শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম

DYNAMIC CAREER IT & EDUCATION CARE

শিক্ষা, পরীক্ষা প্রস্তুতি ও বিষয়ভিত্তিক পাঠের নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম
আবেদন ফর্ম
31পাঠক 2মিনিট Biology 1st Paper

সর্বশেষ পোস্ট

20টি

ভাইরাস কাকে বলে? ভাইরাসের পরিচিতি, ইতিহাস ও জড় বৈশিষ্ট্য

HSC 2মিনিট পড়া
ভাইরাস কাকে বলে? ভাইরাসের পরিচিতি, ইতিহাস ও জড় বৈশিষ্ট্য

ভাইরাস (Virus): পরিচিতি, আবিষ্কারের ইতিহাস ও বৈশিষ্ট্য

জীববিজ্ঞানের অন্যতম রহস্যময় উপাদান হলো ভাইরাস (Virus)। জীব ও জড়ের মাঝামাঝি এক অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য নিয়ে এটি গঠিত। ভাইরাসের পরিচিতি, আবিষ্কারের ইতিহাস এবং এর জীব ও জড় বৈশিষ্ট্যের বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হলো।

১. ভাইরাসের পরিচিতি ও ব্যাকগ্রাউন্ড

  • শাব্দিক অর্থ: ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ, যার অর্থ হলো বিষ (Venom বা Poisonous Fluid)

  • সংজ্ঞা: ভাইরাস হলো নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA বা RNA) এবং প্রোটিন দ্বারা গঠিত, অতি-অণুবীক্ষণিক (Sub-microscopic), অকোষীয় এবং বাধ্যতামূলক পরজীবী (Obligate Parasite) সত্তা, যা কেবল উপযুক্ত জীবকোষের ভেতরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে।

২. ভাইরাস আবিষ্কারের ইতিহাস (Timeline)

ভাইরাস আবিষ্কারের ইতিহাস অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। নিচে প্রধান প্রধান মাইলফলকসমূহ উল্লেখ করা হলো:

সালবিজ্ঞানীঅবদান / আবিষ্কার
১৮৮৬অ্যাডলফ মেয়ার (Adolf Mayer)তামাক গাছের পাতা মোজাইকের মতো দাগযুক্ত হওয়া বা তামাকের মোজাইক রোগ প্রথম বর্ণনা করেন।
১৮৯২দিমিত্রি ইভানোভস্কি (Dmitri Ivanovsky)প্রমাণ করেন যে তামাকের রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু ব্যাকটেরিয়া ফিল্টার দিয়েও পার হয়ে যায়। তাঁকে ভাইরাসবিদ্যার জনক (Father of Virology) বলা হয়।
১৮৯৮মার্টিনাস বেইজেরিঙ্ক (Martinus Beijerinck)এই সংক্রামক তরলকে Contagium vivum fluidum (জীবন্ত সংক্রামক তরল) নাম দেন।
১৯৩৫ওয়েন্ডেল স্ট্যানলি (Wendell Stanley)তামাকের মোজাইক ভাইরাসকে (TMV) প্রথম কেলাসিত (Crystallized) করেন। এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৪৬ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান।

৩. ভাইরাসের জড় ও জীবীয় বৈশিষ্ট্য

বিজ্ঞানীরা ভাইরাসকে জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী সেতুবন্ধন (Bridge between Living and Non-living) বলে থাকেন। কারণ এর মধ্যে জড় পদার্থের মতো নিষ্ক্রিয়তা এবং জীবকোষে প্রবেশের পর জীবনের লক্ষণ—দুটোই বিদ্যমান।

⚪ ভাইরাসের জড় বৈশিষ্ট্য (Non-living Properties)

১. অকোষীয় গঠন: এদের নিজস্ব কোনো কোষ, সাইটোপ্লাজম, কোষপর্দা বা কোষীয় অঙ্গাণু নেই।

২. নিষ্ক্রিয়তা: জীবকোষের বাইরে এরা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ও নির্জীব রাসায়নিক কণার মতো আচরণ করে।

৩. কেলাসন: এদেরকে কেলাসিত (Crystallize) করা যায় এবং সাধারণ লবণের মতো বোতলে জমা রাখা যায়।

৪. মেটাবলিজম বা বিপাকের অভাব: এদের নিজস্ব কোনো এনজাইম, শ্বসন প্রক্রিয়া বা শক্তি উৎপাদন ব্যবস্থা নেই।

৫. বৃদ্ধিহীনতা: জীবকোষের বাইরে ভাইরাসের কোনো দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে না।

(ব্লগটিকে সম্পূর্ণ করার জন্য এর সাথে নিচের অংশগুলো যুক্ত করা যেতে পারে:)

🔴 ভাইরাসের জীবীয় বৈশিষ্ট্য (Living Properties)

  • জিনগত বস্তু: এদের দেহে বংশগতির প্রধান উপাদান DNA অথবা RNA থাকে।

  • বংশবৃদ্ধি: এরা কেবল জীবিত পোষক কোষের ভেতরে নিজের প্রতিলিপি (Replication) তৈরি করে বংশবৃদ্ধি করতে পারে।

  • মিউটেশন বা পরিব্যক্তি: এদের জিনগত বস্তুর পরিবর্তন বা মিউটেশন ঘটার ক্ষমতা থাকে।

  • প্রজাতির ধারাবাহিকতা: ভাইরাসের মাধ্যমে তাদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নতুন প্রজন্মে সঞ্চালিত হয়।