এইচএসসি জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (প্রাণীবিজ্ঞান) — স্পেশাল লেকচার শিট
অধ্যায়-২: প্রাণীর পরিচিতি — ঘাসফড়িং (Grasshopper)
টপিক: পুঞ্জাক্ষি, ওমাটিডিয়ামের গঠন ও দর্শন কৌশল (Apposition & Superposition Vision)
🎯 লক্ষ্য: এইচএসসি বোর্ড পরীক্ষায় সংবেদনশীল অঙ্গ ও দর্শন কৌশল সম্পর্কিত সকল CQ ও MCQ প্রশ্নের ১০০% পূর্ণ নম্বর নিশ্চিতকরণ।
অধ্যায় ১: ঘাসফড়িংয়ের দর্শন অঙ্গ ও পুঞ্জাক্ষির প্রাথমিক ধারণা
ঘাসফড়িং (Poekilocerus pictus) আর্থ্রোপোডা (Arthropoda) পর্বের একটি পরিচিত পতঙ্গ। এদের মস্তকে পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণের জন্য বিশেষ সংবেদনশীল অঙ্গ (Sensory organs) বিদ্যমান। ঘাসফড়িংয়ের প্রধান দর্শন অঙ্গ হলো মস্তকের পৃষ্ঠ-পার্শ্বীয় অংশে অবস্থিত এক জোড়া পুঞ্জাক্ষি (Compound Eyes) এবং তিনটি সরলাক্ষি বা ওসেলাস (Ocelli)।
১.১ সরলাক্ষি বা ওসেলাস (Ocellus, বহুবচনে Ocelli)
ঘাসফড়িংয়ের দুটি পুঞ্জাক্ষির মধ্যবর্তী স্থানে তিনটি ছোট, স্বচ্ছ ও স্পর্শকাতর সরলাক্ষি বা ওসেলাস থাকে।
● গঠন: প্রতিটি ওসেলাস স্বচ্ছ কিউটিকল নির্মিত লেন্স এবং একগুচ্ছ আলোক-সংবেদী কোষ নিয়ে গঠিত।
● কাজ: এদের কাজ আলো ও অন্ধকারের অনুভূতি সৃষ্টি করা এবং আলোর তীব্রতা অনুধাবন করা। ওসেলাস কোনো স্পষ্ট প্রতিবিম্ব বা বস্তু গঠন করতে পারে না।
১.২ পুঞ্জাক্ষি (Compound Eye)
ঘাসফড়িংয়ের মস্তকের প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ডকের পৃষ্ঠ-পার্শ্বীয় দিকে অবস্থিত দুটি বড়, কালো, বৃন্তহীন, উত্তল ও বৃক্কাকার (Kidney-shaped) অঙ্গকে পুঞ্জাক্ষি বলে।
সংগঠন: প্রতিটি পুঞ্জাক্ষি প্রায় ১২০০ থেকে ১৮০০টি স্বতন্ত্র দর্শন একক নিয়ে গঠিত। এই এককগুলিকে বলা হয় ওমাটিডিয়াম (Ommatidium, বহুবচনে Ommatidia)। প্রতিটি ওমাটিডিয়াম স্বাধীনভাবে আলো গ্রহণ করতে এবং বস্তুর আংশিক প্রতিবিম্ব তৈরি করতে সক্ষম।
সরলাক্ষি (Ocellus) ও পুঞ্জাক্ষির (Compound Eye) পার্থক্য
|
তুলনার বিষয় |
সরলাক্ষি (Ocellus) |
পুঞ্জাক্ষি (Compound Eye)
|
|
১. সংখ্যা ও অবস্থান |
সংখ্যায় ৩টি; মস্তকের মধ্যভাগে অবস্থিত। |
সংখ্যায় ২ টি; মস্তকের দুই পাশে অবস্থিত। |
|
২. গঠন একক |
কোনো একক দ্বারা গঠিত নয়; একটি মাত্র লেন্সযুক্ত। |
প্রতিটি পুঞ্জাক্ষি ১২০০-১৮০০টি ওমাটিডিয়াম নিয়ে গঠিত। |
|
৩. প্রতিবিম্ব গঠন |
বস্তুর স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠন করতে পারে না। |
বস্তুর অত্যন্ত স্পষ্ট ও খণ্ড খণ্ড প্রতিবিম্ব গঠন করে। |
|
৪. প্রধান কাজ |
আলোর তীব্রতা ও অনুভূতির পরিবর্তন শনাক্ত করা। |
বস্তুর দর্শন অনুভূতি ও প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করা। |
অধ্যায় ২: ওমাটিডিয়াম (Ommatidium) - বিস্তারিত গঠন ও অঙ্গাণুসমূহ
ওমাটিডিয়াম হলো পুঞ্জাক্ষির গঠন ও কার্যকরী একক। একটি আদর্শ ওমাটিডিয়াম বাইরে থেকে ভেতরের দিকে মোট ১০টি প্রধান অংশ বা অঙ্গাণু নিয়ে গঠিত। নিচে প্রতিটি অংশের বিস্তারিত বর্ণনা, অবস্থান ও কাজ তুলে ধরা হলো:
১. কর্নিয়া (Cornea)
গঠন ও অবস্থান: ওমাটিডিয়ামের সবচেয়ে বাইরের দিকে অবস্থিত ষড়ভুজাকার (Hexagonal), স্বচ্ছ ও উত্তল কিউটিকুলার আবরণী।
কাজ: এটি লেন্স (Lens) হিসেবে কাজ করে এবং আলোকরশ্মিকে ওমাটিডিয়ামের ভেতরে প্রবেশ ও প্রতিসরিত করতে সাহায্য করে।
২. কর্নিয়াজেন কোষ (Corneagen Cells)
গঠন ও অবস্থান: কর্নিয়ার ঠিক নিচে অবস্থানকারী এক জোড়া (২টি) চ্যাপ্টা রূপান্তরশীল কোষ।
কাজ: এরা কর্নিয়া গঠন করে এবং পুরাতন কর্নিয়া মোচিত হলে নিসৃত রসের মাধ্যমে নতুন কর্নিয়া তৈরি ও পুনর্গঠন করে।
৩. ক্রিস্টালাইন কোণ কোষ (Crystalline Cone Cells)
গঠন ও অবস্থান: কর্নিয়াজেন কোষের নিচে অবস্থিত ৪টি লম্বাটে কোষ যা ভেতরের কোণকে ঘিরে রাখে।
কাজ: এদের নিঃসৃত রসে আলো প্রতিসরণকারী ক্রিস্টালাইন কোণ গঠিত হয়।
৪. ক্রিস্টালাইন কোণ (Crystalline Cone)
গঠন ও অবস্থান: ৪টি কোণ কোষ দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং শক্ত, স্বচ্ছ, মোচাকৃতির (Cone-shaped) প্রতিসরণশীল অঙ্গাণু।
কাজ: এটি আলোকরশ্মিকে সংগৃহীত করে রেটিনুলার অঞ্চল ও র্যাবডোমে কেন্দ্রীভূত/প্রতিসরিত করে।
৫. আইরিশ রঞ্জক আবরণী / আইরিশ পিগমেন্ট শিথ (Iris Pigment Sheath)
গঠন ও অবস্থান: কর্নিয়াজেন কোষ ও ক্রিস্টালাইন কোণ কোষের চারপাশ ঘিরে থাকা কালো রঞ্জকযুক্ত (Pigment) কোষীয় আবরণ।
কাজ: আলোর তীব্রতা অনুযায়ী প্রসারিত ও সংকুচিত হয়ে ওমাটিডিয়ামে আলোক প্রবেশের পরিমাণ ও গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করে।
৬. রেটিনুলার কোষ (Retinular Cells)
গঠন ও অবস্থান: ক্রিস্টালাইন কোণের নিচে বৃত্তাকারে সজ্জিত ৭টি (বা ৮টি) লম্বাটে আলোক-সংবেদী স্নায়ুকোষ।
কাজ: এদের নিঃসৃত রসে র্যাবডোম গঠিত হয় এবং এরা আলোকরশ্মির উদ্দীপনা গ্রহণ করে স্নায়ুতন্তুতে পাঠায়।
৭. র্যাবডোম (Rhabdom)
গঠন ও অবস্থান: রেটিনুলার কোষগুলির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মাকু আকৃতির বা দণ্ডাকার অনুদৈর্ঘ্য স্বচ্ছ অঙ্গাণু। এটি রেটিনুলার কোষের ক্ষরণে তৈরি।
কাজ: এখানে আলো গৃহীত হয় এবং আলোক অনুভূতি সরাসরি স্নায়বিক সংকেতে রূপান্তরিত হয়। অর্থাৎ প্রতিবিম্ব গ্রহণে মূল ভূমিকা রাখে।
৮. রেটিনাল রঞ্জক আবরণী / রেটিনাল পিগমেন্ট শিথ (Retinal Pigment Sheath)
গঠন ও অবস্থান: রেটিনুলার কোষ ও র্যাবডোমকে বেষ্টন করে রাখা গভীর কালো রঞ্জককণাযুক্ত কোষীয় পর্দা।
কাজ: এটি একটি ওমাটিডিয়ামকে তার পার্শ্ববর্তী ওমাটিডিয়াম থেকে আলোকাভেদ্যভাবে পৃথক রাখে এবং আলোর অপবর্তন ও প্রতিফলন রোধ করে।
৯. ভিত্তি পর্দা (Basal Membrane)
গঠন ও অবস্থান: ওমাটিডিয়ামের তলদেশে অবস্থিত পাতলা, সুসংগঠিত ভিত্তিস্বরূপ মেমব্রেন।
কাজ: এটি সমস্ত ওমাটিডিয়াকে ধারণ করে এবং মস্তকের র্যাকিস বা ভিত্তির সাথে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখে।
১০. স্নায়ুতন্তু (Nerve Fibres)
গঠন ও অবস্থান: প্রতিটি রেটিনুলার কোষের তলদেশ থেকে নির্গত সূক্ষ্ম স্নায়ুসূত্র যা অপটিক স্নায়ুর (Optic Nerve) সাথে যুক্ত।
কাজ: র্যাবডোমে গৃহিত আলোক সংকেত ও প্রতিবিম্ব অনুভূতি মস্তিষ্কের প্রোটোসেরিব্রামে পৌঁছে দেয়।
২.১ ওমাটিডিয়ামের ১০টি অংশের মাস্টার সামারি টেবিল
|
অংশের নাম |
কোষের সংখ্যা/প্রকৃতি |
প্রধান বৈশিষ্ট্য |
প্রধান কাজ
|
|
১. কর্নিয়া |
অকোষীয় কিউটিকল |
ষড়ভুজাকার, স্বচ্ছ, উত্তল |
লেন্সের মতো আলো প্রবেশ করানো |
|
২. কর্নিয়াজেন কোষ |
১ জোড়া (২টি) কোষ |
চ্যাপ্টা, কর্নিয়ার নিচে স্থিত |
নতুন কর্নিয়া নিঃসরণ ও সৃষ্টি |
|
৩. কোণ কোষ |
৪টি কোষ |
লম্বাটে, কোণকে ঘিরে থাকে |
ক্রিস্টালাইন কোণ গঠন ও ক্ষরণ |
|
৪. ক্রিস্টালাইন কোণ |
অকোষীয় কঠিন অঙ্গ |
স্বচ্ছ, মোচাকৃতির অঙ্গ |
আলো সংগৃহীত ও প্রতিসরিত করা |
|
৫. আইরিশ আবরণী |
রঞ্জক কোষের পর্দা |
কালো রঞ্জকযুক্ত, পরিবর্তনশীল |
উজ্জ্বল/স্তিমিত আলো প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ |
|
৬. রেটিনুলার কোষ |
৭টি (বা ৮টি) কোষ |
লম্বা, বৃত্তাকারে সজ্জিত |
র্যাবডোম তৈরি ও স্নায়ু সংকেত গ্রহণ |
|
৭. র্যাবডোম |
অকোষীয় দণ্ড |
কেন্দ্রীয় মাকু আকৃতির গঠন |
আলো গ্রহণ ও প্রতিবিম্ব সংবেদ গ্রহণ |
|
৮. রেটিনাল আবরণী |
রঞ্জক কোষের পর্দা |
রেটিনুলার কোষ বেষ্টনকারী |
পার্শ্ববর্তী ওমাটিডিয়াম পৃথক রাখা |
|
৯. ভিত্তি পর্দা |
পাতলা ঝিল্লি/পর্দা |
তলদেশে অবস্থিত সাপোর্ট স্তর |
ওমাটিডিয়ামকে ধারণ করা |
|
১০. স্নায়ুতন্তু |
স্নায়ুকোষের অক্ষপ্রবর্ধক |
রেটিনুলার কোষের গোড়া থেকে সৃষ্ট |
মস্তিস্কে দৃশ্য সংকেত পরিবহন |
অধ্যায় ৩: ঘাসফড়িংয়ের দর্শন কৌশল (Mechanisms of Vision)
ঘাসফড়িং আলোর তীব্রতার (Intensity of Light) ওপর ভিত্তি করে দুই উপায়ে প্রতিবিম্ব গঠন করে দর্শন কার্য সম্পন্ন করে। যথা:
1. অ্যাপোজিশন বা মোজাইক প্রতিবিম্ব (Apposition or Mosaic Image) — উজ্জ্বল আলোয়।
2. সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব (Superposition Image) — স্তিমিত বা মৃদু আলোয়।
৩.১ অ্যাপোজিশন বা মোজাইক প্রতিবিম্ব গঠন (Apposition or Mosaic Vision)
দিনের বেলা বা তীব্র উজ্জ্বল আলোতে (Bright Light) ঘাসফড়িং যে কৌশল মেনে বস্তুর প্রতিবিম্ব তৈরি করে তাকে অ্যাপোজিশন বা মোজাইক দর্শন কৌশল বলে।
প্রক্রিয়া ও মেকানিজম:
1. রঞ্জক আবরণের প্রসারণ: তীব্র আলোতে আইরিশ পিগমেন্ট শিথ এবং রেটিনাল পিগমেন্ট শিথ সম্পূর্ণ প্রসারিত হয়ে ক্রিস্টালাইন কোণ ও রেটিনুলার কোষকে সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলে। ফলে প্রতিটি ওমাটিডিয়াম তার পার্শ্ববর্তী ওমাটিডিয়াম থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও আলোকাভেদ্য হয়ে পড়ে।
2. উলম্ব আলোকরশ্মির গ্রহণ: বস্তু থেকে আগত কেবল লম্বালম্বি বা উলম্ব (Perpendicular) আলোকরশ্মই কর্নিয়া ও ক্রিস্টালাইন কোণ অতিক্রম করে সরাসরি র্যাবডোমে পৌঁছায়।
3. তির্যক আলোকরশ্মির শোষন: বস্তু থেকে আগত তির্যক বা বাঁকা (Oblique) আলোকরশ্মিগুলি প্রসারণশীল কালো আইরিশ রঞ্জক আবরণে আপতিত হয়ে শোষিত হয়ে যায় এবং র্যাবডোমে পৌঁছাতে পারে না।
4. মোজাইক প্রতিবিম্ব গঠন: এর ফলে প্রতিটি ওমাটিডিয়াম বস্তুর নির্দিষ্ট একটি ক্ষুদ্র বিন্দুর পৃথক ও স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠন করে। পুঞ্জাক্ষির সবকটি ওমাটিডিয়ামে গঠিত হাজার হাজার ক্ষুদ্র খণ্ড চিত্র একত্রে যুক্ত হয়ে মেঝের মোজাইকের মতো সম্পূর্ণ বস্তুর একটি সুস্পষ্ট, নিখুঁত অথচ খণ্ড খণ্ড প্রতিবিম্ব তৈরি করে। একে মোজাইক প্রতিবিম্ব বলে।
৩.২ সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব গঠন (Superposition Vision)
সন্ধ্যাবেলা, রাতে কিংবা স্তিমিত/আবছা আলোতে (Dim Light) ঘাসফড়িং যে কৌশলে প্রতিবিম্ব গঠন করে তাকে সুপারপজিশন দর্শন কৌশল বলে।
প্রক্রিয়া ও মেকানিজম:
1. রঞ্জক আবরণের সংকোচন: স্তিমিত আলোতে আইরিশ পিগমেন্ট শিথ সংকুচিত হয়ে কর্নিয়ার দিকে এবং রেটিনাল পিগমেন্ট শিথ সংকুচিত হয়ে ভিত্তি পর্দার দিকে গুটিয়ে যায়। ফলে ওমাটিডিয়ামগুলির মধ্যবর্তী প্রাচীর অনাবৃত ও উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।
2. উলম্ব ও তির্যক উভয় রশ্মির প্রবেশ: সংসংলগ্ন পর্দা অনাবৃত থাকায় নিজস্ব ওমাটিডিয়ামের লম্বালম্বি রশ্মি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী একাধিক ওমাটিডিয়াম থেকে আগত তির্যক (Oblique) আলোকরশ্মিও কোণ অতিক্রম করে একই র্যাবডোমে এসে পতিত হয়।
3. প্রতিবিম্বের উপর পাতন (Superposition): একাধিক ওমাটিডিয়াম থেকে আগত আলোকরশ্মি একটিমাত্র র্যাবডোমে এসে একে অপরের ওপর আপতিত বা ওভারল্যাপ (Superimpose) করে।
4. অস্পষ্ট সামগ্রিক প্রতিবিম্ব: এর ফলে বস্তুর একটি সামগ্রিক (Overall) কিন্তু অস্পষ্ট, ঝাপসা ও ধারাবাহিক প্রতিবিম্ব তৈরি হয়। মৃদু আলোতে বস্তু শনাক্ত করতেই এই কৌশল ব্যবহৃত হয়।
অধ্যায় ৪: অ্যাপোজিশন ও সুপারপজিশন প্রতিবিম্বের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
৪.১ মাস্টার পার্থক্য ছক: অ্যাপোজিশন বনাম সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব
|
তুলনার মানদণ্ড |
অ্যাপোজিশন / মোজাইক প্রতিবিম্ব |
সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব
|
|
১. আলোর উপস্থিতি |
তীব্র ও উজ্জ্বল আলোতে (দিনের বেলা) ঘটে। |
স্তিমিত ও মৃদু আলোতে (সন্ধ্যা/রাত্রে) ঘটে। |
|
২. রঞ্জক আবরণের অবস্থা |
আইরিশ ও রেটিনাল শিথ প্রসারিত থাকে। |
আইরিশ ও রেটিনাল শিথ সংকুচিত থাকে। |
|
৩. ওমাটিডিয়ামের অবস্থা |
প্রতিটি ওমাটিডিয়াম পৃথক ও আবৃত থাকে। |
ওমাটিডিয়াম অনাবৃত ও পারস্পরিক উন্মুক্ত থাকে। |
|
৪. আলোকরশ্মির গতিপথ |
শুধু লম্বালম্বি বা উলম্ব রশ্মি র্যাবডোমে পৌঁছায়। |
উলম্ব এবং তির্যক উভয় আলোকরশ্মি পৌঁছায়। |
|
৫. তির্যক রশ্মির পরিণতি |
রঞ্জক আবরণীতে শোষিত হয়ে যায়। |
পাশাপাশি অন্য ওমাটিডিয়ামের র্যাবডোমে পতিত হয়। |
|
৬. আলোকরশ্মির আপতন |
একটি র্যাবডোমে একটি আলোকরশ্মিই পড়ে। |
একটি র্যাবডোমে একাধিক ওমাটিডিয়ামের রশ্মি পড়ে। |
|
৭. প্রতিবিম্বের প্রকৃতি |
খণ্ড খণ্ড, পৃথক ও মোজাইকের মতো নিখুঁত। |
একটির ওপর অন্য রশ্মি আপতিত ঝাপসা চিত্র। |
|
৮. প্রতিবিম্বের স্পষ্টতা |
অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও তীক্ষ্ণ (Clear & Sharp)। |
অস্পষ্ট, অস্পষ্ট সীমারেখা ও ঝাপসা (Blurred)। |
|
৯. জৈবনিক গুরুত্ব |
বস্তুর সূক্ষ্ম অঙ্গসংস্থান ও নিখুঁত রূপ দেখা। |
কম আলোতে বস্তুর উপস্থিতি ও গতিবিধি টের পাওয়া। |
অধ্যায় ৫: বোর্ড পরীক্ষা টেকনিক ও রিভিশন নোটস
● ক-সংক্রান্ত প্রশ্ন: ওমাটিডিয়াম, র্যাবডোম, ওসেলাস ইত্যাদির ১ বাক্যের নির্দিষ্ট সংজ্ঞা মুখস্থ রাখবে।
● খ-সংক্রান্ত প্রশ্ন: 'আইরিশ রঞ্জক আবরণের ভূমিকা', 'ঘাসফড়িংয়ের দৃষ্টিকে কেন মোজাইক দৃষ্টি বলে?' ইত্যাদি প্রশ্ন ২ নম্বরের জন্য খুব জনপ্রিয়।
●
গ ও ঘ-সংক্রান্ত সৃজনশীল: প্রবাহচিত্র (Flowchart) একে উত্তর দিলে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া
যায়। যেমন:
[উজ্জ্বল আলো] ➔ [রঞ্জক আবরণী প্রসারণ] ➔
[তির্যক রশ্মি শোষণ] ➔ [শুধু উলম্ব রশ্মি গ্রহণ] ➔
[স্বতন্ত্র খণ্ড প্রতিবিম্ব] ➔
[মোজাইক প্রতিবিম্ব]
অধ্যায় ৬: বোর্ড পরীক্ষার সৃজনশীল প্রশ্ন (CQ) ও উত্তর ব্যাংক
সৃজনশীল প্রশ্ন ১ [ঢাকা বোর্ড ২০২১ / রাজশাহী বোর্ড ২০২৩]
উদ্দীপক: জীববিজ্ঞান ক্লাসে শিক্ষক ঘাসফড়িংয়ের মস্তকের একটি বিশেষ দর্শন অঙ্গের চিত্র 'A' অঙ্কন করে এর ১০টি ভিন্ন অংশের কাজ বোঝালেন। পরবর্তীতে তিনি বললেন, "দিনের বেলায় এই অঙ্গটি বস্তুর অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও পৃথক চিত্র তৈরি করে, কিন্তু আবছা বা স্তিমিত আলোতে বস্তুর ঝাপসা ও সামগ্রিক চিত্র তৈরি হয়।"
ক. ওমাটিডিয়াম (Ommatidium) কাকে বলে? [১]
উত্তর: ঘাসফড়িংয়ের পুঞ্জাক্ষির গঠন ও কাজের একক তথা স্বাধীনভাবে প্রতিবিম্ব গঠনে সক্ষম প্রতিটি ষড়ভুজাকার দর্শন একককে ওমাটিডিয়াম বলে।
খ. ঘাসফড়িংয়ের হিমোসিলকে রক্তপূর্ণ দেহগহ্বর বলা হয় কেন? [২]
উত্তর: ঘাসফড়িংয়ের দেহগহ্বর মেসোডার্মাল পেরিটোনিয়াম পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে না এবং এটি সবসময় রক্ত বা হিমোলিম্ফ (Hemolymph) দিয়ে পূর্ণ থাকে। ভ্রূণীয় বিকাশের সময় ব্লাস্টোসিল ও প্রকৃত সিলোগ যুক্ত হয়ে এই রক্তপূর্ণ গহ্বর গঠন করে। যেহেতু এই গহ্বরে রক্ত মুক্তভাবে সংবাহিত হয় এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গাদি রসে নিমজ্জিত থাকে, তাই একে রক্তপূর্ণ দেহগহ্বর বা হিমোসিল (Haemocoel) বলা হয়।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' চিত্রের আলোক-সংবেদী ও আলো-প্রতিসরণকারী অঙ্গাণুগুলির বিবরণ দাও। [৩]
উত্তর: উদ্দীপকে 'A' চিহ্নিত চিত্রটি হলো ঘাসফড়িংয়ের পুঞ্জাক্ষির একক ওমাটিডিয়াম।
ওমাটিডিয়ামের আলো-প্রতিসরণকারী অঙ্গাণুসমূহ হলো:
১. কর্নিয়া: এটি সবচেয়ে বাইরের উত্তল ও ষড়ভুজাকার স্বচ্ছ লেন্স যা আলো প্রতিসরিত করে ভেতরে প্রবেশ করায়।
২. ক্রিস্টালাইন কোণ: ৪টি কোণ কোষ দ্বারা তৈরি স্বচ্ছ, শক্ত মোচাকৃতির অংশ যা আলোকরশ্মিকে কেন্দ্রীভূত করে সংবেদী অংশে পাঠায়।
ওমাটিডিয়ামের আলোক-সংবেদী অঙ্গাণুসমূহ হলো:
১. রেটিনুলার কোষ: কোণ কোষের নিচে অবস্থিত ৭টি লম্বা আলোক-সংবেদী স্নায়ুকোষ। এরা আলোকরশ্মির সংবেদন গ্রহণ করে স্নায়ুতন্তুতে পাঠায়।
২. র্যাবডোম: রেটিনুলার কোষের কেন্দ্রে অবস্থিত মাকু আকৃতির স্বচ্ছ দণ্ড। এটি আলো সরাসরি গ্রহণ করে প্রতিবিম্ব অনুভূতির সৃষ্টি করে।
ঘ. উদ্দীপকে শিক্ষক কর্তৃক উল্লিখিত ভিন্ন আলোর পরিস্থিতিতে গঠিত প্রতিবিম্বদ্বয়ের গঠন কৌশল বিশ্লেষণ করো। [৪]
উত্তর: উদ্দীপকে উল্লিখিত দিনে বা উজ্জ্বল আলোতে গঠিত প্রতিবিম্ব হলো 'অ্যাপোজিশন বা মোজাইক প্রতিবিম্ব' এবং স্তিমিত বা আবছা আলোতে গঠিত প্রতিবিম্ব হলো 'সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব'। নিচে এদের গঠন কৌশল বিশ্লেষণ করা হলো:
১. উজ্জ্বল আলোয় অ্যাপোজিশন প্রতিবিম্ব গঠন: তীব্র আলোতে আইরিশ ও রেটিনাল পিগমেন্ট শিথ সম্পূর্ণ প্রসারিত হয়ে প্রতিটি ওমাটিডিয়ামকে ঢেকে ফেলে। ফলে পার্শ্ববর্তী ওমাটিডিয়াম পৃথক হয়ে যায় এবং বস্তুর তির্যক আলোকরশ্মি রঞ্জক আবরণে শোষিত হয়। কেবল লম্বালম্বি বা উলম্ব আলোকরশ্মই কর্নিয়া ও কোণ অতিক্রম করে র্যাবডোমে পৌঁছায়। প্রতিটি ওমাটিডিয়াম বস্তুর একটি বিন্দুর পৃথক চিত্র গড়ে তোলে। সব চিত্র মিলে মোজাইকের মতো অত্যন্ত স্পষ্ট খণ্ড প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।
২. স্তিমিত আলোয় সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব গঠন: মৃদু আলোতে আইরিশ ও রেটিনাল পিগমেন্ট শিথ সংকুচিত হয়ে গুটিয়ে যায়, ফলে ওমাটিডিয়ামের দেওয়াল উন্মুক্ত হয়। নিজস্ব উলম্ব রশ্মির পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী অন্যান্য ওমাটিডিয়াম থেকে আগত তির্যক আলোকরশ্মিও কোণ অতিক্রম করে একই র্যাবডোমে আপতিত হয়। একাধিক রশ্মির ওভারল্যাপিং বা উপরিপাতনের ফলে বস্তুর একটি সামগ্রিক কিন্তু অস্পষ্ট ও ঝাপসা প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ২ [চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২ / কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩]
উদ্দীপক: জীববিজ্ঞান ল্যাবরেটরিতে শিক্ষক ডায়াগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দেখালেন কীভাবে একটি পতঙ্গ দিনের প্রখর আলোতে একটি বস্তুর হাজারো খণ্ড অংশ যুক্ত করে সম্পূর্ণ বস্তু দেখে এবং সন্ধ্যায় একই বস্তু ঝাপসা দেখে।
ক. ওসেলাস (Ocellus) কী? [১]
উত্তর: ঘাসফড়িংয়ের দুটি পুঞ্জাক্ষির মাঝখানে অবস্থিত লেন্স ও আলোক-সংবেদী কোষযুক্ত তিনটি ক্ষুদ্র সরলাক্ষিকে ওসেলাস বলে।
খ. আইরিশ পিগমেন্ট আবরণের সংকোচন-প্রসারণের জৈবনিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো। [২]
উত্তর: আইরিশ পিগমেন্ট আবরণী ওমাটিডিয়ামে আলো প্রবেশের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। তীব্র আলোতে এটি প্রসারিত হয়ে কোণ কোষকে ঢেকে ফেলে, যাতে ক্ষতিকারক অতিরিক্ত বা তির্যক আলো প্রবেশ করতে না পারে এবং স্পষ্ট অ্যাপোজিশন প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। আবার স্তিমিত আলোতে এটি সংকুচিত হয়ে পার্শ্ববর্তী আলো প্রবেশে সহায়তা করে সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব গঠনে ভূমিকা রাখে।
গ. উদ্দীপকে পতঙ্গটির দিনের বেলা প্রখর আলোতে প্রতিবিম্ব গঠনের প্রক্রিয়া বিস্তারিত বর্ণনা করো। [৩]
উত্তর: প্রখর বা তীব্র আলোতে পতঙ্গটি (ঘাসফড়িং) অ্যাপোজিশন বা মোজাইক প্রক্রিয়ায় প্রতিবিম্ব গঠন করে। প্রখর আলোতে ওমাটিডিয়ামের আইরিশ ও রেটিনাল রঞ্জক আবরণ প্রসারিত হয়। এর ফলে প্রতিটি ওমাটিডিয়াম আলাদা হয়ে যায়। আলোকরশ্মি যখন বস্তুর ওপর পড়ে, তখন বস্তু থেকে আগত তির্যক রশ্মিগুলি রঞ্জক আবরণে শোষিত হয়। শুধুমাত্র লম্বালম্বি বা উলম্বভাবে পতিত আলোকরশ্মি কর্নিয়া ও ক্রিস্টালাইন কোণের মাধ্যমে প্রতিসরিত হয়ে সরাসরি র্যাবডোমে পতিত হয়। ফলে প্রতিটি ওমাটিডিয়ামে বস্তুর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশের স্বতন্ত্র স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। সব ওমাটিডিয়ামের খণ্ড প্রতিবিম্ব একত্রে মিলিত হয়ে বস্তুর সম্পূর্ণ সুস্পষ্ট মোজাইক চিত্র গঠন করে।
ঘ. উদ্দীপকে নির্দেশিত ভিন্ন সময়ের দর্শন কৌশলের তুলনামূলক যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো। [৪]
উত্তর: উদ্দীপকে নির্দেশিত দর্শন কৌশল দুটি হলো অ্যাপোজিশন (দিনের বেলা) ও সুপারপজিশন (সন্ধ্যাবেলা)। এদের তুলনামূলক যৌক্তিকতা নিচে মূল্যায়ন করা হলো:
১. স্পষ্টতা বনাম স্পর্শকাতরতা: দিনের বেলায় প্রচুর আলো থাকায় ঘাসফড়িংয়ের জন্য বস্তুর সূক্ষ্ম সীমানা ও নিখুঁত বিবরণ দেখা জরুরি। অ্যাপোজিশন প্রক্রিয়ায় তির্যক রশ্মি বর্জন করে কেবল স্পষ্ট উলম্ব রশ্মি গ্রহণ করায় নিখুঁত অ্যাপোজিশন প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়।
২. আলোর স্বল্পতায় অভিযোজন: সন্ধ্যায় বা রাতে আলো অত্যন্ত কম থাকে। তখন যদি কেবল উলম্ব রশ্মি গ্রহণ করা হতো, তবে পর্যাপ্ত আলোর অভাবে ঘাসফড়িং কিছুই দেখতে পেত না। তাই সুপারপজিশন প্রক্রিয়ায় রঞ্জক আবরণ সংকুচিত করে তির্যক রশ্মিও গ্রহণ করা হয়। এতে চিত্র ঝাপসা হলেও কম আলোতে শত্রু বা খাবারের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়।
অতএব, ঘাসফড়িংয়ের বেঁচে থাকা ও পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য দুটি কৌশলই নিজস্ব সময়ে পরম প্রয়োজনীয় ও পরিবেশগতভাবে অভিযোজিত।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৩ [দিনাজপুর বোর্ড ২০২১ / যশোর বোর্ড ২০২২]
উদ্দীপক: রফিক ঘাসের ওপর বসে থাকা একটি ঘাসফড়িং লক্ষ্য করল। সে খেয়াল করল ঘাসফড়িংটি প্রখর সূর্যালোকের সময় একদম নিভুলভাবে ঘাসের শিষ বেছে নিচ্ছে, কিন্তু গোধূলিলগ্নে এর চলাফেরায় কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে।
ক. র্যাবডোম (Rhabdom) কী? [১]
উত্তর: ওমাটিডিয়ামের রেটিনুলার কোষসমূহ দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং তাদের ক্ষরণে গঠিত অক্ষীয়, দণ্ডাকার, স্বচ্ছ আলোক-সংবেদী অঙ্গাণুকে র্যাবডোম বলে।
খ. ক্রিস্টালাইন কোণ কোষের কাজ কী? [২]
উত্তর: ক্রিস্টালাইন কোণ কোষ সংখ্যায় ৪টি। এদের প্রধান কাজ হলো স্বচ্ছ ও কঠিন আলো-প্রতিসরণকারী ক্রিস্টালাইন কোণ গঠন ও ক্ষরণ করা, যা আপতিত আলোকরশ্মিকে সংগৃহীত করে র্যাবডোমে পাঠায়।
গ. রফিকের পর্যবেক্ষণকৃত ঘাসফড়িংয়ের সংবেদী অঙ্গ ওমাটিডিয়ামের গঠন ব্যাখ্যা করো। [৩]
উত্তর: ঘাসফড়িংয়ের ওমাটিডিয়াম ১০টি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত: (১) কর্নিয়া, (২) কর্নিয়াজেন কোষ, (৩) ক্রিস্টালাইন কোণ কোষ, (৪) ক্রিস্টালাইন কোণ, (৫) আইরিশ পিগমেন্ট শিথ, (৬) রেটিনুলার কোষ, (৭) র্যাবডোম, (৮) রেটিনাল পিগমেন্ট শিথ, (৯) ভিত্তি পর্দা এবং (১০) স্নায়ুতন্তু।
ঘ. রফিকের পর্যবেক্ষণকৃত সূর্যালোক ও গোধূলিলগ্নের দর্শন কৌশলের বৈপরীত্য বিশ্লেষণ করো। [৪]
উত্তর: রফিকের দেখা প্রখর সূর্যালোকের দর্শন কৌশল হলো 'অ্যাপোজিশন' এবং গোধূলিলগ্নের দর্শন কৌশল হলো 'সুপারপজিশন'। অ্যাপোজিশনে কেবল লম্বালম্বি আপতিত রশ্মি র্যাবডোমে পৌঁছায় এবং পিগমেন্ট শিথ প্রসারিত থাকে। ফলে স্পষ্ট চিত্র গঠিত হয়। অন্যদিকে গোধূলিলগ্নের সুপারপজিশনে পিগমেন্ট শিথ সংকুচিত হয় এবং লম্বালম্বি ও তির্যক উভয় রশ্মিই র্যাবডোমে পতিত হয়ে ঝাপসা চিত্র সৃষ্টি করে।
অধ্যায় ৭: বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ Bank)
1.
ঘাসফড়িংয়ের পুঞ্জাক্ষিতে
ওমাটিডিয়ামের সংখ্যা কতটি?
ক. ৫০০-১০০০ খ. ১২০০-১৮০০
গ. ২০০০-২৫০০ ঘ. ৩০০০-৩৫০০
উত্তর: খ. ১২০০-১৮০০ [ঢাকা বোর্ড-২০২২]
ব্যাখ্যা: ঘাসফড়িংয়ের প্রতিটি পুঞ্জাক্ষিতে
প্রায় ১২০০ থেকে ১৮০০টি ওমাটিডিয়াম থাকে।
2.
ওমাটিডিয়ামের কোন অংশটি
লেন্সের মতো কাজ করে?
ক. ক্রিস্টালাইন কোণ খ. কর্নিয়া
গ. র্যাবডোম ঘ. কর্নিয়াজেন কোষ
উত্তর: খ. কর্নিয়া [রাজশাহী বোর্ড-২০২১]
ব্যাখ্যা: ওমাটিডিয়ামের সর্ববহিস্থ ষড়ভুজাকার
কিউটিকল নির্মিত কর্নিয়া লেন্স হিসেবে আলো প্রবেশে সাহায্য করে।
3.
কর্নিয়াজেন কোষের সংখ্যা
কয়টি?
ক. ১টি খ. ২টি গ. ৪টি
ঘ. ৭টি
উত্তর: খ. ২টি [চট্টগ্রাম বোর্ড-২০২০]
ব্যাখ্যা: কর্নিয়ার ঠিক নিচে ১ জোড়া বা
২টি চ্যাপ্টা কর্নিয়াজেন কোষ থাকে।
4.
ক্রিস্টালাইন কোণ কোন কোষের
নিসৃত রসে গঠিত হয়?
ক. কর্নিয়াজেন কোষ খ. ক্রিস্টালাইন কোণ
কোষ গ. রেটিনুলার কোষ ঘ. আইরিশ রঞ্জক কোষ
উত্তর: খ. ক্রিস্টালাইন কোণ কোষ [দিনাজপুর বোর্ড-২০২৩]
ব্যাখ্যা: ৪টি ক্রিস্টালাইন কোণ কোষের
নিঃসৃত রসে শক্ত, স্বচ্ছ ক্রিস্টালাইন কোণ তৈরি হয়।
5.
ওমাটিডিয়ামে আলোক-সংবেদী
অংশ কোনটি?
ক. কর্নিয়া খ. ক্রিস্টালাইন কোণ
গ. র্যাবডোম ঘ. ভিত্তি পর্দা
উত্তর: গ. র্যাবডোম [যশোর বোর্ড-২০২২]
ব্যাখ্যা: রেটিনুলার কোষ নিসৃত র্যাবডোমে
আলোক সংকেত গৃহিত ও সংবেদ তৈরি হয়।
6.
রেটিনুলার কোষের সংখ্যা কয়টি?
ক. ২ টি খ. ৪ টি গ. ৭ টি
ঘ. ১০ টি
উত্তর: গ. ৭ টি [কুমিল্লা বোর্ড-২০২১]
ব্যাখ্যা: প্রতিটি ওমাটিডিয়ামে বৃত্তাকারে
৭টি (বা কোনো প্রজাতিতে ৮টি) রেটিনুলার কোষ থাকে।
7.
উজ্জ্বল আলোতে ঘাসফড়িংয়ে
কোন ধরণের প্রতিবিম্ব গঠিত হয়?
ক. সুপারপজিশন খ. অ্যাপোজিশন
গ. বাইনোকুলার ঘ. মনোকুলার
উত্তর: খ. অ্যাপোজিশন [সিলেট বোর্ড-২০২২]
ব্যাখ্যা: তীব্র বা উজ্জ্বল আলোতে খণ্ড
খণ্ড ও স্পষ্ট অ্যাপোজিশন বা মোজাইক প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।
8.
স্তিমিত আলোতে গঠিত প্রতিবিম্বকে
কী বলে?
ক. অ্যাপোজিশন খ. মোজাইক
গ. সুপারপজিশন ঘ. সরল প্রতিবিম্ব
উত্তর: গ. সুপারপজিশন [বরিশাল বোর্ড-২০২৩]
ব্যাখ্যা: স্তিমিত বা আবছা আলোতে আলোকরশ্মির
ওভারল্যাপিংয়ের মাধ্যমে সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়।
9.
অ্যাপোজিশন প্রতিবিম্ব গঠনের
সময় রঞ্জক আবরণীর অবস্থা কেমন থাকে?
ক. সংকুচিত খ. প্রসারিত
গ. অপরিবর্তিত ঘ. বিলুপ্ত
উত্তর: খ. প্রসারিত [ময়মনসিংহ বোর্ড-২০২২]
ব্যাখ্যা: তীব্র আলোয় আইরিশ ও রেটিনাল
শিথ প্রসারিত হয়ে প্রতিটি ওমাটিডিয়ামকে আলাদা রাখে।
10.
ঘাসফড়িংয়ের সরলাক্ষি বা ওসেলাসের
সংখ্যা কতটি?
ক. ১টি খ. ২টি গ. ৩টি
ঘ. ৪টি
উত্তর: গ. ৩টি [ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা]
ব্যাখ্যা: ঘাসফড়িংয়ের মস্তকের পুঞ্জাক্ষিদ্বয়ের
মাঝে ৩টি ওসেলাস থাকে।