (Ovary): দেহের নিম্নাংশের (পদচাকতির কাছে) ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ পরিবর্তিত হয়ে গোলাকার ডিম্বাশয় গঠন করে
জনন শেষে বা বসন্তের শুরুতে এই অঙ্গগুলো পুনরায় বিলুপ্ত হয়ে যায়

প্রশ্ন ৩০. হাইড্রার গ্যাস্ট্রোডার্মিসে বিদ্যমান কোষসমূহের প্রকারভেদ প্রধান কাজসমূহ আলোচনা করো
উত্তর:
হাইড্রার অন্তস্ত্বক বা গ্যাস্ট্রোডার্মিসে মোট ধরনের কোষ দেখা যায়:

. পুষ্টি বা পেশি-আবরণী কোষ: ফ্ল্যাজেলা দ্বারা খাদ্য মেলায় এবং ক্ষণপদ দিয়ে ফাগোসাইটোসিসে পরিপাক করে
. গ্রন্থি কোষ: এনজাইম মিউকাস নিঃসরণ করে বহিঃকোষীয় পরিপাকে সাহায্য করে
. ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ: যেকোনো প্রয়োজনে অন্য কোষে রূপান্তরিত হয়ে ক্ষয়পূরণ করে
. সংবেদী কোষ: সিলেন্টরনের রাসায়নিক পরিবেশ খাদ্যবস্তুর উপস্থিতি শনাক্ত করে
. স্নায়ুকোষ: সংবেদী কোষ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে স্নায়ুজালিকায় পাঠায়