শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম

DYNAMIC CAREER IT & EDUCATION CARE

শিক্ষা, পরীক্ষা প্রস্তুতি ও বিষয়ভিত্তিক পাঠের নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম
আবেদন ফর্ম
153পাঠক 17মিনিট Biology 2nd Paper

সর্বশেষ পোস্ট

20টি
বর্তমান

ঘাসফড়িং (Grasshopper) সম্পূর্ণ আলোচনা | HSC Biology 2nd Paper | MCQ, CQ & Admission Guide

HSC 17মিনিট পড়া
ঘাসফড়িং (Grasshopper) সম্পূর্ণ আলোচনা | HSC Biology 2nd Paper | MCQ, CQ & Admission Guide

উচ্চ মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (প্রাণীবিজ্ঞান) | অধ্যায় ২: প্রাণীর পরিচিতি
ঘাসফড়িং (Grasshopper - Poekilocerus pictus)

এইচএসসি বোর্ড পরীক্ষা, মেডিকেল (MAT) ও বিশ্ববিদ্যালয় (DU, RU, CU, GST) ভর্তি পরীক্ষার ১০০% কমন উপযোগী

📌 লেকচার শিট গাইডলাইন ও শিখনফল
এই মাস্টার লেকচার শিটটি এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে যাতে ঘাসফড়িং অধ্যায়ের প্রতিটি তত্ত্ব, অঙ্গসংস্থান, অভ্যন্তরীণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াসমূহ (পরিপাক, সংবহন, শ্বসন, রেচন, স্নায়ু ও রূপান্তর) বিস্তারিত চিত্রাত্মক ব্যাখ্যামূলক টেক্সট ও ছক আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর শেষে ২০টি উচ্চমানের MCQ এবং সৃজনশীল (CQ) প্রশ্নোত্তর যুক্ত রয়েছে।

১. ভূমিকা, শ্রেণিবিন্যাসগত অবস্থান ও বাসস্থান (Introduction & Taxonomy)

ঘাসফড়িং হলো সন্ধিপদী (Arthropoda) পর্বের পতঙ্গ (Insecta) শ্রেণির অত্যন্ত বহুল পরিচিত তৃণভোজী প্রাণী। পৃথিবীজুড়ে প্রায় ২০,০০০ প্রজাতির ঘাসফড়িং পাওয়া যায়। বাংলাদেশে সাধারণত 'Poekilocerus pictus' (চিত্রিত ঘাসফড়িং) বহুল দেখা যায়, যা আকন্দ গাছের পাতা খেয়ে বেঁচে থাকে। বিশাল ঝাঁক বেঁধে মাইলের পর মাইল ফসল ধ্বংসকারী ঘাসফড়িংকে 'পঙ্গপাল' (Locust) বলা হয় (যেমন: Schistocerca gregaria)।

ঘাসফড়িংয়ের বিস্তারিত শ্রেণিবিন্যাস (Taxonomic Classification):

ধাপ (Taxon)

নাম (Name)

বৈশিষ্ট্যগত কারণ / ভিত্তি (Diagnostic Feature)

জগৎ (Kingdom)

Animalia

বহুকোষী, হেটারোট্রফিক, কোষপ্রাচীরবিহীন ও প্লাস্টিডহীন।

পর্ব (Phylum)

Arthropoda

সন্ধিল উপাঙ্গ, কাইটিনময় বহিরাবরণ ও রক্তপূর্ণ হিমোসিল থাকে।

উপপর্ব (Subphylum)

Hexapoda

দেহে ৩ জোড়া পা বা মোট ৬টি পা বিদ্যমান।

শ্রেণী (Class)

Insecta

দেহ ৩ অংশে বিভক্ত (মস্তক, বক্ষ, উদর), ১ জোড়া এন্টেনা ও ডানা থাকে।

উপশ্রেণী (Subclass)

Pterygota

ডানাবিশিষ্ট এবং রূপান্তর ঘটে এমন পতঙ্গ।

বর্গ (Order)

Orthoptera

সোজা অগ্রডানা (Tegmina) এবং লাফানোর উপযোগী শক্তিশালী পশ্চাৎ পা।

গোত্র (Family)

Pyrgomorphidae

কোণাকৃতি মস্তক এবং স্বল্প দৈর্ঘ্যের এন্টেনা (Short-horned).

গণ (Genus)

Poekilocerus

দেহে উজ্জ্বল হলুদ ও নীল রঞ্জক দাগ ও স্ট্রাইপযুক্ত।

প্রজাতি (Species)

Poekilocerus pictus

আকন্দ গাছের পাতাভোজী চিত্রিত ঘাসফড়িং প্রজাতি।

২. বাহ্যিক অঙ্গসংস্থান ও চর্বন উপযোগী মুখোপাঙ্গ (External Morphology & Mandulate Mouthparts)

ঘাসফড়িংয়ের দেহ দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম, সরু, লম্বা ও নলাকার (প্রায় ৮ সেন্টিমিটার লম্বা)। এদের সমগ্র দেহ কাইটিনময় শক্ত পাত্তর মতো বহিরাবরণে ঢাকা থাকে, যাদের **স্ক্লেরাইট (Sclerite)** বলে। দুটি স্ক্লেরাইটের মধ্যবর্তী নমনীয় সেলাইয়ের মতো খাঁজকে **সুচার (Suture)** বলা হয়।

দেহ ৩টি প্রধান অঞ্চলে বিভক্ত: (ক) মস্তক, (খ) বক্ষ এবং (গ) উদর।

ক. মস্তক (Head) ও হাইপোগনেথাস গঠন:

  • হাইপোগনেথাস মস্তক: ঘাসফড়িংয়ের মুখছিদ্র নিচের দিকে নিম্নমুখী হয়ে থাকে। এই প্রকারের মস্তক গঠনকে **হাইপোগনেথাস (Hypognathous)** বলা হয়।
  • মস্তক ক্যাপসুল: ভ্রূণ অবস্থায় মস্তক ৬টি খণ্ডকের একীভবনে গঠিত একটি শক্ত ক্যাপসুল (Head capsule বা Epicranium)। মস্তকের চূড়াকে **ভার্টেক্স (Vertex)**, কপালের অংশকে **ফ্রনস (Frons)**, গালের অংশকে **জেনা (Gena)** এবং ফ্রনসের নিচের অংশকে **ক্লাইপিয়াস (Clypeus)** বলে।
  • সংবেদী অঙ্গ: মস্তকে ১ জোড়া সুতাকৃতি (Filiform) এন্টেনা, ১ জোড়া পুঞ্জাক্ষি (Compound eyes), ৩টি সরল চোখ বা ওসেলি (Ocelli) এবং মুখোপাঙ্গ থাকে। এন্টেনার ৩টি অংশ: স্কেপ (Scape), পেডিসেল (Pedicel) ও ফ্ল্যাজেলাম (Flagellum)।

খ. চর্বন উপযোগী মুখোপাঙ্গ (Mandulate Mouthparts):

ঘাসফড়িং শক্ত পাতা ও উদ্ভিদ চিবিয়ে খাওয়ার উপযোগী ৫ প্রকারের মুখোপাঙ্গ ধারণ করে:

  • ১. ল্যাব্রাম (Labrum / উপরের ঠোঁট): মুখছিদ্রের ঠিক ওপরে অবস্থিত আয়তাকার পাতলা চর্মবৎ স্ক্লেরাইট। এটি খাদ্যবস্তুকে ধরে রাখতে এবং ম্যান্ডিবলের দিকে ঠেলে দিতে সাহায্য করে।
  • ২. ম্যান্ডিবল (Mandibles / প্রধান চোয়াল): ল্যাব্রামের নিচে অবস্থিত ১ জোড়া কালো, ত্রিকোণাকার, অত্যন্ত শক্ত কাইটিনময় চোয়াল। এর ভেতরের খাঁজকাটা অংশকে দাঁত বা ইনসাইসর (Incisor) ও মোলার (Molar) অঞ্চল বলে। কাজ: খাদ্য কেটে কুচি করা ও পেষণ করা।
  • ৩. ম্যাক্সিলা (Maxillae / দ্বিতীয় চোয়াল): ম্যান্ডিবলের পেছনে অবস্থিত ১ জোড়া গৌণ চোয়াল। প্রতিটি ম্যাক্সিলা ৫টি খণ্ডে বিভক্ত: (i) কার্ডো (Cardo), (ii) স্টিপস (Stipes), (iii) ল্যাসিনিয়া (Lacinia - কাইটিনময় দাঁতযুক্ত চর্বন অঙ্গ), (iv) গ্যালিয়া (Galea - টুপি সদৃশ ঢাকনা) এবং (v) ৫-খণ্ডকযুক্ত ম্যাক্সিলারি পাল্প (Maxillary palp)। কাজ: খাদ্য ধরা, আস্বাদন করা ও পরিষ্কার রাখা।
  • ৪. ল্যাবিয়াম (Labium / নিচের ঠোঁট): মুখছিদ্রের নিচে অবস্থিত মধ্যবর্তী একক স্ক্লেরাইট (দ্বিতীয় জোড়া ম্যাক্সিলার একীভবনে গঠিত)। এর প্রধান অংশ: সাবমেন্টাম, মেন্টাম, প্রি-মেন্টাম এবং ১ জোড়া ৩-খণ্ডকযুক্ত লাবিয়াল পাল্প (Labial palp)। কাজ: খাদ্য যাতে মুখ থেকে পড়ে না যায় তা রক্ষা করা ও খাদ্য নির্বাচন করা।
  • ৫. হাইপোফ্যারিংস (Hypopharynx / উপজিহ্বা): ল্যাবিয়ামের গোড়ায় অবস্থিত মাংসল ছোট উপবৃদ্ধি (জিহ্বা সদৃশ)। লালা গ্রন্থির নালী এর গোড়ায় উন্মুক্ত হয়। কাজ: খাদ্যের সাথে লালারস মিশ্রিত করা।

গ. বক্ষ (Thorax) ও উদর (Abdomen):

  • বক্ষ খণ্ডক: বক্ষ ৩টি খণ্ডকে বিভক্ত: অগ্রবক্ষ (Prothorax), মধ্যবক্ষ (Mesothorax) ও পশ্চাৎবক্ষ (Metathorax)। প্রতিটি খণ্ডকের পৃষ্ঠীয় পাতকে **টেরগাম (Tergum)**, অংকীয় পাতকে **স্টারনাম (Sternum)** এবং পার্শ্বীয় পাতকে **প্লিউরন (Pleuron)** বলে। অগ্রবক্ষের টেরগামটি বেশ বড় ও ঘোড়ার খুরের মতো, একে **প্রোনোটার্ম (Pronotum)** বলে।
  • ডানা (Wings): ঘাসফড়িংয়ে ২ জোড়া ডানা থাকে। মধ্যবক্ষীয় অগ্রডানা দুটো শক্ত, চর্মবৎ, কাইটিনময় ও অপ্রসারিত; একে **টেগমিনা (Tegmina)** বা ইলাইট্রা (Elytra) বলে। এটি উড়তে সাহায্য করে না, কেবল পশ্চাৎ ডানাকে ঢেকে রাখে। পশ্চাৎবক্ষীয় ডানা দুটি পাতলা, ঝিল্লিভিত্তিক ও প্রসারিত যা উড়তে প্রধান ভূমিকা রাখে।
  • পা (Legs): বক্ষের ৩টি খণ্ডক থেকে ৩ জোড়া পা বের হয়। প্রতিটি পা ৫টি অংশে বিভক্ত: (i) কক্সা (Coxa), (ii) ট্রোক্যান্টার (Trochanter), (iii) ফিমার (Femur), (iv) টিবিয়া (Tibia) ও (v) টার্সাস (Tarsus - ৩টি টার্সোমিয়ার নিয়ে গঠিত)। পশ্চাৎপায়ের ফিমার অত্যন্ত দীর্ঘ ও শক্তিশালী যা লাফাতে সাহায্য করে, একে **Saltatorial leg** বলে।
  • উদর ও জননাঙ্গ: উদর ১১টি খণ্ডক নিয়ে গঠিত। ১ম উদরীয় খণ্ডকে ১ জোড়া শ্রবণ অঙ্গ বা **টিম্পানাম (Tympanum)** থাকে। ১ম থেকে ৮ম উদরীয় খণ্ডকের প্রতি পাশে ১ জোড়া করে মোট ৮ জোড়া শ্বাসরন্ধ্র (Spiracle) থাকে। ৯ম ও ১০ম খণ্ডকে জননাঙ্গ অবস্থিত (স্ত্রীতে ওভিপোজিটর)।

৩. পৌষ্টিক তন্ত্র ও পরিপাক প্রক্রিয়া (Digestive System & Nutrition)

ঘাসফড়িংয়ের পৌষ্টিক তন্ত্রটি একটি সরল নলাকার পৌষ্টিকনালী এবং আনুষঙ্গিক লালাগ্রন্থি নিয়ে গঠিত। পৌষ্টিকনালী ভ্রূণীয় উৎপত্তির ওপর ভিত্তি করে ৩টি প্রধান ভাগে বিভক্ত:

ক. পৌষ্টিকনালীর গঠন (Structure of Alimentary Canal):

  • ১. স্টোমোডিয়াম বা অগ্র-পৌষ্টিকনালী (Foregut): ভ্রূণীয় এক্টোডার্ম (Ectoderm) থেকে তৈরি এবং ভেতরের স্তরে কাইটিনময় কিউটিকল থাকে। এর অংশগুলো হলো: (i) মুখছিদ্র, (ii) গলবিল, (iii) গ্রাসনালী, (iv) **ক্রপ (Crop)** - খাদ্য জমা রাখা ও লালারস দ্বারা খাদ্য সামান্য পরিপাকের থলি, এবং (v) **গিজার্ড (Gizzard / Proventriculus)** - কাইটিনময় প্রাচীরযুক্ত। গিজার্ডের ভেতরে **৬টি কাইটিনময় দাঁত (Chitinous teeth)**, ৬টি অনুদৈর্ঘ্য ভাঁজ এবং অসংখ্য চুল/প্যাড থাকে। কাজ: খাদ্য মিহি চূর্ণ করা ও ছাঁকন।
  • ২. মেসেন্টেরন বা মধ্য-পৌষ্টিকনালী (Midgut): ভ্রূণীয় এন্ডোডার্ম (Endoderm) থেকে তৈরি এবং কিউটিকলবিহীন। এটি খাদ্য পরিপাক ও শোষণের মূল অঞ্চল। এর প্রাচীরে ক্ষরণকারী কোষ থাকে। স্টোমোডিয়াম ও মেসেন্টেরনের সংযোগস্থলে ৬ জোড়া (মোট ১২টি) নলাকার অন্ধনালী থাকে, যাদের **হেপাটিক সিকি (Hepatic Caeca)** বা গ্যাস্ট্রিক সিকি বলে। এরা পরিপাক রস ক্ষরণ করে।
  • ৩. প্রোক্টোডিয়াম বা পশ্চাৎ-পৌষ্টিকনালী (Hindgut): ভ্রূণীয় এক্টোডার্ম থেকে তৈরি এবং অভ্যন্তরে কিউটিকলযুক্ত। অংশগুলো হলো: (i) **ইলিয়াম (Ileum)**, (ii) **কোলন (Colon)**, (iii) **রেকটাম বা মলাশয় (Rectum)** - যার প্রাচীরে ৬টি **রেকটাল প্যাপিলা (Rectal papillae)** থাকে যা পানি ও লবণ শোষণ করে, এবং (iv) **পায়ুছিদ্র (Anus)**।

📌 গিজার্ড ও হেপাটিক সিকির কাজ (Medical Highlight)
• গিজার্ডের কাইটিনময় ৬টি দাঁত খাদ্যকে পিষে মিহি কাদা বা পেস্টে পরিণত করে।
• হেপাটিক সিকি থেকে ক্ষরিত পাচক রসে অ্যামাইলেজ, মালটেজ, ইনভার্টেজ, প্রোটিনেজ ও লাইপেজ এনজাইম থাকে যা শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ পদার্থ পরিপাক করে।

৪. মুক্ত সংবহন তন্ত্র ও রক্ত সঞ্চালন (Open Circulatory System)

ঘাসফড়িংয়ের সংবহন তন্ত্র **মুক্ত বা ল্যাকুনার (Open/Lacunar System)**। অর্থাৎ রক্ত হৃদযন্ত্র থেকে সংবহন নালীর মাধ্যমে বেরিয়ে সরাসরি উন্মুক্ত দেহগহ্বর বা **হিমোসিলে (Haemocoel)** প্রবাহিত হয় এবং পুনরায় হৃদযন্ত্রে ফিরে আসে।

  • হিমোলিম্ফ (Haemolymph): ঘাসফড়িংয়ের রক্ত বর্ণহীন, কারণ এতে কোনো হিমোগ্লোবিন বা শ্বসন রঞ্জক থাকে না। এটি প্লাজমা এবং হিমোসাইট (Haemocytes) নামক রক্তকণিকা নিয়ে গঠিত। হিমোলিম্ফ খাদ্যসার, হরমোন ও রেচন পদার্থ পরিবহন করে কিন্তু **অক্সিজেন বা CO2 পরিবহন করে না**।
  • হিমোসিলের ৩টি সাইনাস: পৃষ্ঠীয় ডায়াফ্রাম ও অংকীয় ডায়াফ্রাম দ্বারা হিমোসিল ৩টি খণ্ডে বিভক্ত: (i) **পেরিকার্ডিয়াল সাইনাস** (হৃদযন্ত্র ঘিরে), (ii) **পেরিভিসারাল সাইনাস** (পৌষ্টিকনালী ঘিরে), এবং (iii) **পেরিভিউরাল সাইনাস** (স্নায়ুরজ্জু ঘিরে)।
  • হৃদযন্ত্র ও অস্টিয়া: দেহের পৃষ্ঠীয় মধ্যরেখায় অবস্থিত ৭টি প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট নলাকার হৃদযন্ত্র। প্রতিটি প্রকোষ্ঠের দুই পাশে ১ জোড়া করে মোট ৭ জোড়া কপাটিকাযুক্ত **অস্টিয়া (Ostia)** নামক ছিদ্র থাকে। হৃদযন্ত্রের সংকোচন-প্রসারণে **১২ জোড়া অ্যালারি পেশি (Alary muscles)** প্রধান ভূমিকা পালন করে। হূদস্পন্দন হার: মিনিটে ১০০-১১০ বার।

রক্ত সঞ্চালন প্রবাহ চিত্র: সংবহন পথ: পেরিকার্ডিয়াল সাইনাস ➔ অস্টিয়া (কপাটিকা খুলে যায়) ➔ হৃদযন্ত্র ➔ সম্মুখ মহাধমনী ➔ মস্তক সাইনাস ➔ পেরিভিসারাল ও পেরিভিউরাল সাইনাস ➔ পেরিকার্ডিয়াল সাইনাস।

৫. ট্রাকিয়াল শ্বসন তন্ত্র (Tracheal System & Gas Exchange)

ঘাসফড়িংয়ের শ্বসন ক্রিয়া **ট্রাকিয়াল তন্ত্র (Tracheal System)** নামক শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট বায়ুনালী জালের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। রক্ত শ্বসনে অংশ নেয় না বলে ট্রাকিয়া সরাসরি প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়।

  • ১. স্পাইরাকল বা শ্বাসরন্ধ্র (Spiracles): ঘাসফড়িংয়ের দেহে মোট **১০ জোড়া (২০টি)** কপাটিকাযুক্ত শ্বাসছিদ্র বা স্পাইরাকল থাকে। এর মধ্যে **বক্ষীয় অঞ্চলে ২ জোড়া** (মধ্য ও পশ্চাৎবক্ষে) এবং **উদরীয় অঞ্চলে ৮ জোড়া** (১ম থেকে ৮ম খণ্ডকে)। স্পাইরাকলের চারপাশের আংটির মতো স্ক্লেরাইটকে **টেরিট্রিম (Peritreme)** বলে। রোম বা ফিল্টার চুল ধূলিকণা প্রবেশে বাধা দেয়।
  • ২. ট্রাকিয়া ও তিনিডিয়া (Trachea & Taenidia): স্পাইরাকল থেকে সৃষ্ট প্রধান কাইটিনময় বায়ুনালী। ট্রাকিয়ার প্রাচীর ৩টি স্তরে গঠিত: ক্যুটিকেল (ইন্টিমা), এপিথেলিয়াম ও বেসমেন্ট মেমব্রেন। ট্রাকিয়ার ইন্টিমা স্তরটি স্থান স্থান পেঁচানো আংটির মতো বা স্পাইরাল কাইটিনময় বলয় তৈরি করে, যাকে **তিনিডিয়া (Taenidia)** বলে। তিনিডিয়ার উপস্থিতির কারণে ট্রাকিয়া কখনো চুপসে (Collapse) যায় না।
  • ৩. বায়ুথলি (Air Sacs): ট্রাকিয়া প্রসারিত হয়ে কাইটিনহীন পাতলা বায়ুথলি গঠন করে যা শ্বসনের সময় অতিরিক্ত বায় সঞ্চয় করে।
  • ৪. ট্রাকিওল (Tracheoles): ট্রাকিয়া বারবার বিভক্ত হয়ে ট্রাকিওল কোষে পৌঁছায়। ট্রাকিওল কোষ থেকে উৎপন্ন ০.২-১ মিমি ব্যাসযুক্ত অতি সূক্ষ্ম কাইটিন ও তিনিডিয়ামবিহীন নালিকাকে **ট্রাকিওল (Tracheoles)** বলে। ট্রাকিওল রসে সরাসরি অক্সিজেন দ্রবীভূত হয় এবং কোষের সাথে গ্যাসীয় বিনিময় ঘটায়।

৬. মালপিজিয়ান নালিকাভিত্তিক রেচন তন্ত্র (Excretory System)

১৬৬৯ সালে বিজ্ঞানী মার্সেলো মালপিজি পতঙ্গের রেচন অঙ্গ আবিষ্কার করেন। ঘাসফড়িংয়ের প্রধান রেচন অঙ্গ হলো **মালপিজিয়ান নালিকা (Malpighian Tubules)**।

  • অবস্থান ও সংখ্যা: মেসেনটেরন (মধ্য-পৌষ্টিকনালী) ও প্রোক্টোডিয়ামের (পশ্চাৎ-পৌষ্টিকনালী) সংযোগস্থলে প্রায় **১০০-১৫০টি** হলুদ রঙের সূক্ষ্ম, সুতার মতো নালিকা হিমোসিলে ভাসমান অবস্থায় থাকে।
  • রেচন প্রক্রিয়া: নালিকার দূরবর্তী অংশ উন্মুক্ত এবং হিমোলিম্ফ থেকে পটাশিয়াম ইউরেট (Potassium urate), পানি ও CO2 শোষণ করে। নালিকার ভেতরের প্রক্ষালিত মাইক্রোভিলাই দ্বারা পটাশিয়াম ইউরেট রূপান্তরিত হয়ে **ইউরিক এসিড (Uric acid)** এবং পটাশিয়াম বাইকার্বনেটে পরিণত হয়। ইউরিক এসিড দ্রবণ প্রোক্টোডিয়ামের রেকটামে পৌঁছালে রেকটাল প্যাপিলা অতিরিক্ত পানি ও লবণ পুনর্শোষণ করে। ফলে অদ্রবণীয় কঠিন ইউরিক এসিড স্ফটিক হিসেবে মলের সাথে বাইরে নিষ্ক্রান্ত হয়।
  • ইউরিকোটেলিজম: ঘাসফড়িং কঠিন ইউরিক এসিড হিসেবে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য ত্যাগ করে বলে এদের **ইউরিকোটেলিক (Uricotelic)** প্রাণী বলা হয়।
  • অতিরিক্ত রেচন অঙ্গ: ইউরেট কোষ (Urate cells), নেফ্রোসাইট (Nephrocytes), মেদপুঞ্জ (Fat bodies) এবং কিউটিকল।

৭. স্নায়ুতন্ত্র ও পুঞ্জাক্ষির ওমাটিডিয়াম (Nervous System & Ommatidium)

ঘাসফড়িংয়ের স্নায়ুতন্ত্র অত্যন্ত উন্নত ও সুসংগঠিত। এটি প্রধানত ৩টি ভাগে বিভক্ত: (ক) কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র, (খ) প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র এবং (গ) সংবেদী বা স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র।

  • কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র: মস্তিষ্ক (Supra-oesophageal ganglion - প্রোটোব্রেন, ডিউটোব্রেন ও ট্রাইটোব্রেন), সাব-এসোফ্যাজিয়াল গ্যাংগ্লিয়ন এবং অংকীয় দ্বৈত স্নায়ুরজ্জু (Ventral Nerve Cord - ৩টি বক্ষীয় ও ৫টি উদরীয় গ্যাংগ্লিয়ন সহ) নিয়ে গঠিত।

পুঞ্জাক্ষি ও ওমাটিডিয়ামের সূক্ষ্ম গঠন (Structure of Ommatidium):

ঘাসফড়িংয়ের মস্তকের দুই পাশে ১ জোড়া উত্তল, রিম শেপড **পুঞ্জাক্ষি (Compound Eye)** থাকে। প্রতিটি পুঞ্জাক্ষি প্রায় **২,০০০টি (দুই হাজার)** দর্শন একক বা **ওমাটিডিয়াম (Ommatidium)** নিয়ে গঠিত।

একটি আদর্শ ওমাটিডিয়াম ১০টি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত:

  • ১. কর্নিয়া (Cornea): ওমাটিডিয়ামের বাইরের স্বচ্ছ, উত্তল কাইটিনময় আবরণী যা লেন্সে ন্যায় কাজ করে।
  • ২. কর্নিয়াজেন কোষ (Corneagen cells): কর্নিয়ার নিচে অবস্থিত ১ জোড়া ক্ষরণকারী কোষ যা কর্নিয়া সৃষ্টি করে।
  • ৩. ক্রিস্টালাইন কোণ কোষ (Crystalline cone cells): কর্নিয়াজেন কোষের নিচে অবস্থিত ৪টি প্রলম্বিত কোষ।
  • ৪. ক্রিস্টালাইন কোণ (Crystalline cone): কোণ কোষগুলো দ্বারা পরিবৃত্ত স্বচ্ছ, শঙ্কু আকৃতির গঠন যা প্রতিসরণশীল মাধ্যম হিসেবে আলোক রশ্মি র্যাবডোমে পাঠায়।
  • ৫. আইরিস রঞ্জক আবরণী (Iris pigment sheath): ক্রিস্টালাইন কোণকে ঘিরে থাকা কালো রঞ্জকযুক্ত কোষীয় আবরণ। এটি তীব্রতায় সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে আলো প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে।
  • ৬. রেটিনুলার কোষ (Retinular cells): ক্রিস্টালাইন কোণের নিচে বৃত্তাকারে সাজানো ৭-৮টি দীর্ঘাকৃতি সংবেদী কোষ।
  • ৭. র্যাবডোম (Rhabdome): রেটিনুলার কোষ দ্বারা ক্ষরিত মধ্যবর্তী অক্ষীয় শক্ত, স্বচ্ছ ও অনুপ্রস্থভাবে ডোরাকাটা আলোক সংবেদী রড। এতে আলো পতিত হলে প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।
  • ৮. রেটিনাল রঞ্জক আবরণী (Retinal pigment sheath): রেটিনুলার কোষ ও র্যাবডোমকে বেষ্টনকারী কালো রঞ্জক আবরণী যা ওমাটিডিয়ামকে পার্শ্ববর্তী ওমাটিডিয়াম থেকে পৃথক রাখে।
  • ৯. বেসমেন্ট মেমব্রেন (Basement membrane): ওমাটিডিয়ামকে ধরে রাখা ভিত্তি ঝিল্লি।
  • ১০. স্নায়ুতন্তু (Nerve fibers): রেটিনুলার কোষের গোড়া থেকে সৃষ্ট সূক্ষ্ম স্নায়ু সূত্র যা অপটিক স্নায়ুর সাথে যুক্ত হয়।

দর্শন কৌশল: অ্যাপোজিশন বনাম সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব (Mechanism of Vision):

তুলনার বিষয় (Feature)

অ্যাপোজিশন / মোজাইক প্রতিবিম্ব (Apposition)

সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব (Superposition)

১. আলোর তীব্রতা

উজ্জ্বল আলোতে (দিনের বেলা / Bright Light)

মৃদু বা তীব্রতাহীন আলোতে (রাতের বেলা / Dim Light)

২. রঞ্জক আবরণীর অবস্থা

আইরিস ও রেটিনাল রঞ্জক সম্পূর্ণ প্রসারিত থাকে।

রঞ্জক আবরণী সংকুচিত হয়ে গুটিয়ে থাকে।

৩. ওমাটিডিয়ামের অবস্থা

একটি ওমাটিডিয়াম অন্যটি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।

পাশের ওমাটিডিয়ামগুলোর মধ্যে আলো চলাচলের সুযোগ থাকে।

৪. আলোক রশ্মির প্রবেশ

কেবলমাত্র লম্বালম্বিভাবে পতিত সোজা রশ্মি র্যাবডোমে পৌঁছায়।

লম্বালম্বি ও তির্যক (Oblique) উভয় রশ্মি র্যাবডোমে পৌঁছায়।

৫. প্রতিবিম্বের ধরন

বস্তুর খণ্ড খণ্ড অংশ মিলে মোজাইকের মতো স্পষ্ট প্রতিবিম্ব।

একটি প্রতিবিম্ব অন্যটির ওপর আপতিত (Overlapping) ঝাপসা প্রতিবিম্ব।

৬. দৃশ্যের স্পষ্টতা

অত্যন্ত স্পষ্ট, নিখুঁত ও পৃথকীকৃত visual accuracy.

আবছা, ঝাপসা ও সামগ্রিক অবস্থান নির্ধারণী।

৮. প্রজনন, রূপান্তর ও হরমোনীয় নিয়ন্ত্রণ (Reproduction & Metamorphosis)

ক. যৌন দ্বিরূপতা (Sexual Dimorphism):

  • পুরুষ ঘাসফড়িং: আকারে তুলনামূলক ছোট, উদরের ৯ম স্টারনামে ১ জোড়া অ্যানাল স্টাইল (Anal styles) এবং অ্যানাল সারসি থাকে।
  • স্ত্রী ঘাসফড়িং: আকারে বড়, উদরের ৯ম ও ১০ম খণ্ডকের অংকীয় দেশে ডিম পাড়ার বিশেষ অঙ্গ **ওভিপোজিটর (Ovipositor)** থাকে। অ্যানাল স্টাইল থাকে না।

খ. অসম্পূর্ণ রূপান্তর (Hemimetabolous Metamorphosis):

ঘাসফড়িংয়ের রূপান্তর **অসম্পূর্ণ বা হেমিমেটাবোলাস (Hemimetabolous)** প্রকৃতির। কারণ এদের শিশু দশা দেখতে প্রায় পূর্ণাঙ্গের মতো এবং রূপান্তরে কোনো সুপ্ত蛹 বা পিউপা (Pupa) দশা থাকে না।

ধাপসমূহ: ডিম (Egg) ➔ নিম্ফ (Nymph) ➔ পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িং (Imago)।

  • নিম্ফ দশা: ডিম ফুটে বের হওয়া ডানা এবং জননাঙ্গহীন ঘাসফড়িংয়ের শিশু দশাকে **নিম্ফ (Nymph)** বলে।
  • একডাইসিস: নিম্ফের দেহত্বক বা বহিরাবরণী কাইটিনযুক্ত হওয়ায় তা বাড়ে না। ফলে নিম্ফ নির্দিষ্ট সময় পর পর পুরানো কাইটিন ত্ব ত্যাগ করে নতুন ত্বক লাভ করে। এই প্রক্রিয়াকে **একডাইসিস বা খোলস মোচন (Ecdysis / Molting)** বলে।
  • খোলস মোচনের সংখ্যা: ঘাসফড়িংয়ের নিম্ফ মোট **৫ বার খোলস মোচন** করে পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িংয়ে পরিণত হয়।
  • ইনস্টার (Instar): পরপর দুটি খোলস মোচনের মধ্যবর্তী নিম্ফ দশাকে **ইনস্টার (Instar)** বলে। ঘাসফড়িংয়ে মোট ৫টি ইনস্টার দশা দেখা যায়।

গ. রূপান্তরে হরমোনীয় নিয়ন্ত্রণ (Hormonal Regulation):

  • ১. প্রোটোথোরাসিকোট্রপিক হরমোন (PTTH): মস্তিষ্কের ইন্টারসেরিব্রাল হরমোন ক্ষরণকারী কোষ থেকে ক্ষরিত হয়। এটি প্রোটোথোরাসিক গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে।
  • ২. ইকডাইসন হরমোন (Ecdysone): প্রোটোথোরাসিক গ্রন্থি (Prothoracic gland) থেকে ক্ষরিত হয়। এটি খোলস মোচন (Molting) ত্বরান্বিত করে ও নতুন ত্বক গঠন করে।
  • ৩. জুভেনাইল হরমোন (Juvenile Hormone): মস্তিষ্কের পেছনে অবস্থিত **কর্পোরা অ্যালাটা (Corpora allata)** থেকে ক্ষরিত হয়। এটি নিম্ফের বৈশিষ্ট্য বজায় রাখে। ৫ম ইনস্টারে জুভেনাইল হরমোন ক্ষরণ বন্ধ হয়ে গেলে নিম্ফ পূর্ণাঙ্গে রূপ নেয়।
  • ৪. বার্সিকন হরমোন (Bursicon): নতুন নির্গত কাইটিনময় খোলসকে শক্ত ও রঙিন করতে সাহায্য করে।

৯. বোর্ড ও ভর্তি পরীক্ষার উপযোগী পূর্ণাঙ্গ প্রশ্নব্যাংক (Q&A Bank)

ক. বাছাইকৃত ২০টি গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQs):

১. ঘাসফড়িংয়ের মস্তক গঠনের বৈশিষ্ট্য কোনটি?

ক) প্রোগনেথাস খ) হাইপোগনেথাস গ) ওপিস্তোগনেথাস ঘ) মেটাগনেথাস

💡 উত্তর: খ) হাইপোগনেথাস (মুখছিদ্র নিচের দিকে অবস্থিত)।

২. ঘাসফড়িংয়ের মস্তকে এন্টেনার কয়টি অংশ থাকে?

ক) ২টি খ) ৩টি গ) ৪টি ঘ) ৫টি

💡 উত্তর: খ) ৩টি (স্কেপ, পেডিসেল ও ফ্ল্যাজেলাম)।

৩. টেগমিনা বা ইলাইট্রা বলা হয় ঘাসফড়িংয়ের কোন ডানাকে?

ক) মেটাবক্ষীয় ডানা খ) অগ্রডানা (মেসোবক্ষীয়) গ) পশ্চাৎডানা ঘ) ঝিল্লিযুক্ত ডানা

💡 উত্তর: খ) অগ্রডানা (মেসোবক্ষীয় ডানা শক্ত ও চর্মবৎ)।

৪. ঘাসফড়িংয়ের লাফাানোর পা-কে কী বলা হয়?

ক) Cursorial খ) Fossorial গ) Saltatorial ঘ) Natatorial

💡 উত্তর: গ) Saltatorial leg (পশ্চাৎ ফিমার দীর্ঘ ও শক্তিশালী)।

৫. গিজার্ডের অভ্যন্তরে কয়টি কাইটিনময় দাঁত থাকে?

ক) ৪টি খ) ৬টি গ) ৮টি ঘ) ১২টি

💡 উত্তর: খ) ৬টি।

৬. ঘাসফড়িংয়ের মেসেন্টেরনের গোড়ায় হেপাটিক সিকির সংখ্যা কতটি?

ক) ৬টি খ) ১২টি (৬ জোড়া) গ) ২৪টি ঘ) ৮টি

💡 উত্তর: খ) ১২টি (৬ জোড়া)।

৭. ঘাসফড়িংয়ের রক্তে অক্সিজেন পরিবাহিত হয় না কেন?

ক) রক্ত অনুপস্থিত খ) রক্তে হিমোগ্লোবিন বা শ্বসন রঞ্জক নেই গ) হৃদযন্ত্র নেই ঘ) স্পাইরাকল বন্ধ থাকে

💡 উত্তর: খ) রক্তে হিমোগ্লোবিন বা শ্বসন রঞ্জক নেই।

৮. ঘাসফড়িংয়ের হৃদযন্ত্র প্রকোষ্ঠ সংখ্যা কতটি?

ক) ৫টি খ) ৬টি গ) ৭টি ঘ) ৮টি

💡 উত্তর: গ) ৭টি প্রকোষ্ঠ ও ৭ জোড়া অস্টিয়া।

৯. হৃদযন্ত্রের সংকোচন-প্রসারণে কোন পেশি সাহায্য করে?

ক) স্পিনকটার পেশি খ) অ্যালারি পেশি (১২ জোড়া) গ) রেডিয়াল পেশি ঘ) সার্কুলার পেশি

💡 উত্তর: খ) অ্যালারি পেশি (১২ জোড়া)।

১০. ঘাসফড়িংয়ের দেহে মোট শ্বাসরন্ধ্র বা স্পাইরাকলের সংখ্যা কতটি?

ক) ১০টি খ) ২০টি (১০ জোড়া) গ) ১৬টি ঘ) ৮টি

💡 উত্তর: খ) ২০টি (১০ জোড়া: বক্ষে ২ জোড়া, উদরে ৮ জোড়া)।

১১. ট্রাকিয়ার প্রাচীরে পেঁচানো আংটির মতো কাইটিনময় বলয়কে কী বলে?

ক) ইনটিমা খ) তিনিডিয়া (Taenidia) গ) টেরিট্রিম ঘ) অস্টিয়া

💡 উত্তর: খ) তিনিডিয়া (Taenidia)।

১২. ঘাসফড়িংয়ের প্রধান রেচন অঙ্গ কোনটি?

ক) নেফ্রিডিয়া খ) মালপিজিয়ান নালিকা গ) গ্রিন গ্ল্যান্ড ঘ) কক্সাল গ্ল্যান্ড

💡 উত্তর: খ) মালপিজিয়ান নালিকা (১৬৬৯ সালে মার্সেলো মালপিজি আবিষ্কার করেন)।

১৩. ঘাসফড়িং নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য হিসেবে কোনটি নিষ্কাশন করে?

ক) ইউরিয়া খ) অ্যামোনিয়া গ) ইউরিক এসিড ঘ) ক্রিয়েটিনিন

💡 উত্তর: গ) ইউরিক এসিড (ইউরিকোটেলিক প্রাণী)।

১৪. প্রতিটি পুঞ্জাক্ষিতে ওমাটিডিয়ামের সংখ্যা কত?

ক) ১০০০টি খ) ২০০০টি গ) ৩০০০টি ঘ) ৫০০টি

💡 উত্তর: খ) প্রায় ২০০০টি।

১৫. ওমাটিডিয়ামের লেন্স হিসেবে কাজ করে কোনটি?

ক) কর্নিয়া খ) র্যাবডোম গ) ক্রিস্টালাইন কোণ ঘ) রেটিনুলার কোষ

💡 উত্তর: ক) কর্নিয়া।

১৬. তীব্র আলোতে ওমাটিডিয়ামে কোন প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়?

ক) সুপারপজিশন খ) অ্যাপোজিশন (মোজাইক) গ) উল্টো প্রতিবিম্ব ঘ) ধোঁয়াটে প্রতিবিম্ব

💡 উত্তর: খ) অ্যাপোজিশন বা মোজাইক প্রতিবিম্ব।

১৭. স্ত্রী ঘাসফড়িংয়ের উদরের শেষে ডিম পাড়ার অঙ্গকে কী বলে?

ক) অ্যানাল স্টাইল খ) ওভিপোজিটর গ) সারসি ঘ) টিম্পানাম

💡 উত্তর: খ) ওভিপোজিটর।

১৮. ঘাসফড়িংয়ের নিম্ফ দশা মোট কয়বার খোলস মোচন (Ecdysis) করে?

ক) ৩ বার খ) ৪ বার গ) ৫ বার ঘ) ৬ বার

💡 উত্তর: গ) ৫ বার।

১৯. দুটি খোলস মোচনের মধ্যবর্তী নিম্ফ দশাকে কী বলে?

ক) পিউপা খ) ইনস্টার (Instar) গ) ইমাগো ঘ) লার্ভা

💡 উত্তর: খ) ইনস্টার।

২০. খোলস মোচন বা মল্টিং উদ্দীপিত করে কোন হরমোন?

ক) জুভেনাইল হরমোন খ) ইকডাইসন (Ecdysone) গ) বার্সিকন ঘ) ইনসুলিন

💡 উত্তর: খ) ইকডাইসন হরমোন।

খ. পূর্ণাঙ্গ সৃজনশীল প্রশ্নাবলি ও মডেল উত্তর (CQ Sample Standard):

সৃজনশীল প্রশ্ন ১:

উদ্দীপক: শিক্ষক ক্লাসে পতঙ্গ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত একটি প্রাণীর পরিপাক ও রেচন অঙ্গ নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তিনি বললেন, প্রাণীটির মেসেন্টেরন ও প্রোক্টোডিয়ামের সংযোগস্থলে অসংখ্য হলুদ সুতার মতো অঙ্গ থাকে যা দেহ থেকে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য দূর করে।
ক) তিনিডিয়া কী?
খ) ঘাসফড়িংয়ের রক্তকে হিমোলিম্ফ বলা হয় কেন?
গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত রেচন অঙ্গটির গঠন ও কার্যপদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।
ঘ) উদ্দীপকের প্রাণীর পৌষ্টিকনালীতে গিজার্ড ও হেপাটিক সিকির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

📌 উত্তর নির্দেশিকা ও মূল পয়েন্টসমূহ
উত্তর সংকেত:
ক) ট্রাকিয়ার প্রাচীরে পেঁচানো আংটির মতো কাইটিনময় বলয়কে তিনিডিয়া বলে যা ট্রাকিয়াকে সংকুচিত হতে দেয় না।
খ) ঘাসফড়িংয়ের রক্তে কোনো হিমোগ্লোবিন বা শ্বসন রঞ্জক না থাকায় তা বর্ণহীন এবং এটি উন্মুক্ত হিমোসিলে প্রবাহিত হয়ে দেহাংশের সংগে মিশে থাকে বলে একে হিমোলিম্ফ বলা হয়।
গ) উদ্দীপকের অঙ্গটি মালপিজিয়ান নালিকা। ১০০-১৫০টি ভাসমান নালিকা পটাশিয়াম ইউরেট শোষণ করে ইউরিক এসিড তৈরি করে যা রেকটামে ইউরিক এসিড স্ফটিক হিসেবে নির্গত হয়।
ঘ) গিজার্ড কাইটিনময় ৬টি দাঁত দিয়ে খাদ্য মিহি চূর্ণ করে এবং ছাঁকনযন্ত্র হিসেবে কাজ করে। হেপাটিক সিকির ৬ জোড়া নালী অ্যামাইলেজ, লাইপেজ ও প্রোটিন পরিপাককারী রস ক্ষরণ করে।

সৃজনশীল প্রশ্ন ২:

উদ্দীপক: নবীন দিনের আলোতে একটি ঘাসফড়িং লক্ষ্য করল এবং রাতে মৃদু আলোতে অন্য একটি পতঙ্গের চোখ নিয়ে ভাবল। সে লক্ষ্য করল যে আলো ও অন্ধকারের ওপর ভিত্তি করে এদের চোখে ভিন্ন ধরনের চিত্র বা প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।
ক) ওমাটিডিয়াম কী?
খ) অসম্পূর্ণ রূপান্তর বলতে কী বোঝায়?
গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রজাতিটির পুঞ্জাক্ষির ওমাটিডিয়ামে উজ্জ্বল আলোতে প্রতিবিম্ব গঠনের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো।
ঘ) ঘাসফড়িংয়ের দর্শন কৌশলে রঞ্জক আবরণীর ভূমিকা তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

📌 উত্তর নির্দেশিকা ও মূল পয়েন্টসমূহ
উত্তর সংকেত:
ক) পুঞ্জাক্ষির গঠনগত ও কার্যগত দর্শন একককে ওমাটিডিয়াম বলে।
খ) যে রূপান্তরে সুপ্ত পিউপা দশা থাকে না এবং ডিম ফুটে নিম্ফ দশা হয়ে খোলস মোচনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ রূপ পায় তাকে অসম্পূর্ণ বা হেমিমেটাবোলাস রূপান্তর বলে।
গ) উজ্জ্বল আলোতে আইরিস ও রেটিনাল রঞ্জক সম্পূর্ণ প্রসারিত থাকে। কেবল সোজা লম্ব রশ্মি র্যাবডোমে পৌঁছে অ্যাপোজিশন/মোজাইক স্পষ্ট খণ্ড খণ্ড প্রতিবিম্ব গঠন করে।
ঘ) তীব্র আলোতে রঞ্জক প্রসারিত হয়ে প্রতিটি ওমাটিডিয়ামকে পৃথক রেখে মোজাইক প্রতিবিম্ব গঠনে এবং মৃদু আলোতে সংকুচিত হয়ে তির্যক আলো প্রবেশের সুযোগ দিয়ে সুপারপজিশন ঝাপসা প্রতিবিম্ব গঠনে রঞ্জক আবরণী মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।