§ যোগাযোগ (Communication):
নির্ভরযোগ্যভাবে তথ্যের আদান প্রদানকে বলা হয় যোগাযোগ এবং যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ পরস্পরের সাথে দ্রুতগতিতে যোগাযোগ করতে পারে, তাকে যোগাযোগ প্রযুক্তি বলা হয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার যোগাযোগের ক্ষেত্রে অভাবনীয় পরিবর্তন সাধন করেছে, সেই সাথে বিশ্বকে একটি গ্রামে রূপান্তর করেছে। বর্তমানে ঘরে বসেই অফিস করা যায়, মিটিং করা যায়, GPRS পদ্ধতিতে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়, গাড়ির টিকেট কাটা যায়, ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে ভিডিও আদান-প্রদান করা যায়। নিম্মে কয়েকটি জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম উল্লেখ্য করা হলো-
· ইন্টারনেট
· জিপিএস
· ই-মেইল
· টেলিকনফারেন্সিং
· ভিডিও কনফারেন্সিং
· রিজার্ভেশন সিস্টেম
§ কর্মসংস্থান (Emplyment):
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অন্যতম উপাদান হচ্ছে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট। বর্তমানে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘরে বসেই প্রযোজনীয় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন কম্পানিতে চাকুরি করা যায়। নিম্মে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সৃষ্ট কর্মসংস্থানের জনপ্রিয় ক্ষেত্রসমূহ উল্লেখ্য করা হলো-
· আউটসোর্সিং
· ফ্রিল্যান্সিং
· অনলাইনের মাধ্যমে চাকরির সুযোগ
§ শিক্ষা (Education):
শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবদান অনস্বীকার্য। নিম্মে শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির জনপ্রিয় ক্ষেত্রগুলো উল্লেখ্য করা হলো-
· দূরশিক্ষণ
· ই-বুক
· অনলাইন লাইব্রেরি
§ চিকিৎসা (Medical Facilities):
বিশ্বগ্রাম ব্যবস্থায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর চিকিৎসা সেবা বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণা মানুষকে এনে দিয়েছে দীর্ঘ সুস্থ ও সুন্দর জীবন।বিশ্বগ্রাম ধারণায় বর্তমানে চিকিৎসা সেবা প্রদান বা গ্রহনের জন্য কোন ডাক্তার বা রোগীকে এখন আর গ্রাম থেকে শহরে কিংবা এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে হচ্ছে না। একজন চিকিৎসক বিশ্বের যেকোন স্থানে বসেই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সাহায্যে দূরবর্তী অবস্থানের যেকোন রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে পারছে এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সাহায্যে রোগী তা গ্রহণ করতে পারছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সাহায্যে ভিন্ন ভৌগলিক দূরুত্বে অবস্থানরত রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, রোগ নির্ণয় কেন্দ্র, বিশেষায়িত নেটওয়ার্ক ইত্যাদির সমন্বয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়াকে টেলিমেডিসিন বলা হয়।
§ গবেষণা (Research):
বিশ্বগ্রাম ব্যবস্থায় গবেষণা কাজে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিসীম। পূর্বে দেখা যেত, একই বিষয়ের উপর একাধিক বিজ্ঞানী গবেষণা করছেন কিন্তু একজন অন্য জনের খবর জানতেন না। বর্তমান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বিজ্ঞানীরা তাদের চিন্তাধারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারছে। ফলে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে গবেষণা শুরু করলে ইন্টারনেটের সাহায্যে সবাই অবগত হয়। বিশ্বগ্রাম ব্যবস্থায় তথ্য নিয়ে গবেষণার জন্য গবেষককে এক দেশ থেকে অন্য দেশে, বড় কোন গবেষণা কেন্দ্রে বা বড় কোন লাইব্রেরিতে ছুটতে হচ্ছে না। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে ঘরে বসে সহজেই তথ্য সংগ্রহ করা যায়। এখন ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন ল্যাব ব্যবহার করে হাতে-কলমে বিজ্ঞানের বিষয় চর্চা ও গবেষণা করা যায়। এরকম অনলাইন ল্যাবগুলোর মধ্যে go-lab-project.edu, olabs.edu.in প্রভৃতি অন্যতম।
§ অফিস (Office):
বর্তমান বিশ্ব গ্রামে পরিবর্তিত হওয়ায় অফিসের বর্তমান ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন হতে চলেছে। চাকরিজীবীকে বা সেবাগ্রহীতাকে একস্থান থেকে অন্যস্থানে ছুটতে হচ্ছে না। পৃথিবীর যেকোন স্থানে বসেই অফিসের কাজকর্ম করা যায় কিংবা সেবা গ্রহণ করা যায়। অফিসের জন্য প্রয়োজন হচ্ছেনা স্থায়ী ঠিকানার বা কোন অবকাঠামোর। বদলে যাচ্ছে অফিসের ফাইল-পত্র সংরক্ষণ ও দৈনন্দিন কাজ করার পদ্ধতি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে অফিসের ডকুমেন্ট তৈরি ও সংরক্ষন, কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের মধ্যে অভ্যন্তরীন ও বহিঃযোগাযোগ ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ তথা বাস্তবায়ন কার্যক্রম দক্ষতার সাথে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা যায়। এই ধরণের প্রযুক্তি নির্ভর কার্যক্রমকে বলা হয় অফিস অটোমেশন। যে সকল ব্যবস্থা বিশ্বগ্রামের অফিস ব্যবস্থাকে বদলে দিয়েছে-
· কম্পিউটার
· ইন্টারনেট
· ওয়েবসাইট