জীববিজ্ঞান ২য় পত্র : হাইড্রা (Hydra)
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তরপত্র
উচ্চমাধ্যমিক জীববিজ্ঞান — অধ্যায় ২: প্রাণীর পরিচিতি (হাইড্রা)
সকল বোর্ড সৃজনশীল প্রশ্ন, চিত্রসমূহের লিখিত বিবরণ ও পূর্ণাঙ্গ সমাধান
সৃজনশীল প্রশ্ন ১
উদ্দীপক: নিচের চিত্রটি লক্ষ্য করো এবং প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।
📌 চিত্রের লিখিত বিবরণ (Image Description) |
▪ ক. শিখা কোষ কী?
উত্তর: প্লাটিহেলমিনথেস (Platyhelminthes) পর্বের প্রাণীদের প্রধান রেচন অঙ্গানু হলো শিখা কোষ (Flame Cell)। এটি রেচন ও অসমোরেগুলেশনে সহায়তা করে।
▪ খ. ত্রিপদ নামকরণ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম যখন গণ (Genus), প্রজাতি (Species) এবং উপ-প্রজাতি (Sub-species)—এই তিনটি পদ বা শব্দ নিয়ে গঠিত হয়, তাকে ত্রিপদ নামকরণ (Trinomial Nomenclature) বলে। উদাহরণস্বরূপ: মানুষের একটি উপ-প্রজাতি Homo sapiens sapiens।
▪ গ. উদ্দীপকের প্রাণীটির (হাইড্রা) যৌন প্রজনন বর্ণনা করো।
উত্তর: হাইড্রা সাধারণত হেমন্ত ও শীতকালে অনুকূল পরিবেশে যৌন প্রজনন সম্পন্ন করে। এদের প্রজনন ধাপসমূহ নিম্নরূপ:
১. জননাঙ্গ সৃষ্টি: ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ থেকে দেহের উপরের অংশে শঙ্কুআকার শুক্রাশয় এবং নিচের অংশে গোলাকার ডিম্বাশয় তৈরি হয়।
২. গ্যামেট সৃষ্টি: শুক্রাশয়ে Spermatogenesis প্রক্রিয়ায় বহু অণুবীক্ষণিক একপ্রান্তিক চাবুকযুক্ত শুক্রাণু এবং ডিম্বাশয়ে Oogenesis প্রক্রিয়ায় একটি বড় ডিম্বাণু তৈরি হয়।
৩. নিষেধ (Fertilization): পরিপক্ক শুক্রাণু মুক্ত হয়ে সাঁতরে গিয়ে ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে জাইগোট গঠন করে।
৪. স্ফুটন ও বিকাশ: জাইগোট সিস্ট (Cyst) গঠন করে শীতকাল অতিক্রম করে এবং অনুকূল পরিবেশে ছোট হাইড্রা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
▪ ঘ. উদ্দীপকের প্রাণীটি কীভাবে অন্যান্য মাংসাশী প্রাণীর ন্যায় পরিপাক সম্পন্ন করে তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: হাইড্রা একটি মাংসাশী প্রাণী। এরা ছোট সাইক্লপ্স, ডাফনিয়া ইত্যাদি শিকার করে দুই ধাপে পরিপাক সম্পন্ন করে:
১. বহিঃকোষীয় পরিপাক (Extracellular Digestion): কষিকা ও নেমাটোসিস্টের সাহায্যে শিকার ধরে মুখছিদ্র দিয়ে গ্যাস্ট্রোভাস্কুলার গহ্বরে (সিলেন্টেরন) নিয়ে আসে। সেখানে গ্রন্থিকোশ থেকে নিঃসৃত পাচক রস (এনজাইম) খাদ্যকে নরম ও ক্ষুদ্র অংশে পরিণত করে।
২. অন্তঃকোষীয় পরিপাক (Intracellular Digestion): ক্ষণপদীয় কোষের সাহায্যে আংশিক পরিপাককৃত খাদ্যকণা গ্রাস করে খাদ্য গহ্বর গঠন করে। সেখানে অ্যাসিড ও এনজাইমের সাহায্যে খাদ্য সম্পূর্ণ পরিপাক হয়। শোষিত পুষ্টিসার সারাদেহে ব্যাপ্ত হয় এবং অপাচ্য অংশ মুখছিদ্র দিয়ে বের হয়ে যায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ২
উদ্দীপক: নিচের চিত্রটি লক্ষ্য করো এবং উত্তর দাও।
📌 চিত্রের লিখিত বিবরণ (Image Description) |
▪ ক. মাছ কী?
উত্তর: মাছ হলো শীতল রক্তবিশিষ্ট, সঙ্গোপাঙ্গবিশিষ্ট, পাখনাযুক্ত এবং ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য পরিচালনাকারী জলজ মেরুদণ্ডী প্রাণী।
▪ খ. মেসোগ্লিয়াকে অকোষীয় স্তর বলা হয় কেন?
উত্তর: হাইড্রার এপিডার্মিস (বহিঃত্বক) ও গ্যাস্ট্রোডার্মিসের (অন্তঃত্বক) মাঝখানে অবস্থিত জেলি সদৃশ স্বচ্ছ, স্থিতিস্থাপক এবং কোষহীন আঠালো স্তরকে মেসোগ্লিয়া বলে। যেহেতু এতে কোনো নির্দিষ্ট কোষ, কেন্দ্রক বা সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু থাকে না, তাই একে অকোষীয় স্তর বলা হয়।
▪ গ. উদ্দীপকের চিত্র ‘K’ এর প্রকারভেদ বর্ণনা করো।
উত্তর: চিত্র ‘K’ হলো হাইড্রার নেমাটোসিস্ট। নেমাটোসিস্ট মূলত ৪ ধরনের:
১. স্টিনোটিল (Stenotele): সবচেয়ে বড়, হিপনোটক্সিন বিষাক্ত রসে পূর্ণ এবং ৩টি বড় বার্ব ও সারিবদ্ধ বারবিউলযুক্ত।
২. ভলভেন্ট (Volvent): ছোট, ডিম্বাকার এবং বন্ধ পেঁচানো সুত্রকযুক্ত যা শিকারকে পেঁচিয়ে ধরে।
৩. স্ট্রেপ্টোলিন গ্লুটিন্যান্ট: স্বর্পিলভাবে পেঁচানো ও কাঁটাযুক্ত আঠালো সুত্রক যা আঠালো রস ক্ষরণ করে।
৪. স্টেরিওলাইন গ্লুটিন্যান্ট: ক্ষুদ্রতম, কাঁতাহীন সোজা সুত্রকযুক্ত যা চলনে ও আটকে থাকতে সাহায্য করে।
▪ ঘ. উদ্দীপকের ‘K’ চিহ্নিত অঙ্গটির (নিডোসাইট/নেমাটোসিস্ট) বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে—বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: নিডোসাইট/নেমাটোসিস্ট হলো হাইড্রার প্রধান আত্মরক্ষা, খাদ্য গ্রহণ ও চলন অঙ্গাণু। এর বহুমুখী ব্যবহার নিচে আলোচনা করা হলো:
১. খাদ্য গ্রহণ ও শিকার ধরা: স্টিনোটিল নেমাটোসিস্ট হিপনোটক্সিন প্রয়োগ করে শিকারকে অবশ করে এবং ভলভেন্ট শিকারকে পেঁচিয়ে ধরে মুখে প্রবেশ করায়।
২. আত্মরক্ষা: শত্রুর আক্রমণ থেকে বাঁচতে স্টিনোটিল বিষাক্ত হিপনোটক্সিন ছড়ায়, যা আত্মরক্ষার প্রধান হাতিয়ার।
৩. চলন ও সংযুক্তি: গ্লুটিন্যান্ট নেমাটোসিস্ট থেকে আঠালো রস নিঃসৃত হয় যা হাইড্রাকে সাবস্ট্রেট বা কোনো বস্তুর সাথে আটকে থাকতে এবং গ্লাইডিং/লুপিং চলনে সাহায্য করে।
সুতরাং, হাইড্রার জীবনধারণে নেমাটোসিস্টের ভূমিকা অপরিসীম।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৩
উদ্দীপক: নিচের চিত্রটি লক্ষ্য করো (হাইড্রার বাহ্যিক গঠন ও কষিকা/পাদচাকতি 'P' ও 'Q' চিহ্নিত চিত্র)।
📌 চিত্রের লিখিত বিবরণ (Image Description) |
▪ ক. হাইপোস্টোম কী?
উত্তর: হাইড্রার দেহের মুক্ত দূরবর্তী প্রান্তে অবস্থিত মোচাকৃতির উঁচু অংশ, যার চূড়ায় মুখছিদ্র অবস্থিত, তাকে হাইপোস্টোম (Hypostome) বলে।
▪ খ. স্টেরিওগ্যাস্ট্রুলা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: হাইড্রার ভ্রূণীয় বিকাশের সময় গঠিত নিরেট গ্যাস্ট্রুলা দশা, যার ভেতরে কোনো গ্যাস্ট্রোসিল (আদি পৌষ্টিক গহ্বর) থাকে না, তাকে স্টেরিওগ্যাস্ট্রুলা (Stereogastrula) বা প্যালানুলা লার্ভা বলে।
▪ গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটির এপিডার্মিসের কোষসমূহের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করো (লিখিত বিবরণ)।
উত্তর: হাইড্রার এপিডার্মিসে (বহিঃত্বকে) ৭ ধরনের কোষ থাকে:
১. পেশি-আবরণী কোষ (Musculo-epithelial cells): দেহ আবরণ ও সংকোচন-প্রসারণে কাজ করে।
২. ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ (Interstitial cells): পুনরুৎপত্তি ও পুনর্গঠনে অংশ নেয়।
৩. সংবেদী কোষ (Sensory cells): উদ্দীপনা গ্রহণ করে।
৪. স্নায়ু কোষ (Nerve cells): উদ্দীপনা পরিবহন করে।
৫. গ্রন্থি কোষ (Gland cells): আঠালো রস নিঃসরণ করে।
৬. জনন কোষ (Germ cells): শুক্রাণু ও ডিম্বাণু তৈরি করে।
৭. নিডোসাইট (Cnidocyte): শিকার ধরা ও আত্মরক্ষা করে।
▪ ঘ. উদ্দীপকের 'P' অংশগুলো (কষিকা) খাদ্য সংগ্রহের পাশাপাশি চলন কাজেও অংশ নেয়—আলোচনা করো।
উত্তর: উদ্দীপকের 'P' অংশটি হলো হাইড্রার কষিকা (Tentacles)।
১. খাদ্য সংগ্রহ: কষিকায় অবস্থিত নেমাটোসিস্টের সাহায্যে শিকার অবশ করে এবং কষিকাগুলোকে বাঁকিয়ে শিকারকে সরাসরি মুখছিদ্রে পৌঁছে দেয়।
২. চলনে ভূমিকা:
- ডাবাবাজি (Somersaulting): কষিকার ওপর ভর দিয়ে দেহকে উল্টিয়ে দ্রুত চলন সম্পন্ন করে।
- হাঁটা (Walking): কষিকাকে পায়ের মতো ব্যবহার করে সোজা হয়ে হাঁটতে পারে।
- সাতার (Swimming): কষিকাগুলোকে পানিতে ঢেউয়ের মতো দোলা দিয়ে হাইড্রা সাঁতার কাটে।
- লুপিং (Looping): কষিকা দ্বারা স্থান স্পর্শ করে লুপ তৈরি করে ধীরগতিতে চলে।
অতএব, কষিকা খাদ্য গ্রহণ ও চলন উভয় কাজেই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৪
উদ্দীপক: নিচের চিত্রটি লক্ষ্য করো এবং প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।
📌 চিত্রের লিখিত বিবরণ (Image Description) |
▪ ক. হাইপোস্টোম কাকে বলে?
উত্তর: হাইড্রার দেহের মুক্ত প্রান্তে অবস্থিত মোচাকৃতির অংশ যার চূড়ায় মুখছিদ্র থাকে তাকে হাইপোস্টোম বলে।
▪ খ. স্পার্মাটোজেনেসিস বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যে জৈবিক প্রক্রিয়ায় শুক্রাশয়ের ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ থেকে বিভাজন ও রূপান্তরের মাধ্যমে পরিপক্ক হ্যাপ্লয়েড শুক্রাণু (Sperm) উৎপন্ন হয়, তাকে স্পার্মাটোজেনেসিস বলে।
▪ গ. উদ্দীপকের চিত্রের 'P' (কষিকা) এর কাজ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: 'P' চিহ্নিত অংশটি হলো কষিকা। এর প্রধান কাজসমূহ হলো:
১. এটি শিকার ধরা ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
২. কষিকায় সংবেদী কোষ থাকায় তা স্পর্শ ও রাসায়নিক উদ্দীপনা গ্রহণ করে।
৩. চলনের সময় (লুপিং, সামারসল্টিং) দেহের ভর বহন ও আঁকড়ে ধরতে সাহায্য করে।
৪. আত্মরক্ষার সময় শত্রুকে আঘাত করতে সাহায্য করে।
▪ ঘ. প্রাণীদেহে উদ্দীপকের 'Q' (পদচাকতি) চিহ্নিত অংশের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: 'Q' চিহ্নিত অংশটি হলো পদচাকতি (Basal Disc)। হাইড্রার জীবনে এর তাৎপর্য অপরিসীম:
১. সংলগ্নতা/আটকে থাকা: পদচাকতি থেকে নিঃসৃত আঠালো রসে হাইড্রা জলজ বস্তু বা উদ্ভিদের সাথে দৃঢ়ভাবে আটকে থাকে।
২. গ্লাইডিং চলন: পদচাকতির মসৃণ পেশি কোশ ক্ষণপদ তৈরি করে সমতলে পিছলিয়ে (Gliding) চলতে সাহায্য করে।
৩. বুদ্বুদ তৈরি ও ভাসন: পদচাকতির গ্রন্থিকোষ থেকে গ্যাসের বুদ্বুদ তৈরি হয় যা হাইড্রাকে পানিতে ভেসে থাকতে সাহায্য করে।
৪. আত্মরক্ষা: ক্ষতিকর পরিবেশ থেকে ভিত্তিচ্যুত হয়ে সরে যেতে পদচাকতি ভূমিকা রাখে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৫
উদ্দীপক: হাইড্রাতে হিপনোটক্সিন পূর্ণ বিশেষ ধরণের কোষ রয়েছে যা দিয়ে প্রাণীটি আত্মরক্ষা ও খাদ্য গ্রহণের কাজ করে।
📌 চিত্রের লিখিত বিবরণ (Image Description) |
▪ ক. ওমাটিডিয়াম কী?
উত্তর: ঘাসফড়িং বা সন্ধিপদী প্রাণীর পুঞ্জাক্ষির গঠনগত ও কার্যগত একককে ওমাটিডিয়াম (Ommatidium) বলে।
▪ খ. মুক্ত সংবহন বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যে রক্ত সংবহনতন্ত্রে রক্ত হূদযন্ত্র থেকে ধমনির মাধ্যমে বের হয়ে উন্মুক্ত দেহগহ্বরে (হিমোসিল) প্রবেশ করে এবং পুনরায় শিরা দিয়ে হূদযন্ত্রে ফিরে আসে, তাকে মুক্ত সংবহন বলে (যেমন: ঘাসফড়িং, রেশম পোকা)।
▪ গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটির বিশেষ ধরনের কোষের (নিডোসাইট) চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করো (লিখিত রূপ)।
উত্তর: নিডোসাইট কোষের প্রধান অংশসমূহ:
১. অপারকূলাম (Operculum): কোষের মুখের ঢাকনা।
২. নিডোসিল (Cnidocil): সংবেদী কাঁটা যা ট্রিগার হিসেবে কাজ করে।
৩. নেমাটোসিস্ট থলি (Nematocyst sac): হিপনোটক্সিন বিষে ভরা প্রোটিন-ফেনল মিশ্রিত থলি।
৪. সূত্রক (Shaft/Thread): কাঁটাযুক্ত বার্ব ও বারবিউল বিশিষ্ট নালিকা।
৫. লাসো (Lasso): সংকোচনশীল পেঁচানো সুতা যা থলিকে ধরে রাখে।
▪ ঘ. নিম্নশ্রেণীর উদ্ভিদের সাথে উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটির (হাইড্রা) সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: উদ্দীপকের প্রাণী হাইড্রা (সবুজ হাইড্রা - Hydra viridissima) এবং নিম্নশ্রেণীর এককোষী সবুজ শৈবাল (Zoochlorella)-এর মধ্যে মিথোজীবিতা (Symbiosis) সম্পর্ক বিদ্যমান।
উভয়ের পারস্পরিক উপকারিতা:
১. শৈবালের উপকার: শৈবাল হাইড্রার গ্যাস্ট্রোডার্মাল কোষে আশ্রয় পায় এবং হাইড্রার শসন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট CO₂ ব্যবহার করে শালোকসংশ্লেষণ করে।
২. হাইড্রার উপকার: শৈবাল শালোকসংশ্লেষণে যে O₂ তৈরি করে তা হাইড্রা শ্বসনে ব্যবহার করে। এছাড়া শৈবালের প্রস্তুতকৃত শর্করা হাইড্রা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে এবং হাইড্রার বর্জ্য NH₃ শৈবাল গ্রহণ করে দেহ পরিচ্ছন্ন রাখে।
সুতরাং, এদের মধ্যে গড়ে ওঠা মিথোজীবিতা সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৬
উদ্দীপক: নিচের চিত্রের আলোকে প্রশ্নগুলির উত্তর দাও। (চিত্র L: হাইড্রার মুকুল ও চলন ব্যবস্থা/পেশি কোষ)।
📌 চিত্রের লিখিত বিবরণ (Image Description) |
▪ ক. মিথোজীবিতা কী?
উত্তর: যখন দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীব একে অপরের ওপর নির্ভর করে একত্রে বসবাস করে এবং উভয়ই পরস্পর দ্বারা উপকৃত হয়, তখন সেই সাহচর্যকে মিথোজীবিতা (Symbiosis) বলে।
▪ খ. ডিগবাজি চলন বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ডিগবাজি বা সামারসল্টিং (Somersaulting) হলো হাইড্রার দ্রুত চলন প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় হাইড্রা কষিকার ওপর ভর দিয়ে দেহকে বাঁকিয়ে উল্টে দেয় এবং পুনরায় পদচাকতির ওপর ভর দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায়।
▪ গ. উদ্দীপকের 'L' চিত্রের (মুকুল/গ্যাস্ট্রোভাস্কুলার গহ্বর) গঠন বর্ণনা করো।
উত্তর: চিত্র 'L' হাইড্রার গ্যাস্ট্রোভাস্কুলার গহ্বর (সিলেন্টেরন) বা মুকুল গঠন নির্দেশ করে।
১. সিলেন্টেরন: হাইড্রার কেন্দ্রীয় ফাঁপা গহ্বর যা পরিপাক ও সংবহন উভয় কাজ করে। এটি মেসোগ্লিয়া দ্বারা পরিবেষ্টিত।
২. মুকুল (Bud): গ্রীষ্মকালে পর্যাপ্ত খাদ্যে দেহের মধ্যভাগে ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ দ্রুত বিভাজিত হয়ে উপবৃদ্ধি বা মুকুল তৈরি করে, যা পরে মাতৃদেহের ন্যায় কষিকা, হাইপোস্টোম ও পদচাকতি লাভ করে বিচ্ছিন্ন হয়।
▪ ঘ. একই প্রাণীর ভিন্ন ভিন্ন কোষে 'P' অংশের (ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ) বিভিন্ন প্রকারভেদ দেখা যায়—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: 'P' চিহ্নিত অংশটি হলো টোটিপোটেন্ট ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ (Interstitial cell)। এই কোষটি হাইড্রার বহুগুণসম্পন্ন কোষ:
১. প্রয়োজন অনুযায়ী এটি এপিডার্মিস বা গ্যাস্ট্রোডার্মিসের যে কোনো কোষে (পেশি-আবরণী, নিডোসাইট, সংবেদী কোষ, স্নায়ু কোষ) রূপান্তরিত হতে পারে।
২. এটি প্রজননকালে জনন কোষে (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) পরিবর্তিত হয়।
৩. দেহের ক্ষয়পূরণ, মুকুল সৃষ্টি এবং অঙ্গ পুনর্গঠনে ইন্টারস্টিশিয়াল কোষের ভূমিকা অনন্য।
তাই একে হাইড্রার সর্বগুণসম্পন্ন কোষ বলা হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৭
উদ্দীপক: হাইড্রার বহিঃত্বকে এক বিশেষ ধরণের কোষ আছে যা শিকার ও আত্মরক্ষায় সাহায্য করে। আবার বহিঃত্বক ও অন্তঃত্বকে অন্য এক ধরণের কোষ আছে যা পুনরুৎপত্তি ঘটাতে পারে।
📌 চিত্রের লিখিত বিবরণ (Image Description) |
▪ ক. মিথোজীবিতা কী?
উত্তর: দুটি ভিন্ন জীব সান্নিধ্যে থেকে যদি উভয়েই উপকৃত হয় তবে সেই যৌথ জীবনযাপনকে মিথোজীবিতা বলে।
▪ খ. হাইড্রার স্ব-নিষেধ ঘটে না কেন?
উত্তর: হাইড্রা উভলিঙ্গ প্রাণী হওয়া সত্ত্বেও এদের স্ব-নিষেধ (Self-fertilization) ঘটে না, কারণ এদের পুংজননাঙ্গ (শুক্রাশয়) এবং স্ত্রীজননাঙ্গ (ডিম্বাশয়) ভিন্ন সময়ে পরিপক্কতা লাভ করে (Protandry/প্রোট্যান্ড্রি অবস্থা)।
▪ গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ ধরনের কোষটির (নিডোসাইট) সূত্রক নিক্ষিপ্ত অবস্থার চিত্ররূপ দেখাও (লিখিত বিবরণ)।
উত্তর: নিক্ষিপ্ত অবস্থায় নিডোসাইট কোষের রূপ চিত্রায়ন:
১. অপারকূলাম খোলা অবস্থায় থাকে।
২. সর্পিল সূত্রকটি কোষের বাইরে উন্মুক্ত ও প্রসারিত হয়।
৩. সূত্রকের গোড়ায় থাকা বার্ব (Barb) এবং ক্ষুদ্র বারবিউল (Barbiules) বাইরের দিকে সোজা হয়ে সংকেত দেয়।
৪. বিষাক্ত হিপনোটক্সিন সূত্রকের নালিকা দিয়ে বাইরে নির্গত হয়।
▪ ঘ. উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে বর্ণিত কোষটি (ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ) প্রাণীর বংশবৃদ্ধির সাথে জড়িত—বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে বর্ণিত কোষটি হলো ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ। এটি বংশবৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে:
১. অযৌন প্রজনন (মুকুলোদ্গম): ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ দ্রুত মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে সংখ্যা বৃদ্ধি করে মুকুল (Bud) গঠন করে যা নতুন স্বাধীন হাইড্রায় পরিণত হয়।
২. যৌন প্রজনন: প্রজনন ঋতুতে এই কোষগুলো রূপান্তরিত হয়ে শুক্রাশয়ে প্রাক-শুক্রাণু এবং ডিম্বাশয়ে প্রাক-ডিম্বাণু তৈরি করে।
৩. পুনরুৎপত্তি (Regeneration):দেহের কোনো অংশ কেটে গেলে ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ দ্রুত বিভাজিত হয়ে নতুন অঙ্গ বা সম্পূর্ণ নতুন হাইড্রা তৈরি করে।
অতএব, হাইড্রার বংশবৃদ্ধি ও প্রজনন সম্পূর্ণভাবে ইন্টারস্টিশিয়াল কোষের ওপর নির্ভরশীল।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৮
উদ্দীপক: Hydra-এর বহিঃত্বক এবং অন্তঃত্বকে বিভিন্ন ধরণের কোষ বিদ্যমান। এই কোষগুলোর নামের দিক থেকে কিছু মিল ও কিছু অমিল রয়েছে।
📌 চিত্রের লিখিত বিবরণ (Image Description) |
▪ ক. চলন কী?
উত্তর: যে জৈবিক প্রক্রিয়ায় জীব স্বতঃস্ফূর্তভাবে শক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে নিজস্ব প্রচেষ্টায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয়, তাকে চলন বলে।
▪ খ. অন্তঃকোষীয় পরিপাক বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: খাদ্যকণা যখন কোষের অভ্যন্তরে খাদ্য গহ্বরে (Food vacuole) প্রবেশ করে এনজাইমের সাহায্যে পরিপাকপ্রাপ্ত হয়, তখন তাকে অন্তঃকোষীয় পরিপাক বলে।
▪ গ. উদ্দীপকের প্রাণীটির বহিঃত্বকের তুলনায় অন্তঃত্বকে যে কোষগুলো অনুপস্থিত সেগুলোর বর্ণনা দাও।
উত্তর: হাইড্রার এপিডার্মিসে ৭ প্রকার এবং গ্যাস্ট্রোডার্মিসে ৫ প্রকার কোষ থাকে। গ্যাস্ট্রোডার্মিসে অনুপস্থিত ৩টি প্রধান কোষের বর্ণনা:
১. নিডোসাইট (Cnidocyte): শিকার ধরা ও আত্মরক্ষা কোষ, যা কেবল বহিঃত্বকে থাকে।
২. জনন কোষ (Germ cells): শুক্রাণু ও ডিম্বাণু সৃষ্টিকারী কোষ, যা কেবল বহিঃত্বকে উৎপন্ন হয়।
৩. রঞ্জক কোষ/অতিরিক্ত সংবেদী আবরণী কোষ যা অন্তঃত্বকে অনুপস্থিত।
▪ ঘ. উদ্দীপকে প্রাণীটির দেহে বিদ্যমান দুটি কোষস্তরের (বহিঃত্বক ও অন্তঃত্বক) পার্থক্য লেখো।
উত্তর: বহিঃত্বক (Epidermis) ও অন্তঃত্বক (Gastrodermis)-এর প্রধান পার্থাক্যসমূহ:
১. উৎপত্তি: বহিঃত্বক ভ্রূণীয় একটোডার্ম থেকে এবং অন্তঃত্বক এন্ডোডার্ম থেকে উৎপন্ন।
২. কোষের সংখ্যা: বহিঃত্বকে ৭ প্রকার এবং অন্তঃত্বকে ৫ প্রকার কোষ থাকে।
৩. নিডোসাইট: বহিঃত্বকে নিডোসাইট প্রচুর পরিমাণে থাকে, অন্তঃত্বকে থাকে না।
৪. কাজ: বহিঃত্বকের কাজ আত্মরক্ষা, চলন, উদ্দীপনা গ্রহণ ও প্রজনন। অন্যদিকে অন্তঃত্বকের কাজ খাদ্য পরিপাক ও শোষণ।
৫. ফ্ল্যাজেলা ও ক্ষণপদ: গ্যাস্ট্রোডার্মাল কোষে ফ্ল্যাজেলা ও ক্ষণপদ থাকে, যা এপিডার্মিসে দেখা যায় না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৯
উদ্দীপক: হাইড্রার বহিঃত্বকে অবস্থিত এক ধরণের কোষ শিকার ধরা এবং চলনে সহায়তা করে। তাছাড়া এর গ্যাস্ট্রোডার্মিসে এক ধরণের উদ্ভিদ বাস করে। এই সহাবস্থানে উভয়ে উপকৃত হয়।
📌 চিত্রের লিখিত বিবরণ (Image Description) |
▪ ক. মেসোগ্লিয়া কী?
উত্তর: হাইড্রার এপিডার্মিস ও গ্যাস্ট্রোডার্মিস স্তরের মাঝামাঝি অবস্থিত কোষহীন, অসংকোচনশীল, জেলি সদৃশ স্বচ্ছ স্তরে মেসোগ্লিয়া (Mesoglea) বলে।
▪ খ. দ্বি-স্তরী প্রাণী বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যে সকল প্রাণীর ভ্রূণীয় বিকাশকালে দেহের প্রাচীর কেবল দুটি প্রধান কোষীয় স্তর (বাইরের একটোডার্ম ও ভেতরের এন্ডোডার্ম) নিয়ে গঠিত হয়, তাদেরকে দ্বি-স্তরী বা ডিপ্লোব্লাস্টিক (Diploblastic) প্রাণী বলে। যেমন: হাইড্রা।
▪ গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত (বহিঃত্বকের) কোষটির (নিডোসাইট) গঠন বর্ণনা করো।
উত্তর: নিডোসাইট কোষের গঠন:
১. থলি/নেমাটোসিস্ট: এটি কাইটিন নির্মিত দ্ব প্রাচীরবিশিষ্ট প্রোটিন ও ফেনল (হিপনোটক্সিন) পূর্ণ থলি।
২. অপারকূলাম: থলির মুখের ঢাকনা।
৩. নিডোসিল: কোষের মুক্ত প্রান্তে অবস্থিত শক্ত সংবেদী কাঁটা।
৪. পেঁচানো সুত্রক: থলির ভেতরে গুটানো অবস্থায় থাকা ফাঁপা নল।
৫. সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস: কোষের গোড়ার দিকে সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস অবস্থান করে।
▪ ঘ. উদ্দীপকের শেষের উক্তিটির (মিথোজীবিতা) যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: উদ্দীপকের শেষের উক্তিটি হাইড্রা ও চিড়িয়াখানা শৈবালের (Zoochlorella) মধ্যকার মিথোজীবিতাকে নির্দেশ করে। উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ:
১. আশ্রয়ের সুবিধা: শৈবাল হাইড্রার গ্যাস্ট্রোডার্মিসের নিরাপদ আশ্রয়ে বাস করে।
২. খাদ্য উৎপাদন ও গ্রহণ: শৈবাল আলোকসংশ্লেষণে শর্করা তৈরি করে যা হাইড্রা গ্রহণ করে। হাইড্রার শ্বসনে নির্গত CO₂ শৈবাল গ্রহণ করে।
৩. বর্জ্য নিষ্কাশন: হাইড্রার নাইট্রোজেনঘটিত রেচন বর্জ্য শৈবাল প্রোটিন তৈরিতে কাজে লাগায়, ফলে হাইড্রা বর্জ্যমুক্ত হয়।
যেহেতু উভয় জীব একে অপরের দ্বারা উপকৃত হয় এবং কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, তাই এটি একটি নিখুঁত মিথোজীবিতার উদাহরণ।